ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

ইতালিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রাণঘাতী বেশি

প্রকাশিত: ১২:০০, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০

ইতালিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রাণঘাতী বেশি

অনলাইন ডেস্ক ॥ ইতালিতে করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে দ্বিতীয়টি আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। প্রথম ঢেউয়ে দেশটিতে যত মানুষ মারা গিয়েছিলেন, দ্বিতীয় ঢেউ ভেঙে দিয়েছে সেই রেকর্ড। নতুন করে লকডাউন দিয়েও সেখানে ঠেকানো যাচ্ছে না ভাইরাসের প্রকোপ। ইতালিতে মহামারির প্রথম ঢেউ শুরু হয়েছিল ফেব্রুয়ারির দিকে। এরপর দ্রুতই তারা হয়ে ওঠে ইউরোপে করোনা সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল। ইতালির আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইএসপিআই) তথ্যমতে, প্রথম পর্যায়ে সংক্রমণের শিখরে থাকা অবস্থায় দেশটিতে গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে করোনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩৫ হাজার ৩৭৬ জন। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই মারা গেছেন অন্তত ৩৫ হাজার ৪১৭ জন। বছরের শেষ মাসে এসে ইতালিতে আবারও হু হু করে বাড়ছে মৃত্যহার। প্রতি ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেখানে প্রাণ হারাচ্ছেন ৬০০ থেকে ৮০০ মানুষ। এর মধ্যে গত ৩ ডিসেম্বর প্রাণহানির সংখ্যা ছিল রেকর্ড ৯৯৩ জন। সংক্রমণের এমন ঊর্ধ্বগতির কারণে ২৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ইতালীয়দের জন্য দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ কী? মিলানের মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক কার্লো আলবার্তো রসি বলেন, ‘কারণ, স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী হয়নি। প্রথম ঢেউয়ের সময় আমরা বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে সতর্ক করেছিলাম। সেগুলো হয় আংশিক কার্যকর হয়েছে, নাহয় দেরিতে।’ তিনি বলেন, ‘উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে অবশ্যই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন। তবে সংক্রমণের উৎস যদি বিচ্ছিন্ন করতে না পারেন, তাহলে কখনোই মূল সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না।’ ইতালি করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার পেছনে চিকিৎসা খাতে ব্যয় কমিয়ে দেওয়াকেও দায়ী করেছেন রসি। তার কথায়, স্থানীয় চিকিৎসকের সংখ্যা একেবারে তলানিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে আর সরকার সেটি বাড়ানোর জন্য কোনও উদ্যোগ নেয়নি। শিগগিরই আরও অনেক চিকিৎসক অবসর নেওয়ার পর সংকট বেড়ে যাবে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি। ইতালিতে করোনায় উচ্চ মৃত্যুহারের পেছনে জনগণের বয়সেরও বড় প্রভাব রয়েছে। দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই ৬৫ বছর বয়োসোর্ধ্ব। এই শ্রেণির মানুষেরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেক বেশি দেখা গেছে। ইতালির জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইএসএস) তথ্যমতে, দেশটিতে এপর্যন্ত করোনায় মারা যাওয়া রোগীদের ৮৬ শতাংশেরই বয়স ৭০ বছরের বেশি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত মার্চে বিশ্বের অন্যতম কড়া লকডাউন দিয়েছিল ইতালি। তারা এর সুফলও পেয়েছিল হাতেনাতে। বসন্তে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে যখন করোনাভাইরাস তাণ্ডব চালাচ্ছিল, তখনও সংক্রমণের হার বেশ কম ছিল ইতালিতে। কিন্তু শীত পড়তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। প্রশ্ন উঠেছে দেশটির করোনা পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ সক্ষমতা নিয়েও। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তারা সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোতে নমুনা পরীক্ষা, কোনও সাহায্য বা সংক্রমণের তথ্য জানাতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ফলে সরকারের ওপর আত্মবিশ্বাস কমে গেছে ইতালীয়দের। মধ্য-অক্টোবরে ইতালির বৃহত্তম চিকিৎসক ইউনিয়ন সতর্ক করেছিল, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আর সম্প্রতি দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াল্টার রিকার্দি স্বীকারই করেছেন, ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা