ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলন

মহানন্দায় ভাঙ্গন

প্রকাশিত: ০০:০২, ১৩ মার্চ ২০২২

মহানন্দায় ভাঙ্গন

স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড় ॥ ভারতে উৎপত্তি হয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৮ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে সীমান্ত নদী মহানন্দা। মহানন্দার স্রোতে ভেসে আসা নুড়ি পাথর এবং বালি উত্তোলন করে দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীদের অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে পর্যটন কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা কিছু নান্দনিক স্থাপনা এবং নদীর তীর ভেঙ্গে যাওয়ায় বদলে যাচ্ছিল নদীর গতিপথ। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নদীর তীর সংরক্ষণের স্বার্থে মহানন্দার ৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে পাথর উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত ৮ মার্চ একটি চিঠির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। এতে বেকার হয়ে পড়েছে শ্রমিক ও ব্যবসায়ী। তারা পাথর উত্তোলনের দাবি তুলেছেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনাও বিরাজ করছে। জানা গেছে, মহানন্দার তীরবর্তী এলাকায় পাথর উত্তোলনের ফলে পুরনো ডাকবাংলো ভবন, পিকনিক কর্নার, কেন্দ্রীয় গোরস্তান, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান, তেঁতুলিয়া থানা ভবন, পুরাতন বাজার, শিবমন্দিরসহ প্রায় ৭শ’ একর আবাদী জমি ভেঙ্গে গিয়ে নদীর সঙ্গে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ডাকবাংলো থেকে পুরাতন বাজার পর্যন্ত ৫ কিমি এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১২শ’ কোটি টাকা ব্য য়ে নির্মিত সিসি ব্লক দিয়ে নির্মিত বাঁধটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে। এভাবে অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলন চলতে থাকলে মহানন্দা নদীতে ভাঙ্গন সৃষ্টি হবে। অদূর ভবিষ্যতে মূল শহরও হুমকির মুখে পড়বে। অনদিকে নদী হারিয়ে ফেলছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, মহানন্দা নদীতে অপরিকল্পিতভাবে তীর ঘেঁষে পাথর উত্তোলনের ফলে তীর সংরক্ষণ বাঁধের একাধিক স্থানে ফাটল ধরেছে। কোথাও কোথাও বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে ভেঙ্গে পড়েছে। এই সীমানার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সামাজিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষার জন্য সীমান্ত ঘেঁষে ১৮ কিলোমিটার বহমান মহানন্দা নদীর মাত্র ৫ কিমি এলাকায় পাথর উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি এলাকা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। স্বাধীনতার তীর্থ ভূমি ’৭১-এর মুক্তাঞ্চল তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোসহ পর্যটন নগরী তেঁতুলিয়ার ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে এটি বিবেচনা করে সকলের সঙ্গে কথা বলে এই সীদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।