ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

আতঙ্কে প্রবাসীরা

নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত শহরে বন্দুক হামলা ॥ নিহত ১০

প্রকাশিত: ২৩:০৩, ১৬ মে ২০২২

নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত শহরে বন্দুক হামলা ॥ নিহত ১০

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাংলাদেশী অধ্যুষিত বাফেলো শহরে বন্দুক হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে বাফেলো সুপার মার্কেটে অজ্ঞাত এক বন্দুকধারী নির্বিচারে গুলি চালালে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন বাংলাদেশী হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।- খবর বিবিসি ও সিএনএনের পুলিশ ১৮ বছর বয়সী পেইটন এস গেন্ড্রন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। বর্ণবাদী বিদ্বেষ থেকে এ হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। নিউইয়র্কের গবর্নর ক্যাথি হোকুল নিজ এলাকায় এ বন্দুক হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘বাফেলো সুপার মার্কেটে গুলির ঘটনা আমি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা স্থানীয় কর্মকর্তাদের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছি। আপনি যদি বাফেলোতে থাকেন, অনুগ্রহ করে এলাকাটি এড়িয়ে চলুন এবং আইন প্রয়োগকারী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।’ শ্বেতাঙ্গ ওই তরুণ স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে বাফেলোর ব্যস্ত এক সুপারমার্কেটে ঢুকে গুলি চালানো শুরু করে। একটি ক্যামেরার মাধ্যমে সে পুরো হত্যাকান্ড অনলাইনে সরাসরি দেখায়। এ ঘটনাকে ‘সহিংস উগ্রবাদী’ কর্মকান্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ‘আমরা একে বিদ্বেষমূলক অপরাধ ও বর্ণবাদ-অনুপ্রাণিত সহিংস উগ্রবাদী ঘটনা উভয় আলোকেই তদন্ত করছি,’ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন এফবিআই বাফেলো কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা স্টিফেন বেলনগিয়া। ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই কৃষ্ণাঙ্গ, বলেছেন বাফেলো পুলিশ কমিশনার জোসেফ গ্রামাগলিয়া। আহত তিনজনই সুপারমার্কেটে কাজ করতেন, তাদের আঘাত প্রাণসংহারী নয়। নিহতদের মধ্যে সুপারমার্কেটটিতে নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কাজ করা অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যও আছেন। নিহত হওয়ার আগে তিনি সন্দেহভাজন হামলাকারীর ওপর গুলি চালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে। সন্দেহভাজন হামলাকারী কয়েক ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে শহরটির কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকায় পৌঁছায় বলে মনে করা হচ্ছে। বন্দুকধারী শক্তিশালী বন্দুক বহন করা ছাড়াও বর্ম ও হেলমেট পরে ছিলেন। শ্বেতাঙ্গ ওই তরুণ পরে অস্ত্র সমর্পণ করলে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে মানুষ হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, পরে আরও কিছু অভিযোগ যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন ইরি কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট এ্যাটর্নি জন ফ্লিন। হামলার সময় দোকানে কাজ করা শনেল হ্যারিস বাফেলো নিউজকে জানান, পেছনের দরজা দিয়ে ভবন থেকে দৌড়ে পালানোর সময় তিনি ৭০টিরও বেশি গুলির শব্দ শুনেছেন। ‘দোকান পরিপূর্ণ ছিল, এটা উইকেন্ড। মনে হচ্ছে যেন দুঃস্বপ্ন,’ বলেছেন তিনি। এদিকে এ ঘটনায় গ্রেফতার পেইটন এস গেন্ড্রন অনলাইনে যে বিদ্বেষপূর্ণ লেখাটি পোস্ট করেছে, তার ১৮০ পৃষ্ঠার পুরোটাই বারবার বোঝানো হয়েছে যে শ্বেতাঙ্গ মার্কিনীরা অন্য বর্ণের মানুষের সংখ্যাধিক্যের কারণে বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে একাধিক ম্যাস শূটিং বা সহিংসতায় জড়িত বন্দুকধারীরা ওই ‘রিপ্লেসমেন্ট থিওরি’ বা ‘প্রতিস্থাপন তত্ত্ব’ নামে পরিচিত বর্ণবাদী ধারণার উল্লেখ করেছেন। ধারণাটি এক সময় কট্টর ডানপন্থী অংশের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল, কিন্তু ক্রমেই এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় চলে আসছে, রাজনীতিকদের কথোপকথন এমনকি জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোতেও এই বর্ণবাদী ধারণা এখন নিয়মিতই আলোচিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। চরমপন্থী এই ধারণাটি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই যুক্তরাষ্ট্র ও এর বাইরে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ইহুদীদের প্রার্থনালয় থেকে একই বছর নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে ৫১ ব্যক্তিকে হত্যার পেছনেও ওই বিশ্বাস কাজ করেছে। বাফেলোর পেইটনের মতো ক্রাইস্টচার্চের খুনীও শরীরে লাগানো ক্যামেরায় ওই হত্যাকান্ডের ভিডিও লাইভস্ট্রিম করেছিলেন। টেক্সাসের এল পাসোতে ২০ জনের বেশি মানুষকে হত্যায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির ৪ পৃষ্ঠার এক ইশতেহারে বর্ণবাদী এই তত্ত্বের প্রসঙ্গ সরাসরি এসেছে। ওই লেখায় অভিযুক্ত তার হামলাকে ‘হিস্প্যানিকদের টেক্সাস দখলে নেয়ার’ প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন, হিস্প্যানিক বা স্প্যানিশ ভাষাভাষী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমেই ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তার আগের বছর পিটসবার্গের ট্রি অব লাইফ সিনাগগে ১১ জনকে হত্যায় অভিযুক্ত বন্দুকধারীও একই বর্ণবাদী ধারণায় বিশ্বাসী, তার দৃষ্টিতে শরণার্থীদের সাহায্য করা একটি ইহুদী সংস্থার সহযোগিতাপ্রাপ্তরা হচ্ছে ‘দখলদার’। বর্ণবাদী এই তত্ত্ব আসে ২০১০ এর দিকে, ফরাসী লেখক রেনোঁ কামুর কাছ থেকে। ‘শ্বেতাঙ্গ বিলুপ্তির আশঙ্কা’ নিয়ে লেখালেখি করে আসা এই লেখকের যুক্তি হচ্ছে, ইউরোপে আসা শরণার্থীদের বেশি সন্তান শ্বেতাঙ্গদের হুমকিতে ফেলছে। কামু অবশ্য শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের সহিংসতা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। তার ধারণার ওপর ভিত্তি করে হওয়া হত্যাকা-ের বিরুদ্ধে সরবও হয়েছেন।