ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

বন্দীর দুর্ভোগ লাঘবে কারাগারেই হবে ভার্চুয়াল আদালত

প্রকাশিত: ১১:১৩, ২৬ এপ্রিল ২০১৯

বন্দীর দুর্ভোগ লাঘবে কারাগারেই হবে ভার্চুয়াল আদালত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কারাগারকে পূর্ণাঙ্গরূপে সংশোধনাগারে পরিণত করতে তিন মেয়াদে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২১ সাল প্রথম মেয়াদ, ২০৩১ সাল দ্বিতীয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে তিন মেয়াদে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সংশোধনাগার হিসেবে গড়তে আদালতে হাজিরা কমিয়ে বন্দীর কষ্ট লাঘবে কারাভ্যন্তরেই ভার্চুয়াল আদালত গঠন করা, বন্দীর তথ্য সংবলিত ডাটাবেজ তৈরি করা, বন্দীর আচরণ পরিবর্তন করতে কাউন্সেলিং পদ্ধতি চালু করা, বন্দীর উন্নত চিকিৎসায় ডক্টরপুল গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রিজন্স ডাটাবেজ তৈরি, কারেকশনাল সার্ভিসেস এ্যাক্ট প্রবর্তনের কাজ চলছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তফা কামাল পাশা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর উমেশ দত্ত রোডে কারা অধিদফতরে বিভিন্ন মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সাংবাদিকরা সংশোধনাগারে রূপান্তর করতে ও চলমান নানা সমস্যার সঠিক সমাধানে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। কারা কর্তৃপক্ষই এসব মতামত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে আশ্বাস প্রদান করে। কারা মহাপরিদর্শক বলেন, আমরা কারাগারকে প্রকৃতপক্ষে সংশোধনাগারে পরিণত করতে চাই। এজন্য সাংবাদিকসহ সমাজের সকল স্তরের সহযোগিতা চাই। তবে এর আগে আমাদের অবশ্যই অতি দ্রুত বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বন্দীদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। তবে সংশোধনাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠায় আমরা কারেকশনাল সার্ভিসেস এ্যাক্ট প্রণয়নের কাজ করছি। যার কাজ বেশ জোরেশোরেই চলছে। আশা করি দ্রুতই এই এ্যাক্ট প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। বন্দীদের আদালতে যাতায়াতের কষ্ট কমাতে আমরা সরকারের নির্দেশে কারাভ্যন্তরেই ভার্চুয়াল আদালত তৈরির কাজ করছি। এতে অতিসহজে ও দ্রুতই বিচারের কাজ করা সম্ভব হবে। ব্রিগেডিয়ার মোস্তফা কামাল বলেন, বন্দীর সুচিকিৎসা না পাওয়া দীর্ঘ যুগের সমস্যা। এ থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ডক্টরস পুল গঠনের কাজ চলছে। তবে আপাতত বন্দীর চিকিৎসা প্রদানে ১শ’ ৪১ টি পদের বিপরীতে মাত্র ১০ ডাক্তার থাকায় চিকিৎসা প্রদানে অনেক সমস্যা হচ্ছে। আমাদের ৬৮ জেলে মাত্র ১৫ টি এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। প্রায় ৯০ হাজার বন্দীর জন্য তা অত্যন্ত অপ্রতুল। এর ফলে অনেক বন্দী রোগীকে হাসপাতালে নেয়ার আগেই রাস্তায় মরে যান। যা খুবই হৃদয়বিদারক। তিন মেয়াদে সংশোধনাগার প্রতিষ্ঠা করে কারাগারকে এগিয়ে নেয়ার জন্য আমরা ২০২১ সালের মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এরপর ২০৩১ সালের মধ্যে পরবর্তী ১০ বছরে আরেক দফা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে কারাগারকে সম্পূর্ণ পাল্টে দেয়া সম্ভব হবে। আমরা কারাভ্যন্তরে বন্দীর আচরণগত সমস্যা দূর করতে বিশেষ কাউন্সেলিং করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এর মাধ্যমে বন্দীরা অপরাধ করতে অনুৎসাহিত হবেন। কারা মহাপরিদর্শক বলেন, আমরা বন্দীর সকল প্রকার তথ্য ধরে রাখতে প্রিজন্স ডাটাবেজ তৈরি করছি। যার ৪২ ভাগ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ করা হয়েছে। আশা করি, আগামী ৬ মাসের মধ্যেই এর কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। এছাড়া দেশে এই প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের উখিয়াতে ওপেন জেল প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি। জেলটির জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা আনতে কারাগারের সকল টেন্ডারের মধ্যে প্রায় ৯৩ ভাগ কাজ ই- টেন্ডারিংয়ে চলছে। সারাদেশে ৫০ টি মহিলা ব্যারাক নির্মাণ কাজ চলছে। বন্দীকে সকালে রুটি-গুড়ের পরিবর্তে সবজি, রুটি, হালুয়া, খিচুড়ি দেয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বন্দী কর্তৃক উৎপাদিত পণ্যের লাভের শতকরা ৫০ ভাগ এই প্রথমবারের মতো বন্দীদের প্রদান করা হচ্ছে। কারা মহাপরিদর্শক বলেন, কারাগারে প্রায় ২০ হাজার বন্দী মাদক মামলায় আটক রয়েছে। তাই কারাগারে কোনক্রমেই যাতে মাদক ও মোবাইল প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য আমরা কারাগারে মাদক ও মোবাইলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। তাই এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বন্দী বা কারা কর্মকর্তা- কর্মচারীদের কোনক্রমেই ছাড় দেয়া হবে না। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৬৮ কারাগারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৭শ’ ৪৮ টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কারাগারে কারা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোট ৯০ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অভিযান সারাবছরই চলবে। এছাড়া বন্দীর কাছ থেকে ১ কেজি গাঁজা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকা ফাতেমাকে নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশ মানতে বাধ্য। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছেÑ কোনক্রমেই একটানা একজন লোককে একটানা ছয় বছর এক সঙ্গে কাটানো অমানবিক। নির্দিষ্ট সময় পরপর অন্য কাজের লোক দেয়া যেতে পারে। আটক খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, খালেদা জিয়া বা কোন বন্দী যদি নিজের ইচ্ছায় চিকিৎসা গ্রহণ করতে রাজি না হয় তাহলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করার বিধান নেই। আমরা বন্দীর চিকিৎসায় কোন মতামতই পেলাম না অথচ সংবাদপত্রে নিউজ এলো যে, খালেদা জিয়ার শরীরের কোন নার্ভই নাকি খুঁজে পাননি চিকিৎসকরা।