মঙ্গলবার ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

মধুমতির তীব্র ভাঙ্গনে বিলীন জনপদ

  • স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ দাবি

স্টাফ রিপোর্টর, বাগেরহাট ॥ মোল্লাহাটে মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা বাজার। ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে পাকা সড়ক ও বসতবাড়ি। অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে মধুমতি নদীর গাড়ফা, গিরিশ নগর ও আস্তাইল এলাকার অন্তত ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার তীরবর্তী জনপদ প্রবল ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মোল্লাহাট বাজারের পুরাতন ফেরিঘাটের পশ্চিম পাশে মধুমতি নদী তীরবর্তী পাকা সড়কসহ বেশ কিছু এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে দোকান পাট ও মিল কারখানা। এলাকাবাসী ভাঙ্গন ঠেকাতে বাঁশ/কাঠ দিয়ে চেষ্টা করছেন। তবুও শেষ রক্ষা হচ্ছেনা। দ্রুত এই নদী ভাঙ্গন ঠেকানো না গেলে এ বাজারের অস্তিত্ব রক্ষা করা দুষ্কর হয়ে পড়বে।

গাড়ফা এলাকাবাসী জানান, আমাদের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তা ভেঙ্গে মধুমতি নদীতে চলে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন যাবত হঠাৎ তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে রাতে ঘুম হয়না সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকি এই বুঝি বাড়িঘর সব বিলীন হয়ে গেল। একটু একটু করে ভাঙতে ভাঙতে রাস্তাসহ গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। এভাবে রাত-দিন ভাঙতে থাকলে আমাদের ঘরবাড়ি সব মধুমতি নদীতে বিলীন হবে। দ্রুত ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়া এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেন তারা।

উদয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান এস. কে হায়দার মামুন জানান, কয়েক বছর যাবত মধুমতি নদীতে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে আমরা কাঠ/বাঁশ দিয়ে ভাঙ্গন মোকাবেলায় চেষ্টা চালিয়েছি, তাও ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে মোল্লাহাট শহর রক্ষাবাঁধ, গিরিশনগর, ও আস্তাইল এলাকার বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে যাবে। তাই ভাঙ্গন রোধে দ্রুত নদী শাসন ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জানান, মধুমতি নদীর ৩ হাজার ৪০০ মিটার এলাকা ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ডিপিপি প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত স্থায়ীভাবে নদী শাসন কাজ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে বেশ কয়েকটি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শীর্ষ সংবাদ: