ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

প্রকাশিত: ০১:০৩, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০

নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

সিনিয়র শিক্ষিকা আরামবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ আরামবাগ, ঢাকা (পর্ব -২০) চতুর্থ অধ্যায়: জীবনীশক্তি সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, প্রীতি ও শুভেচ্ছা রইল। ইতোপূর্বে তোমরা তৃতীয় অধ্যায়: কোষ বিভাজন সম্পর্কে জেনেছো। আজকের আলোচনা: জীবনীশক্তি, জীবনীশক্তিতে ATP এর ভূমিকা জীবনীশক্তি (Bioenergetics): জীব কর্তৃক তার দেহে শক্তি উৎপাদন ও ব্যবহারের মৌলিক কৌশলই হচ্ছে জীবনীশক্তি। জীবন পরিচালনার জন্য জীবকোষে প্রতিনিয়ত হাজারো রকমের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া চলে। এসব বিক্রিয়ার জন্য কমবেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। শক্তির মূল উৎস সূর্য। সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। প্রাণী ও অসবুজ উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে সরাসরি আবদ্ধ করে দৈহিক কাজে ব্যবহার করতে পারে না। জীবন পরিচালনার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয় সে শক্তির জন্য তাদের কোনো না কোনোভাবে সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভর করতে হয়। এ সব বিষয় আলোচনা করাই জীবনীশক্তি বা বায়োএনার্জেটিক্স (Bioenergetics) এর মূল উদ্দেশ্য। এই অধ্যায়ে ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত শব্দের পূর্ণরুপ: ADP = Adenosine Diphosphate (অ্যাডিনোসিন ডাইফসফেট) ATP = Adenosine Triphosphate (অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট) GTP = Guanosine Triphosphate (গুয়ানোসিন ট্রাইফসফেট) NAD = Nicotinamide Adenine Dinucleotide (নিকোটিনামাইড অ্যাডিনিন ডাইনিউক্লিওটাইড) NADP = Nicotinamide Adenine Dinucleotide Phosphate (নিকোটিনামাইড অ্যাডিনিন ডাইনিউক্লিওটাইড ফসফেট) NADPH2 = বিজারিত Nicotinamide Adenine Dinucleotide Phosphate (বিজারিত নিকোটিনামাইড অ্যাডিনিন ডাইনিউক্লিওটাইড ফসফেট) FAD = Flavine Adenine Dinucleotide (ফ্ল্যাভিন অ্যাডিনিন ডাইনিউক্লিওটাইড) FADH2 = বিজারিত Flavine Adenine Dinucleotide (বিজারিত ফ্ল্যাভিন অ্যাডিনিন ডাইনিউক্লিওটাইড) Pi = Inorganic Phosphate (ইনঅরগ্যানিক ফসফেট) 3PGA = Phospho Glysaric Acid (৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড) জীবনীশক্তিতে ATP এর ভূমিকা: সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিনত করে প্রথমে ATP (Adenosine Triphosphate) ও NADPH2 (বিজারিত Nicotinamide Adenine Dinucleotide Phosphate) নামক জৈব যৌগে অবদ্ধ করে। এগুলোই হলো জীবনীশক্তি বা বায়োএনার্জি (Bioenergy)। পরবর্তীতে সালোকসংশ্লেষণের কার্বন বিজারণ পর্যায়ে এ শক্তি শর্করা ও অন্যান্য জৈব যৌগের অণুর রাসায়নিক বন্ধনীতে সঞ্চিত বা আবদ্ধ ঘটে। এসব বিক্রিয়া পরিচালিত হয় বায়োএনার্জি দ্বারা। কিছু শক্তিসমৃদ্ধ যৌগ উচ্চশক্তি ধারণ করে এবং প্রয়োজনে অন্য বিক্রিয়ার শক্তি যোগায় যেমন ATP, GTP (Guanosine Triphosphate) NAD, NADP (Nicotinamide Adenine Dinucleotide Phosphate) FADH2 (weRvwiZ Flavine Adenine Dinucleotide) ইত্যাদি। অঞচ শক্তি জমা করে বাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবারাহ করে। এজন্য ATP-কে ‘জৈবমুদ্রা’ বা ‘শক্তি মুদ্রা’ (Biological coin or Energy coin) বলা হয়। সালোকসংশ্লেষণের সময় ADP (Adenosine Diphosphate) সৌরশক্তি গ্রহণ করে অঞচ তে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়াকে ‘ফটোফসফোরাইলেশন’ (Photophosphory lation) বলা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ATP এর তৃতীয় ফসফেট বন্ধনীতে প্রায় ৭৩০০ ক্যালরি আবদ্ধ হয়। অঞচ হলো মুক্তশক্তির বাহক, এর ফসফেট বন্ধনীর মধ্যে শক্তি আবদ্ধ থাকে। জৈব সংশ্লেষণ, পরিবহন ও অন্যান্য বিপাকীয় কাজে শক্তির প্রয়োজন হলে ATP (Adenosine Triphosphate) ভেঙ্গে ADP (Adenosine Diphosphate) ও Pi (Inorganic Phosphate) তৈরি হয় এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। পরবর্তীতে সালোকসংশ্লেষণ সম্পর্কে আরো বিশদভাবে আলোচনা করা হবে।