রবিবার ৪ মাঘ ১৪২৭, ১৭ জানুয়ারী ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক জনপণ্য বিবেচনা করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক জনপণ্য বিবেচনা করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন রিপোর্টার ॥ মানসম্পন্ন কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের সর্বজনীন ও ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মহামারি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান-এই তিনটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে জরুরি মনোযোগ দিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৩১তম বিশেষ অধিবেশনে প্রাক রেকর্ডকৃত ভাষণে তিনি এই কথা বলেন। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক জনপণ্য বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম)-এর বর্তমান চেয়ার আজারবাইজান এবং জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের এ বিশেষ অধিবেশন ডেকেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছু অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে জরুরি মনোযোগ এবং আরও সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রথমত, আমাদের যথাসময়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ও সাশ্রয়ী মূল্যে সবার জন্য মানসম্মত ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ২০৩০ সালের উন্নয়ন এজেন্ডা সমতার নীতি দ্বারা পরিচালিত এসডিজি অর্জনে সার্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজের মৌলিক ভূমিকার স্বীকতি দেয়। একইভাবে, যখন ভ্যাকসিন প্রাপ্তির কথা আসে, তখন কাউকে পিছনে রাখা সমীচীন হবে না। এটি মহামারি পরাস্ত করতে, জীবন বাঁচাতে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে আমাদের সহায়তা করবে।’

দ্বিতীয়ত, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে গোটা বিশ্বের জন্য একটি ‘বৈশ্বিক জনপণ্য’ বিবেচনা করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডব্লিবউএইচও’র অ্যাক্ট এবং কোভাক্স সুবিধার উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উন্নত দেশগুলোর ট্রিপস চুক্তির আওতায় আইপি রাইটস ওয়েভার ব্যবহার করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের সক্ষমতা রয়েছে এবং সুযোগ পেলে ভ্যাকসিন তৈরি করতে প্রস্তুত রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তৃতীয়ত, কোভিড-১৯-এর পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক সহায়তাসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলোকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। জাতীয় সরকারসমূহের পাশাপাশি জাতিসংঘ, আইএফআই, সুশীল সমাজকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং কোভিড-১৯ মোকাবেলায় একে অপরের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে হবে।’

তিনি বলেন, সারা বিশ্ব এখনও এই মারাত্মক ভাইরাস এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় এক কঠিন সময় পার করছে। এ প্রেক্ষাপটে এ অধিবেশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বত্র নিয়ন্ত্রণে না আনলে কোভিড -১৯কে কখনোই কোনও একটি স্থানে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। আসুন আমরা একটি টেকসই বিশ্বের জন্য ২০৩০ এজেন্ডা সম্পাদনে নতুনভাবে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করি যেখানে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় সমর্থ হবে।’

এই অধিবেশন কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপ, বৈশ্বিক সংহতি এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আশ্বাস দেন, বাংলাদেশ এ বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় সবার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী এপর্যন্ত ১.৪ মিলিয়নেরও বেশি লোক মারা গিয়েছে এবং প্রতিদিন শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ মহামারি অনেক মানুষকে আরও দরিদ্র করে তুলেছে এবং আরও অনেকে ক্রমে দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সব দেশে অপুষ্টি, বৈষম্য ও ক্রমবর্ধমান অসমতা চেপে বসছে এবং শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা, বাণিজ্য ও পর্যটনে প্রবল ধস নামায় মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ মহামারি আমাদের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস গ্রহণের এবং তা আরও উন্নত করতে এ সংকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। দুর্ভাগ্যক্রমে, কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। অনেক দেশই দ্বিতীয় বা তৃতীয় ধাক্কার মুখোমুখি হচ্ছে।’

বাংলাদেশ এ মহামারির কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ আমাদের অর্থনীতি, আমাদের জীবন ও জীবিকা, আমাদের অভিবাসী জনগোষ্ঠিকে ব্যাপক প্রভাবিত করেছে এবং আমাদের কষ্টার্জিত উন্নয়ন সাফল্যকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তবে আমরা শুরু থেকেই এবং কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ করেছি এবং আমাদের অর্থনীতি ও জনগণকে মহামারি থেকে রক্ষায় সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছি। আমার সরকার আমাদের ব্যবসায়, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপর প্রভাব হ্রাস করতে ১৪.১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যা আমাদের জিডিপির ৪.৩ শতাংশের সমান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্চ মাসের প্রথম দিকে ভাইরাস শনাক্তকরণের পর থেকে ২৫ মিলিয়নেরও বেশি লোককে সহায়তা দিতে সামাজিক সুরক্ষা-বেষ্টনীর আওতা সম্প্রসারিত করেছে তার সরকার। তিনি জানান, মহামারিটির দ্বিতীয় ধকল সামাল দিতে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ:
রোহিঙ্গা হিসেবে কোনো বাংলাদেশি সৌদিতে গিয়ে থাকলে পাসপোর্ট দেব : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিজয় মিছিল বের করা যাবে না : ইসি সচিব         ফেব্রুয়ারিতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সম্ভাবনা         যে কোন দুর্যোগে সেনাবাহিনী কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে ॥ সেনা প্রধান         আগামীকাল জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু         ইউক্রেন থেকে গম আমদানির পরিকল্পনা         রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ছে না         করোনা : ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৩, নতুন শনাক্ত ৫৬৯         মহামারীর প্রভাব মোকাবেলায় সরকারের আরও ২৭০০ কোটি টাকা প্রণোদনা         ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টের তালিকায় ৭৮ বাংলাদেশি         শিশুদের জন্য শিক্ষণীয় চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর         দেশে ইন্টার-অপারেবল ট্রানজেকশন প্লাটফর্ম চালু করা হবে         কাকরাইলে মা-ছেলেকে হত্যা ॥ স্বামীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড         একুশে বইমেলার তারিখ নির্ধারণ হয়নি ॥ সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী         এমসি কলেজে গণধর্ষণ মামলার বিচার শুরু         জঙ্গিবাদের শেষ শেকড়টিও উপড়ে ফেলতে চাই ॥ আইজিপি         ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রটোকল জমা দিলো গ্লোব বায়োটেক         শাহজাদপুরে বিষপান করিয়ে ২ মেয়েকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা         ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬         বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় পিতা-পুত্র নিহত