ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

৩ হাজার এক শ’কোটি টাকার প্রকল্প

শুরুর অপেক্ষায় রামেবি অবকাঠামো উন্নয়ন ॥ জনবল নেয়া হবে

প্রকাশিত: ২২:৪০, ২১ মে ২০২২

শুরুর অপেক্ষায় রামেবি অবকাঠামো উন্নয়ন ॥ জনবল নেয়া হবে

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন শুরু হতে যাচ্ছে শীঘ্রই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়ন করে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন হলেই শুরু হবে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ। এরপর রামেবিতে নিয়োগ হবে অন্তত ৩ হাজার জনবল। এতে কমবে বেকারত্ব। প্রতিষ্ঠানটির আওতাভুক্ত সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থীর লেখাপড়া স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১০ অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১২ মে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়। এরপর ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডাঃ মাসুম হাবিবকে রামেবির প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল যোগদানের পর ২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৪ বছর তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করলেও স্থায়ী রূপ দিতে পারেননি রামেবির। ব্যর্থ হন ডিপিপি প্রণয়নেও। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতবছরের ২৭ মে রামেবি নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডাঃ এজেডএম মোস্তাক হোসেন। করোনাকালে নিয়োগের পর স্বল্প জনবলেই কাজ শুরু করেন তিনি। নজর দেন রামেবির জায়গা চূড়ান্তকরণের দিকে। যোগদানের বছরখানেকের মধ্যেই ডিপিপি প্রণয়ন করে জমা দিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনে। আগামী একনেক সভায় সেটি পাস হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, রামেবি অধিভুক্ত বর্তমানে মেডিক্যাল কলেজ সংখ্যা ১৫টি। আর ৬টি সরকারীসহ মোট নার্সিং কলেজ রয়েছে ৪০টি। রামেবির অধীনে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১ হাজার ৬৫৮। তাদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজন অনেক জনবল। ইতোমধ্যে ১০ জন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রামেবির রেজিস্ট্রার, কলেজ পরিদর্শক এবং অর্থ ও হিসাব দফতরে দুজন করে মোট নিয়োগ পেয়েছেন ৬ জন। এছাড়া পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরে ৩ জন এবং বাকি একজনের নিয়োগ হয়েছে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরে। নিয়োগপ্রাপ্তদের বেশিরভাগই পূর্বে মেডিক্যাল সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ডাঃ আনোয়ারুল কাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান ছিলেন। ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পাওয়া ডাঃ আমিন আহম্মেদ খান ছিলেন রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডাঃ আনোয়ার হাবিব একটি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। আর সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডাঃ আমির হোসেনের সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল। কলেজ পরিদর্শক পদে ডাঃ মোসাদ্দেক হোসেন ছিলেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রক্ত সঞ্চালন বিভাগের প্রধান। ডেপুটি কলেজ পরিদর্শক ডাঃ জোহা মোহাম্মদ মেহের হোসেনের সর্বশেষ কর্মস্থল যশোর মেডিক্যাল কলেজ। জায়গা চূড়ান্তকরণ হলে এ অঞ্চলে বেকার সমস্যা দূরীকরণেও প্রধানমন্ত্রীর এ প্রকল্প আলো ছড়াবে বলে প্রত্যাশা রাজশাহীবাসীর। রামেবি উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম মোস্তাক হোসেন বলেন, আপাতত জায়গা চূড়ান্তকরণই মূল টার্গেট। একনেকে অনুমোদন হলে জায়গা চূড়ান্ত করে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে। পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারলে জনবলও নিয়োগ হবে। ফলে অনেকাংশে দূর হবে এ অঞ্চলের বেকার সমস্যা। রামেবির জনসংযোগ কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। শিক্ষা, গবেষণার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে ১ হাজার ২০০ শয্যার হাসপাতাল। দেশের উত্তরাঞ্চলে মেডিক্যাল শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ বিশ্ববিদ্যালয়। রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুই ধাপে সম্পন্ন হবে প্রকল্প। প্রথম ধাপে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, হাসপাতাল, স্কুল, ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণ। ১ হাজার ২০০ শয্যার হাসপাতালে সেবার পরিসর বাড়বে কয়েক গুণ। বিশেষায়িত ও দূরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখবে এ হাসপাতাল। রাজশাহী মহানগরীতে ৬৮ একর জায়গায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৬৯টি বিভাগের কলেবরে বিস্তৃত হবে এ বিশ্ববিদ্যালয়। রামেবির রেজিস্ট্রার অফিস নির্ধারিত কাজ দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করায় ৮০টি মেডিক্যাল, নার্সিং, ডেন্টাল কলেজ এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে নিতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম মোস্তাক হোসেন বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি চলতি মাসের মধ্যেই প্রকল্পটি অনুমোদন পাবে। অনুমোদন পেলে খুব শীঘ্রই অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পরীক্ষক, পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মীরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট যে হিসাব বিভাগে অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের কারণে তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ হয়েছে। কলেজ পরিদর্শনসংক্রান্ত কাজও হালনাগাদ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেয়া হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের নিয়োগের ফলে কাজে গতিশীলতা এসেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদিত বিধি অনুসরণের পাশাপাশি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত ও বরাদ্দের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়। এমনকি কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ব্যাহত একাডেমিক কার্যক্রমও কাটিয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়’ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিভাগে অভিজ্ঞ ও যোগ্য নেতৃত্বের ফলে আরএমএউ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে প্রায় এক বছর এগিয়ে আছে বলে জানান তিনি। চিকিৎসকের পাশাপাশি দক্ষ নার্স তৈরির জন্য ক্যাম্পাসে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউটও প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানান তিনি। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহী শিক্ষা নগরী। সেই শিক্ষা প্রসারে আরও একটি সফলতা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী মহানগরীর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি)।