ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

ঘুরে দাঁড়াতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মিরপুর টেস্টেও আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা

প্রকাশিত: ০৬:৩৭, ৩০ নভেম্বর ২০১৮

মিরপুর টেস্টেও আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা

মিথুন আশরাফ ॥ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে খেলা। আর তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশেরই জেতার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এ স্টেডিয়াম যতই ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ হোক, স্পিনাররা যে শেষ পর্যন্ত তকমা দেখানই। বাংলাদেশ স্পিনাররা যে কতটা শক্তিশালী তা তো চট্টগ্রাম টেস্টেই বোঝা গেছে। স্পিনারদের নৈপুণ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম টেস্টে ৬৪ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়েও গেছে বাংলাদেশ। এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় টেস্টে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করার পালা। পাঁচদিনের সেই মিশন আজই শুরু হচ্ছে। মিরপুর স্টেডিয়াম বলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করার আশায় বুক বাঁধতে পারে বাংলাদেশ। এ স্টেডিয়ামে যে বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সাফল্যে ভাসছে। ২০১৪ সালের শেষদিক থেকেতো এ স্টেডিয়ামে শুধু সাফল্যই কুড়িয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট নতুন দিগন্ত খুঁজে পায়। তার শুরুটা মিরপুরে জিম্বাবুইয়েকে টেস্টে হারানো দিয়েই হয়। যে দলটি একের পর এক ম্যাচ হারতে হারতে অসহ্য অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল। সেই দলটি ঘুরে দাঁড়ায়। এমনভাবে নিজেদের মেলে ধরে শুধুই সাফল্যের জয়গান এখন। জিম্বাবুইয়েকে হারিয়ে সাফল্যের শুরুর পর মিরপুরে সাত টেস্ট খেলে বাংলাদেশ। চার টেস্টই জিতে নেয়। একটি টেস্ট ড্র করে। হারে দুই টেস্টে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কাছে হারে। তবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে হারিয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে ড্র করে। এ স্টেডিয়ামে সর্বশেষ চার টেস্টের তিনটিতেই জয় আছে বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কার কাছে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে হারের বিপরীতে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও সর্বশেষ এ মাসের শুরুর দিকেই জিম্বাবুইয়েকে হারায় বাংলাদেশ। এবার পালা ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ বছর জুলাইয়েই বাংলাদেশকে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করে। নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশকে নাস্তানাবুদ করে। কিন্তু দেশের মাটিতে বাংলাদেশ যে কতটা শক্তিশালী দল তা এবার বুঝল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১২ সালের পর বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই বুঝতেও পারেনি বাংলাদেশ দল টেস্টেও দেশের মাটিতে কতটা উন্নতি করেছে। ছয় বছর পর খেলতে নেমে বুঝল। এবার মিরপুরের কঠিন উইকেটে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ১২ টেস্টে জিতেছে। চার টেস্টই মিরপুরে জয় মিলেছে। কোনভাবে যদি মিরপুর টেস্টে টস জিতে বাংলাদেশ তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তো পাত্তাই পাওয়ার কথা নয়। মিরপুরে টস জিতে আগে বাংলাদেশ ব্যাটিং করা মানেই যে জয় অবধারিত হয়ে গেছে। মিরপুর স্টেডিয়ামে খেলা সর্বশেষ পাঁচ টেস্টের হিসেবতো তাই বলছে। পাঁচ টেস্টের চারটিতে টস জিতেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টসে হেরে টেস্টেও হেরেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টসে জিতে ড্র করেছে। আর ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাট করে ম্যাচও জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে স্কোরটা একটু মজবুত করে নেয়া গেলেই হলো। আবারও জয় বাংলাদেশেরই হয়ে যেতে পারে। মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সবদিক দিয়েই এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশ। আসল লড়াইটা ব্যাটসম্যানদের মধ্যেই হবে। যে দল প্রথম ইনিংসেই ব্যাটিংটা ভাল করতে পারবে, তাদেরই জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। সেই ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশই এগিয়ে থাকছে। ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সৌম্য সরকারের সঙ্গে অভিষেক হতে পারে সাদমান ইসলামের। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে সাদমান পরীক্ষিত। এবার তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও পরীক্ষা দিতে হতে পারে। সৌম্য অভিজ্ঞ। প্রথম টেস্টে সেই অভিজ্ঞতার ঝলক দেখাতে না পারলেও এবার ভাল কিছুর আশা করা যেতেই পারে। এরপর রয়েছেন মুমিনুল হক, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে নিজেদের ব্যাটিংয়েও মেলে ধরা নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামও হাল ধরতে পারেন। মোহাম্মদ মিঠুন অথবা আরিফুল হক যে খেলবেন, ব্যাটসম্যান হিসেবেই আগে খেলবেন। সেই তুলনায় ব্রেথওয়েট, পাওয়েল, হোপ, এ্যামব্রিস, চেস, হেটমায়ার, ডওরিচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে ভরসা। কিন্তু হেটমায়ার ও ডওরিচ ছাড়া যে অন্যরা ফর্মহীনতাতেই ভুগছেন। তা ভোগারই কথা। বাংলাদেশ স্পিনারদের বলগুলো যে বুঝে ওঠার আগেই আউট হয়ে গেছেন। উইকেটে স্পিনারদের জন্য সুবিধা মিলতেই সাকিব, তাইজুল, মিরাজ, নাঈম যে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন তা তো চট্টগ্রাম টেস্টেই বোঝা গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার ওয়ারিক্যান, চেস, বিশুও আতঙ্ক ছড়াতে পারেন। তবে মিরপুর উইকেট যে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের জন্য চেনা উইকেট। যতই বিপজ্জনক রূপ ধারণ করুক, এক-দুইজন নিজেকে ঠিকই মেলে ধরতে সক্ষম। পেস আক্রমণেও বাংলাদেশই এগিয়ে থাকছে। উইকেটে শুরুতে হয়তো পেসারদের জন্য সুবিধা থাকতে পারে। সেই সুযোগে রোচ খানিক আলো ছড়াতে পারেন। কিন্তু এই ম্যাচের আগে এক টেস্ট নিষিদ্ধ হওয়া গ্যাব্রিয়েল আবার নেই। তাতে বাংলাদেশ শিবিরে খানিক স্বস্তিই কাজ করতে পারে। পেসারদের জন্য সুবিধা থাকলে বাংলাদেশের মুস্তাফিজ অথবা খালেদ আহমেদ রয়েছেন। মুস্তাফিজ প্রথম টেস্টে স্পিনারদের দাপটের সামনে চার ওভার বল করার সুযোগ পেয়েছেন। এবার সেই সুযোগ আরও বাড়তে পারে। উইকেট ব্যাটসম্যানদের কথা বললে, বাংলাদেশই ঝলক দেখাতে পারে। উইকেট পেসারনির্ভর হয়ে উঠলে, সেখানেও বাংলাদেশ পেসাররাই জ্বলে উঠতে পারেন। আর বরাবরের মতো স্পিনবান্ধব হয়ে উঠলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা স্পিন জাদুর ঘোরেই শুধু আটকে যাবে। মিরপুরে টেস্টে বর্তমান সময়ে সুখস্মৃতিই শুধু মিলছে। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও তা মিললে হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় টেস্টে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করা গেলেই হয়। তাহলে এ বছর জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার প্রতিশোধটাও নেয়া হয়ে যাবে। আজই পাঁচদিনের সেই মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ।