ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

জঙ্গীদের রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে নির্মূল করতে হবে

প্রকাশিত: ০৯:২৬, ২৭ মে ২০১৯

 জঙ্গীদের রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে নির্মূল করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জঙ্গীদের শুধুমাত্র দমন করাই যথেষ্ট নয়, তাদের রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে নির্মূল করতে হবে বলে মতপ্রকাশ করেছেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল-নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। একইসঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অদূর ভবিষ্যতে এদেশে জঙ্গী ও মৌলবাদী সন্ত্রাসের অন্যতম উৎস হতে পারে এমন আশঙ্কা করেন তিনি। তাই এদের বিশেষ নজরদারি করার আহ্বান জানান তিনি রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশে আইএস-এর নতুন হুমকি ও কার্যক্রম: সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির বলেন, জঙ্গী সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, জঙ্গী ও মৌলবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেসব দেশ যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তারা এটিকে মাফিয়াদের মতো নিছক আইন শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা মনে করছে। যা কি না শক্তি প্রয়োগ করে নির্মূল করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। জঙ্গীদের আদর্শ নির্মূল না করে শুধু মাঠ পর্যায়ে কিছু খুচরা জঙ্গী হত্যা বা গ্রেফতার করে, কিংবা তাদের আস্তানা ধ্বংস করে নিশ্চিন্ত বোধ করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে যাবে। আর এ পর্যন্ত ৫৭ ধারায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা সকলেই লেখক বা ব্লগার। কোন মোল্লা বা ওয়াজকারী একজনও এ ধারায় গ্রেফতার হয়নি। শাহরিয়ার কবির বলেন, জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগীরা জনবিচ্ছিন্ন ও কোণঠাসা হয়ে তাদের বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ভেতরে জিহাদী জজবা সৃষ্টির জন্য বহুমাত্রিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। ২০০৫ সালে জামায়াত-বিএনপির জামানায় আমরা বাংলাদেশের ১২৫টি জঙ্গী মৌলবাদ সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা প্রস্তুত করেছিলাম, যার ভেতর ১৭টি ছিল রোহিঙ্গাদের। ২০১৭ সাল থেকে বিপুল পরিমাণে রোহিঙ্গা শরণার্থীর আগমন ঘটার পর আমরা তদন্ত করে রোহিঙ্গা শিবিরে এ পর্যন্ত ৩৯টি জঙ্গী রোহিঙ্গা সংগঠনের সন্ধান পেয়েছি। সভায় একাত্তরের ঘাতক-দালাল-নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ওয়াজ মাহফিলে যারা বিদ্বেষমূলক কথা বলে তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। ওয়াজ মাহফিল করার আগে এবং মাহফিলে কি বলা হবে তা জানিয়ে প্রশাসনের অনুমতির নেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে যদি কেউ নিযুক্ত থাকেন, তার বিরুদ্ধে প্রত্যন্ত গ্রামে কেউ একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু লিখলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনো এমন অনেক কিছুই আছে যা সরানো প্রয়োজন এবং তাদের বলা উচিত কি ধরনের পোস্ট গ্রহণ করা হবে না।