ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

শরীয়তপুরে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ২৬ নভেম্বর ২০২০

শরীয়তপুরে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা, শরীয়তপুর, ২৫ নবেম্বর ॥ ডামুড্যায় এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। এই মামলায় অপর ৯ আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় বিচারক আব্দুস ছালাম খান এই আদেশ প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই আদেশে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো জেলার গোসাইরহাট উপজেলার মধ্য কোদালপুর গ্রামের লুৎফর খবিরের ছেলে মোরশেদ উকিল (৫৬), ডামুড্যা উপজেলার চর ঘরোয়া গ্রামের খোরশেদ মুতাইতের ছেলে আব্দুল হক মুতাইত (৪২) ও দাইমী চরভয়রা গ্রামের মজিদ মুতাইতের ছেলে জাকির হোসেন মুতাইত (৩৩)। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার চরভয়রা উকিলপাড়া গ্রামের খোকন উকিলের স্ত্রী হাওয়া বেগম (৪০) পাশের বাড়িতে মোবাইল চার্জ দিতে যায়। ওই রাতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোরশেদ, আব্দুল হক ও জাকির হোসেনসহ অন্যান্য আসামিরা হাওয়া বেগমকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে পাশের বাড়ির মজিবর চোকদারের দোচালা টিনের ঘরে মরদেহ ফেলে যায়। এই ঘটনায় হাওয়া বেগমের স্বামী খোকন উকিল বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করে। তদন্ত শেষে ডামুড্যা থানা পুলিশ ১২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ওই বছরের ৭ অক্টোবর সকল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করে আদালত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ জনের যাবজ্জীবন স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জানান. হত্যা মামলায় ৫ জনকে যাবজ্জীবন ও তিনজনকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সফিউল আজম এ রায় প্রদান করেন। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামীরারা হলেনÑ উপজেলার সৈয়দটুলা ফকিরপাড়া গ্রামের শফিকুর রহমান খন্দকার (শাফি), মোর্শেদ খন্দকার, মোঃ সাহেদ আলম খন্দকার, আব্দুল হাই, মোবারক। রায়ে এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেনÑ হেলিম মিয়া, আবুল বাদশা, মামুন মিয়া। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে সরাইল উপজেলার সৈয়দটুলা জাহাঙ্গীরপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাড়ির পাশেই আসামিদের হাতে খুন হয় সরাইল উপজেলার সৈয়দটুলার জাহাঙ্গীরপাড়া গ্রামের শওকত আলী। পরে তার ভাই আবদুল বাতেন বাদী হয়ে নয়জনকে আসামি করে সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গাইবান্ধায় ধর্ষকের যাবজ্জীবন নিজস্ব সংবাদদাতা গাইবান্ধা থেকে জানান, গাইবান্ধা নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে বুধবার স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মারুফুল ইসলাম ওরফে মারুফ (২০) নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে। নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুরাদ এ মওলা সোহেল এই রায় প্রদান করেন। জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে গাইবান্ধা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর জেলা শহরের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা ওই ছাত্রী ক্লাস শেষে বাড়ি যাওয়ার সময় ওই এলাকার মজলুর রহমানের ছেলে মারুফুল হক মারুফ তাকে সুকৌশলে অপহরণ করে টাঙ্গাইলে নিয়ে গিয়ে এক বাড়িতে তোলে। সেখানে ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ছাত্রীটির বাবা আবু ছালেহ মোঃ মুসা বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মানিকগঞ্জে ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড নিজস্ব সংবাদদাতা, মানিকগঞ্জ থেকে জানান. সাটুরিয়া উপজেলায় ২৭০ কেজি ভেজাল দুধসহ এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে উপজেলার ফুকুরহাটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভেজাল দুধ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাককে আটক করেন। আব্দুর রাজ্জাক ফুকুরহাটি গ্রামের বিষুরুদ্দিনের পুত্র। সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম জানান, রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে ভেজাল দুধ তৈরি করে ঢাকায় সরবরাহ করে এ খবরে বুধবার ভোর ৫টার দিকে ওই বাড়িতে হাজির হই। সেখানে গিয়ে দেখি পানির সঙ্গে এরারুড ও একটি ইকোজেড কেমিক্যাল দিয়ে দুধ তৈরি করছেন। তখন ৯টি গ্যালন ভেজাল দুধ, ২ কেজি এরারুড পাউডারসহ তাকে আটক করা হয়। দুধ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানায়, প্রতিদিন ঢাকার মহাজনদের চাহিদামতো ৮-৯ মণ দুধ সরবরাহ করি। এক মণ পানির মধ্যে ৫ কেজি ইকোজেড ও ১০০ গ্রাম এরারুড দিলেই দুধ তৈরি হয়ে যায়। এ ব্যবসা শুধু আমি করি না, যারা দুধ ঢাকায় দেয় তারা সবাই করে। বাজার থেকে দুধ কিনতে হয় ৭০-৮০ টাকা কেজি। আর ঢাকার মহাজনরা ৫০ টাকা করে দাম দেয়। ৮০ টাকার দুধ ৫০ টাকায় বিক্রি করতে হয়, তাই ৪০ কেজি দুধে ১৫ কেজি ভেজাল দুধ দিয়ে ঢাকায় পাঠাই।