ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

অর্থনীতি

এবার চিনির রপ্তানি সীমিত করছে ভারত

প্রকাশিত: ১৮:১২, ২৪ মে ২০২২

এবার চিনির রপ্তানি সীমিত করছে ভারত

অনলাইন রিপোর্টার ॥ গত ১৩ মে গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পর এবার অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে গত ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চিনি রপ্তানি সীমিত করার পরিকল্পনা করছে ভারত। মঙ্গলবার দেশটির সরকারি একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, চলতি মৌসুমে চিনির রপ্তানি এক কোটি টনে সীমিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম চিনির উৎপাদনকারী এবং ব্রাজিলের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারকও। গত মার্চে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে চিনি রপ্তানির লাগাম টানার পরিকল্পনা করছে ভারত। ব্রাজিলে চিনির কম উৎপাদন এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো আখভিত্তিক ইথানল উৎপাদন করায় বিশ্বজুড়ে এই খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে ভারত চিনি রপ্তানির পরিমাণ ৮০ লাখ টনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করলেও পরবর্তীতে দেশটির সরকার উৎপাদন বৃদ্ধির আশায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্ববাজারে আরও কিছু চিনি বিক্রি করার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইন্ডিয়ান সুগার মিলস এসোসিয়েশন দেশটিতে এ বছর চিনির উৎপাদন ৩ কোটি ১০ লাখ টন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। পরবর্তীতে এই পূর্বাভাস সংশোধন করে চিনির উৎপাদন ৩ কোটি ৫৫ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে বলে জানায় সংস্থাটি। দেশটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি ২০২১-২২ বিপণন বছরে সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই বিশ্ববাজারে ৮৫ লাখ টন চিনি রপ্তানির চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ইতোমধ্যে চুক্তির প্রায় ৭১ লাখ টন চিনি রপ্তানিও করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির নেতৃস্থানীয় চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বলরামপুর চিনি, ডালমিয়া ভারত সুগার, ধমপুর সুগার মিল, ওয়ারিকেশ সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ এবং শ্রী রেনুকা সুগারসের শেয়ার দাম প্রায় ৮ শতাংশ পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, কারখানাগুলোকে ১ কোটি টন চিনি রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে যৌক্তিকভাবে বিশাল পরিমাণ চিনি বিক্রিতে সহায়তা করবে। মুম্বাইভিত্তিক একজন ডিলার বলেছেন, এক কোটি টনের সীমা মোটামুটি বিশালই। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকার এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ খুশি হবে। এর আগে, গত ১৩ মে দেশীয় বাজারে চাহিদা পূরণ এবং মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরাপ করে ভারত। দিল্লির এই সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় গত ১৩ মে নিষেধাজ্ঞা জারির আগে অথবা তারও আগে গমের যেসব চালান ভারতের শুল্ক দপ্তরের কাছে পরীক্ষার জন্য তুলে দেওয়া হয়েছে এবং নথিভুক্ত হয়েছে, সেসব চালান বিদেশে পাঠানো যাবে জানায় দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।