ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ ॥ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান ধীরেন

প্রকাশিত: ০৪:১৭, ২৪ মে ২০১৮

অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ ॥ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান ধীরেন

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরির জন্য ডাল কাটতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে পঙ্গু হয়েছেন ধীরেন চন্দ্র রায়। তার মেরুদ-ের হাড় ভেঙ্গে গেছে। এখন উঠে দাঁড়াতে পারেন না। হাঁটাচলাও করতে পারেন না। সব সময় শুয়ে থাকতে হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে থাকা ক্ষতচিহ্ন ও ঘা শুকাচ্ছেনা। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ে চার মাস চিকিৎসার পর এখন অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে আছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি পঙ্গু হয়ে শয্যাশায়ী থাকায় চরম কষ্টে দিন কাটছে ৫ সদস্যের ধীরেনের পরিবার। বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে তার ২ সন্তানের লেখাপড়া। রাজারহাট উপজেলার মীরেরবাড়ি গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর ধীরেন। গত বছরের ২০ আগস্ট তার বাড়ির পাশর্^বর্তী পাঙ্গা স্কুল মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চ তৈরি করার প্রয়োজনে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাছের ডাল কাটার জন্য ধীরেনসহ ৫ জনকে নিয়োগ করেন। তাকে বাড়ি থেকে ডেকে আনেন ছ’মিল মালিক সুরুজ্জামান নেটু। ডাল কাটার এক পর্যায়ে গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন ধীরেন। তাকে প্রথমে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তার মেরুদ-ের হাড় ভেঙ্গে যায়। ১৪ দিন ওই হাসপাতালে থাকার পর অর্থাভাবে আর চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়ি ফিরে এখন কবিরাজী চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ধীরেন। এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধীরেনের অবস্থা জেনে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন ৪ লক্ষাধিক টাকা জোগার করে তাকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ে পাঠান। গত ২১ ডিসেম্বর সেখানে ভর্তির পর মেরুদ-ে একটি অস্ত্রোপচার হয়। চার মাস চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ৮ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠানো হয়। ধীরেন জানান, ওই হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ হোসেন তার চিকিৎসা করেছেন। তিনি এক মাস পর আবার চিকিৎসার জন্য যেতে বললেও টাকার অভাবে মাস পেরিয়ে গেলেও যেতে পারছেন না। বর্তমানে তার চিকিৎসা ও পরিবারটি পুরোপুরি সাহায্যনির্ভর হয়ে পড়েছে বলে জানান ধীরেন। ধীরেনের স্ত্রী সুমিত্রা রায় জানান, ৭ শতকের বাড়িভিটার ৩ শতক ও দুটি গরু বিক্রি করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটানো হয়েছে। পরে রাজারহাটের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম মোট ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা অনুদান দেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার কারণে সে টাকাও খরচ হয়ে গেছে। সরকারী হাসপাতালে থাকলেও প্রায় সব ওষুধ কিনতে হয়েছে। আর ওষুধ ও ইনজেকশনগুলো ছিল ব্যয়বহুল। তিনি জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন ধীরেন। কিন্ত আয় বন্ধ হওয়ার পর সংসারে তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ধীরেনের চিকিৎসা করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। একমাত্র মেয়ে ইতি এবার এসএসসি পাস করেছে। সে এখন কলেজে ভর্তি হবে। ছেলে রিপন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। তাদের দু’জনের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সুমিত্রা বলেন, ‘ইউএনও সাহেব গত মাসে সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য দুই হাজার টাকা দিয়েছেন। আর কোন সহায়তা পাচ্ছিনা।’ বৃহস্পতিবার সরেজমিন রাজারহাট উপজেলার মীরেরবাড়ি গ্রামে ধীরেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ধীরেন যথারীতি শয্যাশায়ী। রাত-দিন শুয়ে থাকতে থাকতে কোমরে ঘা হয়েছে। কথা কম বলেন। তাকান ফ্যালফ্যাল করে। ধীরেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের জন্য কাজ করতে গিয়ে আমি আজ পঙ্গু। তার একটু সহানুভূতি পেলে হয়তো আমি উঠে দাঁড়াতে পারতাম।’