ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

ফরিদপুর থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২৩৬ কিমি এক্সপ্রেসওয়ে

পদ্মা সেতুর পর অপেক্ষা করছে আরেক চমক

প্রকাশিত: ২৩:২০, ২৮ জুন ২০২২

পদ্মা সেতুর পর অপেক্ষা করছে আরেক চমক

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মোচনের পর পরই এবার অপেক্ষা করছে আরেক চমক। তৈরি হচ্ছে ফরিদপুর থেকে বরিশাল হয়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পর্যন্ত ২৩৬ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মতোই চার লেনের এ মহাসড়কের সঙ্গে থাকবে দুই লেনের সার্ভিস রোড। ইতোমধ্যে সড়কের জন্য ৩০২ দশমিক ৭০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় হচ্ছে ১৮শ’ ৬৭ কোটি টাকা। যার কাজও অনেকটা এগিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের টাকায় দেশের সবচেয়ে বড় স্থাপনা পদ্মা সেতু। যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার তিন কোটি মানুষকে যুক্ত করেছে ঢাকাসহ দেশের অন্য অঞ্চলের সঙ্গে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। চার লেনের এ মহাসড়কের দুপাশে গাড়ি চলাচলের জন্য রয়েছে আলাদা লেন। সূত্রমতে, পদ্মা সেতুর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করতে ২০১৫ সালে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। কিন্তু জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতার কারণে তা এতদিনেও বাস্তবায়ন করা যায়নি। পায়রা বন্দর, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ও দক্ষিণাঞ্চলের বাণিজ্যকে মাথায় রেখে এবার চার লেনের সঙ্গে দুই পাশে সার্ভিস লেন যুক্ত করে এই মহাসড়ক হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাদারীপুর অংশের বেশিরভাগ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের মাদারীপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের ল্যান্ডের ডিপিপির মধ্য থেকে আমাদের যে পরিমাণ জমি রয়েছে ইতোমধ্যে তা স্ব-স্ব বিভাগ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রস্তাবনা আকারে দেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এর ডিজাইনের কাজও ঢাকায় চলমান রয়েছে। এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তাগাদা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, সত্তরের দশকের ১২ ফুট চওড়া বরিশাল-ভাঙ্গা সড়ক গত ৫০ বছরে বেড়ে মাত্র ২৪ ফুট হয়েছে। অথচ এই ৫০ বছরে দেশের জনসংখ্যা আড়াইগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যা। পাশাপাশি মহাসড়ক ঘেঁষে অধিকাংশ এলাকায় হাট ও বাজার বসায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর প্রাথমিক কাজও শুরু করে সওজ। প্রকল্প প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার পর ২০১৮ সালে অনুমোদনের জন্য তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় তোলা হয়। ওই বছরের ১১ অক্টোবর ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত ১৯৫ কিলোমিটার ছয় লেন বিশিষ্ট এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের অনুমোদন দেয় সরকার। এতে জমি অধিগ্রহণের জন্য ১৮ হাজার ৬৭ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দও দেয়া হয়। বরিশাল সওজ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প অনুযায়ী, বিপরীতমুখী দুই লেনের দুটি সড়কসহ ধীরগতির স্থানীয় যান চলাচলের জন্য আলাদা দুটি সার্ভিস লেন বা সড়ক করার অনুমোদন দেয় একনেক। যার প্রস্থ হবে ১৭০ ফুট। প্রকল্প প্রস্তাবে ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করতে বলা হয়। কিন্তু ২০২২ সালের জুনেও সেই কাজ শেষ করতে পারেনি সড়ক ও সেতু বিভাগ। ইতোমধ্যে পর পর তিনবার প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত গেছে। বরিশাল সওজের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে মহাসড়কের পাশে থাকা সওজের সম্পত্তিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিস জারির পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনাগুলো লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশের সুবিশাল গাছ বিক্রির জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সূত্রমতে, সড়ক নির্মাণে কতটুকু জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, তা চিহ্নিত করার দায়িত্ব পাওয়া পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ভুলের কারণে এ দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক সম্প্রসারণে তারা ৩০২ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করেছে। পরবর্তীতে সওজের নিজস্ব সার্ভেয়ার দিয়ে জরিপ করে দেখা যায়, এতে এক হাজার ৯১ একর জমি লাগবে। এমন নানা ভুলের কারণে নির্ধারিত সময়ে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করা যায়নি। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এখন দ্রুতগতিতে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিত করার পর তা অধিগ্রহণের ব্যবস্থা নিতে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও বরিশালের জেলা প্রশাসনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পটুয়াখালীতে জমি চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। সেটিও নিরসনের চেষ্টা চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিত করার পর তা অধিগ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে। বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবে। আর এ জন্য বরিশালের মানুষ আজীবন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। তিনি আরও বলেন, আশা করছি এ অঞ্চলে খুব শীঘ্রই ফোরলেনের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। অপরদিকে অতিসম্প্রতি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘পদ্মা সেতু এবং এর আর্থ-সামাজিক প্রভাব’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা অজয় দাশ গুপ্ত বলেছেন, ঢাকা-ভাঙ্গা চার লেনের সড়ক থেকে যখন বরিশালের দুই লেনের সড়কে যানবাহন প্রবেশ করবে তখন গতি কমবে স্বাভাবিকভাবেই। এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব এ অঞ্চলের দুই লেনের সড়ক চারলেনে উন্নীত করা হলে পদ্মা সেতুর সুফল পেতে কোন সমস্যা হবে না।
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২