ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪৩০

মেয়র লিটনের আধুনিক পরিকল্পনা

রাজশাহী দেশের পরিচ্ছন্ন নগরী

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী

প্রকাশিত: ০০:০০, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩

রাজশাহী দেশের পরিচ্ছন্ন নগরী

রাজশাহী নগরীর বর্জ্য অপসারণের জন্য নির্মিত একটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন

পরিচ্ছন্ন নগর হিসেবে দেশে খ্যাতি পেয়েছে রাজশাহী। বায়ু দূষণমুক্ত শহরের ‘তকমা’ও পেয়েছে রাজশাহী। রাজশাহী নগরীর এ অর্জনের নেপথ্যে রয়েছে সিটি মেয়র এএএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। তার আধুনিক পরিকল্পনার কারণেই ধীরে ধীরে রাজশাহী নগর হয়ে উঠেছে নির্মল বায়ুর শহর হিসেবে।
আগে রাস্তার পাশে পড়ে থাকত গৃহস্থালি বর্জ্য। এখন সেই দিন বদলেছে। প্রতিদিনই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বাসাবাড়িতে গিয়ে বাঁশিতে ফুঁ দেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। বাঁশি পেয়ে গৃহস্থালি বর্জ্য নিয়ে বাইরে বের হন বাসাবাড়ির লোকজন। এরপর এসব বর্জ্য এনে নগরীর সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) এনে ফেলেন তারা। সেখান থেকে আরেক দল কর্মী তা ময়লা ফেলার স্থানে নিয়ে যান। মূলত এ অভিযান পরিচালনা করার কারণেই রাজশাহী হয়ে উঠেছে দেশের অনন্য পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, যেসব এলাকায় এখনও এসটিএস নির্মাণ করা হয়নি, সেগুলোতে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় বর্জ্য এনে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে ভাগাড়ে নেওয়া হয়। ভিআইপি সড়ক ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান থেকে ময়লা অপসারণের জন্য এ নগরে আছে আরেক দল কর্মী। এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই রাজশাহীকে পরিচ্ছন্ন নগরীর মর্যাদা এনে দিয়েছে। আর রাতের বেলা এসব বর্জ্য অপসারণ করা হয়। ফলে সকাল থেকেই নগরী দেখায় ঝকঝকে তকতকে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নগরীর বর্জ্য অপসারণের সঙ্গে ১ হাজার ৪০০ জন কর্মচারী আছেন। শহরে বর্তমানে ১২টি এসটিএস নির্মিত হয়েছে। ৩০টি ওয়ার্ডেই একটি করে এসটিএস নির্মাণ করা হবে। বাকিগুলোর নির্মাণকাজ চলছে। দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
সুশাসন বিশ্লেষক সুব্রত পাল বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে বলা যায়, রাজশাহী দেশের একটি পরিচ্ছন্ন শহর। নগরীর প্রধান এলাকাগুলো সুন্দর। তবে এখনও কিছু অলিগলিতে ময়লা ও নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায়। যারা এগুলো ফেলে রাখেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইন আছে, তা কার্যকর করতে হবে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও একটু সচল করতে হবে।’
রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী সরিৎ দত্তগুপ্ত ‘হেলদি সিটি প্রকল্প’ নামের বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার একটি পাইলট প্রকল্প আনতে সক্ষম হন। শহরের কয়েকটি মহল্লায় ওই প্রকল্পের আওতায় অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বর্জ্য অপসারণের জন্য বাসিন্দাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়, যাতে তারা নিজের বাসার ময়লা একটা পাত্রে গুছিয়ে রাখেন। সিটি করপোরেশনের ভ্যান নিয়ে যাওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা ময়লা ভ্যানের কাছে নিয়ে আসেন। এক বছর পরে সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের জন্য ৩০টি ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি সরিফুল ইসলাম বাবু বলেন, এখন ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে বর্জ্য পরিবহনের ভ্যান আছে। এ জন্য বাসাবাড়ি থেকে টাকা নেওয়া হয় না। সিটি করপোরেশন থেকে কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়। তবে নগরীর কয়েকটি মহল্লা এখনও আগের পদ্ধতিই ধরে রেখেছে। ওই এলাকাগুলোতেও বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ২০০৯ সালে বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া আধুনিক করার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনে নাগরিকদেরও একটা অভ্যাস গড়ে উঠেছে।
কয়েকটি এলাকা বাদে নগরীর অন্য সব এলাকার বাসিন্দারা গাড়ি ছাড়া বাইরে বর্জ্য ফেলেন না। ইতোমধ্যে ১২টি এসটিএস নির্মাণ করা হয়েছে। বাকিগুলো হয়ে গেলে বাইরে থেকে আর কোনো আবর্জনা দেখা যাবে না।