ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৮ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

৮০ হাজার মে. টন ইউরিয়া সার কেনা হচ্ছে

প্রকাশিত: ২৩:০৪, ২৬ নভেম্বর ২০২০

৮০ হাজার মে. টন ইউরিয়া সার কেনা হচ্ছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় ৮০ হাজার মে. টন ইউরিয়া সার ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে সৌদি আরব ও কাতার ৫০ হাজার ও কাফকো থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৪৯ টাকা। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও আধুনিক নাগরিক সুযোগ সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে ‘পল্লী জনপদ’ নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের অনুপস্থিতিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সরকারী সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩২তম বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়। ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ৮টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে আটটি প্রস্তাবেরই অনুমোদন দেয়া হয়। তারমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৩টি, বিদ্যুত বিভাগের ৩টি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে অনলাইনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ৮টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে আটটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (এসএবিআইসি) থেকে ২৫ হাজার মেট্রিকটন বাল্ক গ্র্যানুলার (অপশনাল) ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫৫ কোটি ৬৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪৩৭ টাকা। এছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে কাতার কেমিক্যাল এ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যাল মার্কেটিং এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (মুনতাজা) কিউ, পি জে,এস,সি কাতার থেকে ৬ষ্ঠ লটে ২৫ হাজার মেট্রিক টন। বাল্ক প্রিল্ড অ ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি ৫৮ লাখ ৯১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। অপর এক প্রস্তাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের কাছ থেকে চুক্তিবদ্ধ ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ৮ম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৬৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৫০ টাকা। তিন জেলায় ‘পল্লী জনপদ’ নির্মাণে নীতিগত অনুমোদন ॥ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও আধুনিক নাগরিক সুযোগ সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে ‘পল্লী জনপদ’ নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের তিন জেলায় গোপালগঞ্জ, বগুড়া ও রংপুরে এই জনপদ নির্মাণ করা হবে। আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের আরও বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তিনটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং আধুনিক নাগরিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত সমবায়ভিত্তিক বহুতল ভবন বিশিষ্ট ‘পল্লী জনপদ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্পের মোট সাতটি সাইটের মধ্যে তিনটি সাইটের পূর্ত কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণে বাস্তবায়নের ভূতাপেক্ষ প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রস্তাবের বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের সাতটি স্থানে হওয়ার কথা রয়েছে পল্লী জনপদ। এখন তিনটি জায়গায় কাজ শুরুর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জায়গাগুলো হলো, গোপালগঞ্জ, বগুড়া ও রংপুর। বৈঠকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রস্তাবগুলো হলো- দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত দরিদ্র, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনগোষ্ঠীর নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ‘হাউসহোল্ড সাইলো সরবরাহ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ পারিবারিক সাইলো ক্রয়ের লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এছাড়াও ২০২১ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক (বাংলা ভার্সন) স্তরের বিনামূল্যের বিতরণযোগ্য পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য বাফার হিসেবে ১ হাজার মেট্রিক টন মুদ্রণ কাগজ ক্রয়ের লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের শতভাগ পল্লী বিদ্যুতের আওতায় আনতে বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক তার, বার, এসিএসআর, ১১ কেভি ও ৩৩ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল ক্রয়ের তিনটি পৃথক ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৬৬ হাজার ১৯০ টাকা। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ‘শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর-উঘঊ(ড)-এ-৩১-এর অপর আরও একটি প্রস্তাবে লট ৩ এর আওতায় ১১ কেভি ও ৩৩ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ২০ কোটি ৬০ লাখ ৫৫০টাকা। এই কাজটি পেয়েছেন পলি ক্যাবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। জানুয়ারি-জুন ২০২১ সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাস অয়েল (ডিজেল), জেট এ-১, ফার্নেস অয়েল, মোগ্যাস (অকটেন) ও মেরিন ফুয়েল আমদানির ক্রয় প্রস্তাবের। ২০২১ শিক্ষাবর্ষেও মাধ্যমিক বাংলা ভার্সন স্তরের বিনামূল্যের বিতরণযোগ্য পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য বাফার হিসেবে ১ হাজার মেট্রিকটন মুদ্রণ কাগজ ক্রয়ের লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের নীতিগত প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।