শনিবার ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

‘২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সভামঞ্চে গ্রেনেড ছুড়েছিল ইকবাল’

‘২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সভামঞ্চে গ্রেনেড ছুড়েছিল ইকবাল’

অনলাইন রিপোর্টার ॥ রাজধানীর দিয়াবাড়ি থেকে গ্রেফতার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইকবাল হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর ওরফে সেলিম সেদিন আওয়ামী লীগের সভামঞ্চে গ্রেনেড ছুড়েছিল। হরকাতুল জিহাদের সদস্য সেলিম এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলেও দাবি করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ছদ্মবেশ ধারণ করে ইকবাল দেশে-বিদেশে আত্মগোপন করে। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সে একাধিকবার পেশা পরিবর্তন করে। এমনকি বিদেশে থাকা অবস্থায়ও সে নাম পরিবর্তন করেছিল।

রাজধানীর দিয়াবাড়ি থেকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামিকে গ্রেফতারের পর আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিং করে তিনি এ তথ্য জানান।

ইকবালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র‍্যাব ডিজি বলেন, জঙ্গি ইকবালের বাবার নাম আব্দুল মজিদ মোল্লা। তার বাড়ি ঝিনাইদহে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস। স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিল। সে ১৯৯৪ সালে ঝিনাইদহের কেসি কলেজের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত শ্রেণি প্রতিনিধি ছিল বলে জানিয়েছে। ইকবাল ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মজীবী হিসেবে অবস্থান করে। দেশে ফিরে এসে জঙ্গি ইকবাল আইএসডি ফোন এবং অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করে।

তিনি আরও বলেন, ইকবাল দেশে অবস্থানকালে সর্বহারা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে বিরোধ-কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে এবং ২০০১ সালে তার চিন্তা-চেতনায় একটা মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আসে। সে ঝিনাইদহের এক স্থানীয় জঙ্গি সদস্যের মাধ্যমে হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশে যোগদান করে। ২০০৩ সালে সে মুফতি হান্নান ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সান্নিধ্যে আসে এবং জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে থাকে।

র‌্যাব ডিজি বলেন, ২০০৪ সালের আগস্টে মুফতি হান্নানের নির্দেশে ঢাকায় আসে এবং গোপন আস্তানায় অবস্থান করতে থাকে। সেখানে হুজিবি নেতা মুফতি হান্নানসহ অন্যান্যদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করে। সে মুফতি হান্নানের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করত। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিষয়ে সে জানায়- মুফতি হান্নানের নির্দেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। হামলা পরিচালনার জন্য মুফতি হান্নান তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করে ছিল বলে সে উল্লেখ করেছে। হামলার সময় সে মঞ্চকে উদ্দেশ্য করে গ্রেনেড ছোঁড়ে। ঘটনার পর সে ঝিনাইদহে গিয়ে আত্মগোপন করে।

ইকবালকে গ্রেফতারের জন্য র‌্যাব বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় জানিয়ে র‌্যাব ডিজি বলেন, ২০০৮ সালে জঙ্গি ইকবালকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহে তার নিজ বাড়িতে, পরবর্তীতে গাজীপুর, সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আত্মগোপনে থাকাকালে সে (ইকবাল) নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক, রিকশার মেকানিক ইত্যাদি ছদ্মবেশ ধারণ করে ছিল বলে সে জানায়।

তিনি আরও বলেন, র‌্যাবের অভিযানের কারণে সে ২০০৮ সালে দেশ ত্যাগ করে। প্রবাসে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় প্রথমে সেলিম এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করে। এক পর্যায়ে সে প্রবাসে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে ২০২০ সালের শেষের দিকে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফেরত এসে ইকবাল আত্মগোপনে থেকে সমমনাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করে।

র‌্যাব ডিজি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এবং র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা জঙ্গি ইকবাল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শত নেতা-কর্মী।

এই গ্রেনেড হামলার মামলায় দণ্ডিত ৩৩ আসামি কারাগারে থাকলেও পলাতক ছিলেন ১৬ জন। ইকবাল গ্রেফতার হওয়ায় এখন পলাতক রইলেন ১৫ জন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত।

ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয় আরও ১১ জনের।

তারেক ছাড়া পলাতকরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (যাবজ্জীবন), কুমিল্লার মুরাদনগরের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (যাবজ্জীবন), অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার (দুই বছর কারাদণ্ড), ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ টি এম আমিন আহমদ (দুই বছর কারাদণ্ড), হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ (মৃত্যুদণ্ড), জঙ্গিনেতা মাওলানা তাজউদ্দিন (মৃত্যুদণ্ড), মহিবুল মুত্তাকিন (যাবজ্জীবন), আনিসুল মোরসালিন (যাবজ্জীবন), মোহাম্মদ খলিল (যাবজ্জীবন), মাওলানা লিটন (যাবজ্জীবন), জাহাঙ্গীর আলম বদর (মৃত্যুদণ্ড), মুফতি শফিকুর রহমান (যাবজ্জীবন), মুফতি আব্দুল হাই (যাবজ্জীবন) ও রাতুল আহমেদ বাবু (যাবজ্জীবন)।

শীর্ষ সংবাদ:
এক যুগ আগের আর আজকের বাংলাদেশ এক নয় : প্রধানমন্ত্রী         করোনা : ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৫, নতুন শনাক্ত ৪০৭         ‘শুধু ডিগ্রি দেয়া নয়, শিল্পের উপযোগী জনশক্তি তৈরিতে মনোযোগ জরুরী’         এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যেতে চূড়ান্ত সুপারিশ পেল বাংলাদেশ         “জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির জনক”         শাহবাগে সংঘর্ষ ॥ ৭ জনকে আসামি করে পুলিশের মামলা         পরিবর্তন করা হচ্ছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নাম         ঢাবিতে আজও বিক্ষোভ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি         আন্দামানে ৮১ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে বাধ্য নয় বাংলাদেশ         দেশ গড়ার কাজে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে ॥ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী         দল থেকে ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেয়ার প্রস্তাব নেতাদের         ২০২১ সালের মধ্যে ৫জি চালু হতে যাচ্ছে         খাশোগিকে হত্যার অনুমোদন দেন সৌদি যুবরাজ ॥ যুক্তরাষ্ট্র         ৭৬ সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খাশোগি নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ         খুলনায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত         নাইজেরিয়ায় তিন শতাধিক মেয়ে স্কুল শিক্ষার্থীকে অপহরণ         জাতিসংঘে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন মিয়ানমারের দূত         করোনা টিকায় শিক্ষকদের অগ্রাধিকার         পৌরসভা নির্বাচন ॥ পঞ্চম ধাপের প্রচার শেষ, ভোট রবিবার         ঢাকা বারের সভাপতি আ. লীগের, সম্পাদক বিএনপির