সোমবার ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

রূপপুর বিদ্যুত প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখবে দুদক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত নির্মাণ প্রকল্পে ভবনের মালামাল ক্রয় সংশ্লিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে গণপূর্ত অধিদফতরের নির্মাণাধীন ছয়টি ভবনের আসবাবপত্র কেনাকাটাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। মঙ্গলবার দুপুরে সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুদক চয়ারম্যান এসব কথা বলেন। এর আগে মঙ্গলবার সকালে চেয়ারম্যান বলেন, সার্বিকভাবে ট্রন্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ভাল কাজ করছে। তারা তাদের গবেষণার মাধ্যমে দুর্নীতির উৎস শনাক্তকরণসহ তা নিরসনে কিছু কাজ করছে। এদিকে রূপপুর প্রকল্পে তিন টাকার বালিশ পাঁচ টাকা হলো কেন? তা বের করতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) থেকে টিম পাঠানো হবে ও তার রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আঃ মান্নান। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান।

রূপপুরের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে একজন অতিরিক্ত সচিব এবং গণপূর্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে দুদক। আমরা বিষয়টি অবজার্ভ করছি। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের অবস্থান শক্ত। কারও দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই। অনুসন্ধান ও তদন্তে আবেগের স্থানও নেই। রূপপুরের দুর্নীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে আসা সব রিপোর্ট যে সত্য তাও নয়।

প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত নির্মাণ প্রকল্পে আসবাবপত্র কেনাকাটা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব বিল পরিশোধ বন্ধ রাখার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এরইমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হবে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে দুদক প্রধান কার্যালয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ও সিএমআই’র জ্যেষ্ঠ গবেষক ইনজে আমুনডেসন এর সঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে তাদের পদ-পদবি বা অন্য কোন পরিচয় কাজে আসছে না। তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদের আজ হোক কাল হোক জবাবদিহি করতেই হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের সীমাবদ্ধতার সক্ষমতায় কিছুটা ঘাটতি হয়তো রয়েছে, তা অতিক্রমের জন্য কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। মতবিনিময়ে তারা বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। দুর্নীতি বিরোধী বেসরকারী সংস্থা টিআইবির ভূমিকা উল্লেখ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, সার্বিকভাবে টিআইবি ভাল কাজ করছে। তারা তাদের গবেষণার মাধ্যমে দুর্নীতির উৎস শনাক্তকরণসহ তা নিরসনে কিছু কাজ করছে।

শীর্ষ সংবাদ: