শনিবার ৯ মাঘ ১৪২৮, ২২ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

শ্যামলীর সেই হাসপাতালের মালিক ২ দিনের রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর শ্যামলীর ‘আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল’ মালিক গোলাম সারওয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুই দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। মোহাম্মদপুর থানায় করা ইচ্ছাকৃত অবহেলাজনিত হত্যা মামলায় তাকে পাঁচ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে পুলিশ। সেই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম শুভ্রা চক্রবর্তী গোলাম সারওয়ারকে দুই দিনের রিমান্ডে দেন। এদিকে ওই শিশুটির ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার সাভারের নিজ বাসায় নিয়ে গেছেন তার মা। সেখানেই রাতে তাকে দাফন করার প্রস্তুতি নেয়া হয়।

মা চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে না পারায় এক শিশুকে এনআইসিইউ থেকে বের করে দিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্য হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশুটি মারা যায়। তোলপাড় সৃষ্টি করা এই ঘটনার পর শুক্রবার র‌্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা এবং র‌্যাব-২ ও র‌্যাব-৩-এর যৌথ অভিযানে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে হাসপাতালের পরিচালক গোলাম সারওয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। গোলাম সারওয়ার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেন, তার হাসপাতালে রোগী ভর্তির জন্য বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে দালাল নিয়োগ করা আছে। দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেসরকারী ওই হাসপাতালটিতে গত ২ জানুয়ারি যমজ দুই ভাইকে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকে বিল পরিশোধের জন্য চাপ দেয়া হতে থাকে। না হলে চিকিৎসা দেয়া হবে না বলে জানানো হয়। ভুক্তভোগী পরিবার ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তবে অতিরিক্ত আরও অর্থ দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ টাকা পরিশোধ না করায় চিকিৎসা বন্ধ রাখা হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা না পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যমজ সন্তানকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়।

গত ৩১ ডিসেম্বর ঠা-াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টে ভোগা ছয় মাসবয়সী যমজ দুই শিশু আহমেদ ও আব্দুল্লাহকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন মা আয়েশা বেগম। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় শিশু দুটিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়ার কথা বলেন সোহরাওয়ার্দীর চিকিৎসকরা। তখন দালালের মাধ্যমে ২ জানুয়ারি যমজ দুই সন্তানকে ‘আমার বাংলাদেশ হাসপাতালে’ নেন আয়েশা বেগম। সেখানে তিন দিন আইসিইউতে রেখে চিকিৎসার পর তাকে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা বিলের কথা জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে ওই টাকা জোগাড়ের সাধ্য নেই জানানোর পর আয়েশার সঙ্গে রাগারাগি করেন হাসপাতালের পরিচালকসহ দায়িত্বে থাকা অন্য কর্মকর্তারা। এরপর রোগী দুই শিশুকে বের করে দেয়া হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশু আহমেদ মারা যায়।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার-দেনা করে ৫০ হাজার ৫০০ টাকা জোগাড় করেন তিনি। এ ছাড়া সৌদিপ্রবাসী স্বামীকে ফোন করে বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ১০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠান। সব মিলিয়ে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করেন তিনি। তবে তাতে সন্তুষ্ট হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

্এদিকে র‌্যাব জানতে পেরেছে-গ্রেফতার সারওয়ার র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি দীর্ঘ ২০-২২ বছর ধরে রাজারবাগ, বাসাবো, মুগদা, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলী এলাকায় ছয়টি হাসপাতাল পরিচালনা করে আসছেন। সেগুলো হলো ঢাকা ট্রমা, বাংলাদেশ ট্রমা হাসপাতাল, মমতাজ মেমোরিয়াল ডায়াগনস্টিক, আরাব ডায়াগনস্টিক, মোহাম্মদিয়া মেডিক্যাল সার্ভিসেস ও আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল। এর মধ্যে আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল বাদে সবই বন্ধ করেছেন নানা অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর। প্রায় এক বছর ধরে শ্যামলীতে আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল খুলে পুনরায় ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আমার বাংলাদেশ হাসপাতালের সঙ্গে দালাল সিন্ডিকেট জড়ান। বিভিন্ন সরকারী হাসপাতাল হতে রোগীদের ফুঁসলিয়ে নিজের হাসপাতালে নিয়ে আসতেন। অনুমোদন পাওয়ার শর্ত না মেনেও কী করে হাসপাতালটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন পেয়েছে সে বিষয়ে র‌্যাব কোন তথ্য পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, বিগত সময়ে যখনই অনিয়ম-প্রতারণা ও রোগী জিম্মির বিষয়টি সামনে এসেছে তখনই তিনি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি বন্ধ করেছেন। এরপর নতুন নামে ফের আরেকটি প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। তিনি যখন অনুমোদন পান তখন হয়তো সেই ধরনের শর্তপূরণের বিষয়টি তিনি ইন্সপেকশনে দেখিয়েছেন। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা অভিযানের সময় ছিলেন, তারাও নিশ্চয় বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন। আমরা বিশদ জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি জানার চেষ্টা করব অবহেলাজনিত মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। যেহেতু জোরপূর্বক নির্যাতন করে বের করে দেয়ায় যমজ এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে হত্যার অভিযোগ আনা হবে কিনা জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি দেখবেন। যেহেতু এখানে পোস্টমর্টেমের বিষয় আছে। মামলায় ভুক্তভোগী মাও অভিযোগ করেছেন যে, তাকেসহ যমজ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তদন্তেও ময়নাতদন্তে তা উঠে আসলে অবশ্যই হত্যার বিষয়টিও অভিযোগপত্রে আসবে।

শীর্ষ সংবাদ:
সাকিবের হাসিতে শুরু বিপিএল         ফের বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ॥ করোনার লাগাম টানতে পাঁচ জরুরী নির্দেশনা         বাবার সম্পত্তিতে পূর্ণ অধিকার পাবেন হিন্দু নারীরা ॥ ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট         উচ্চারণ বিভ্রাটে...         বাণিজ্যমেলার ভাগ্য নির্ধারণে জরুরী সিদ্ধান্ত কাল         আলোচনায় এলেও আন্দোলনে অনড় শিক্ষার্থীরা         ‘আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়টি ভালো নেই’         করোনা ভাইরাসে আরও ১২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৪৩৪         ‘১৫ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু’         ঢাবির হল খোলা, ক্লাস চলবে অনলাইনে         করোনারোধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৫ জরুরি নির্দেশনা         আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ স্কুল-কলেজ         ভরা মৌসুমে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি         মাদারীপুরে সেতুর পিলারে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, ২ শিক্ষার্থী নিহত         বিপিএম-পিপিএম পাচ্ছেন পুলিশের ২৩০ সদস্য         অভিনেত্রী শিমু হত্যা : ফরহাদ আসার পরেই খুন করা হয়         দিনাজপুরে মাদক মামলায় নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য গ্রেফতার         শাবিপ্রবিতে গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিল         ঘানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৫শ’ ভবন ধস, নিহত ১৭         করোনায় রেকর্ড সাড়ে ৩৫ লাখ শনাক্ত, মৃত্যু ৯ হাজার