শনিবার ৭ কার্তিক ১৪২৮, ২৩ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

আগুন নেভাতে করণীয়

  • মাজহারুল ইসলাম

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ঘটে গেছে দুটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড। আর এই দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়। ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখ রাত ১০টার পর আগুন লাগে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকায়। কেমিক্যালের গোডাউনে লাগা এই আগুনে নিহত হন ৮১ জন মানুষ। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় চলে যায় ১৪ ঘণ্টারও বেশি। চুড়িহাট্টার ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর আগুন লাগে বনানীর এফ আর টাওয়ারে। সেই আগুনও নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লেগে যায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। তবে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতো আরো কম সময়ে।

আগুন লাগার মূল কারণ অসাবধানতা। অসাবধানতার সঙ্গে যোগ হয় অজ্ঞতা। আগুন লাগার বড় ধরনের উৎসগুলো হচ্ছে জ্বলন্ত চুলা, জ্বলন্ত সিগারেট, জ্বলন্ত ম্যাচের কাঠি, খোলা বাতি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, গরম ময়লা, আবর্জনা ও অন্যান্য দাহ্য বস্তু, ছেলেমেয়েদের আগুন নিয়ে খেলা বা রাসায়নিক বিক্রিয়া ইত্যাদি। এ ছাড়া মেশিনারিজ, আবর্জনায় গ্যাস সৃষ্টি হয়ে, মেশিনের ঘর্ষণ, বজ্রপাত, গ্যাসের সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন ধরণের বিস্ফোরণ, সূর্যরশ্মির প্রতিফলন থেকেও আগুন লেগে যেতে পারে।

আগুন যাতে না লাগে সে জন্য বসতবাড়ি, অফিস, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, কারখানায় অগ্নি প্রতিরোধের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া রান্নার পর চুলা নিভিয়ে ফেলতে হবে। কারণ চুলার আগুন থেকেই বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ড হয়ে থাকে। আর যদি দুর্ঘটনাবশত আগুন লেগে যায় তাহলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসার আগ পর্যন্ত আগুন নেভানোর জন্য নিজেরা চেষ্টা করতে হবে। বাসার বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো মাসে অন্তত একবার করে পরীক্ষা করতে হবে, প্রয়োজন হলে পুরোনো সংযোগ পরিবর্তন করে নিতে হবে।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেয়া যেতে পারে, তবে সম্ভব না হলে আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হবে। শিল্প-কারখানায় প্রচুর পানি ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখতে হবে। সম্ভব হলে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত একজন লোক রাখতে হবে। বড় শিল্প-কারখানায় প্রতি মাসে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় অগ্নি নির্বাপণ মহড়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই বৈদ্যুতিক সংযোগের মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে।

শরীরে বা পরনের কাপড়ে আগুন লাগলে দৌড় না দিয়ে মাটিতে গড়াগড়ি করলে আগুন দ্রুতই নিভে যায়। বাসায় বা অফিসে যেখানেই আগুন লাগুক না কেন, ঘাবড়ে যাবেন না। বরং মাথা ঠান্ডা রেখে কী করতে হবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলুন। প্রতিষ্ঠানের সব জায়গা আবর্জনামুক্ত রাখতে হবে। আগুন যাতে না লাগে তার জন্য প্রতিষ্ঠানের কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বাড়িতে বা অফিসে যদি আগুন লাগে, ফায়ার সার্ভিসের জন্য বসে না থেকে নিজেদের উদ্যোগে লোক অপসারণ করা যেতে পারে। আগুন লাগার পর যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে।

- আগুন লাগলে লিফট ব্যবহার করা যাবে না। যেকোনো সময় লিফট বন্ধ হয়ে বিপদে পড়তে পারেন।

- ছাদে না উঠে সবাইকে নিচের দিকে নামতে হবে।

- নামার সময় জরুরি নির্গমনের পথ ব্যবহার করতে হবে।

- ওপর থেকে নিচে লাফ দেওয়া যাবে না।

- জরুরি অবস্থায় নিরাপত্তা কর্মীদের টর্চ ব্যবহার করতে হবে।

- আগুন যেহেতু ঊর্ধ্বমুখী, তাই প্রথমে যে তলায় আগুন সে তলা এবং পর্যায়ক্রমে ওপরের ও নিচের তলার লোক নামাতে হবে।

- আগুনে আক্রান্ত লোকজন উদ্ধারে অবশ্যই প্রতিবন্ধী, শিশু ও সন্তানসম্ভবা নারীকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এরপর বৃদ্ধ লোক ও মহিলাদের উদ্ধার করতে হবে। তবে প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।

আগুনে পুড়ে গেলে করণীয়-

- আক্রান্ত ব্যক্তিকে এমনভাবে শুইয়ে দিতে হবে, যাতে তার পুড়ে যাওয়া অংশ খোলা থাকে। তারপর জগ বা মগে ঠান্ডা পানি বা বরফ পানি এনে পোড়া জায়গায় ঢালতে হবে, যতক্ষণ না তার জ্বালা-যন্ত্রণা কমে এবং ক্ষতস্থানের গরমভাবও কমে না যায়।

- আক্রান্ত স্থানটি ফুলে যাওয়ার আগে ঘড়ি বেল্ট, আংটি (যদি থাকে), কাপড় খুলে ফেলবেন।

- পুড়ে যাওয়া অংশে যদি কাপড় লেগে থাকে তবে সেটা না টেনে বাকি কাপড় কেটে সরিয়ে ফেলুন।

- পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ বা কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান হালকা করে বেঁধে দিতে হবে।

- যদি মুখে কোথাও পুড়ে যায় তবে পানি দিয়ে ঠান্ডা করতে হবে যতক্ষণ না ক্ষতস্থান ঠান্ডা হয় ও ব্যথা কমে।

- মুখ ঢাকার কোনো প্রয়োজন নেই। পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত কাপড় দিয়ে এমনভাবে মাস্ক তৈরি করতে হবে, যাতে নাক, মুখ ও চোখ খোলা রেখে মুখ ঢাকা যায়।

- পোড়া জায়গা দিয়ে শরীরের প্রয়োজনীয় পদার্থ বের হয়ে যায়, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি শকে চলে যেতে পারে। অর্থাৎ তার রক্তচাপ কমে যায়, হৃদপিণ্ডের স্পন্দন কমে যায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হয়। এ অবস্থায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে

শীর্ষ সংবাদ:
সড়কে শৃঙ্খলা আনাই আমাদের চ্যালেঞ্জ ॥ কাদের         সম্প্রীতি বজায় রাখতে শিশুদের সংস্কৃতিচর্চা অপরিহার্য ॥ তথ্যমন্ত্রী         কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন আজ         মগবাজারে ট্রেন লাইনচ্যুত, যোগাযোগ বিঘ্নিত         করোনায় ১ লাখ ৮০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর শঙ্কা ডব্লিউএইচওর         উন্নয়নের মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জ         জলবায়ু পরিস্থিতি বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ॥ জাতিসংঘ         করোনা ভাইরাসে ১৭ মাসে সর্বনিম্ন ৪ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৩২         পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার কথা ‘স্বীকার করেছেন’ ইকবাল         ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২৩ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে         সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আইনের দাবি দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন বিক্ষোভকারীরা         রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক-অস্ত্র বন্ধে প্রয়োজনে গুলি ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী         সড়কে শৃঙ্খলা আনাই আমাদের চ্যালেঞ্জ ॥ সেতু মন্ত্রী         কোরিয়ার ভিসার জন্য আবেদন শুরু রবিবার         বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলছে মালয়েশিয়া         মুশফিক ও লিটনের প্রতি আস্থা রাখতে বললেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ         রাজধানীর কাওরানবাজার এলাকায় মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত         সিরিয়ার বনে আগুন দেওয়ার দায়ে ২৪ জনের মৃত্যুদণ্ড ১১ জনের যাবজ্জীবন         নেপালে বন্যা, ভূমিধস ॥ মৃত্যু ১০০ জনের বেশী         ঝিনাইদহে ইজিবাইক চালক হত্যার ঘটনায় ৬ জন গ্রেফতার