বুধবার ২৪ আষাঢ় ১৪২৭, ০৮ জুলাই ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

ঢাবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস

ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্ন দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দাবি অবশেষে পূরণ হতে চলেছে। রাজধানীর অনতিদূরে পূর্বাচলে নতুন শহর প্রকল্পে অবশেষে ঢাবির নামে বরাদ্দ হতে চলেছে ৫২ একর জমি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কয়েকদিনের মধ্যেই হস্তান্তর করা হতে পারে এই জমির দলিল ঢাবি কর্তৃপক্ষের হাতে। অবশ্য বলতেই হয় যে, এই জমির পরিমাণ খুব বেশি নয়Ñ সব রকম সর্বাধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত সর্বাঙ্গ সুন্দর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। তবে আধুনিক বহুতল বিশিষ্ট স্থাপত্য কাঠামো সংবলিত পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস নির্মাণ করা সম্ভব হলে স্থান সঙ্কুলান নিশ্চিত হতে পারে বৈকি। প্রস্তাবিত ঢাবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে সর্বাধুনিক আবাসিক সুবিধাসহ ক্যাম্পাসটি পরিচালিত হবে পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি, সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম। এখানে স্থানান্তরিত হতে পারে ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি ও বিভাগের কার্যক্রমও।

প্রসঙ্গত মনে রাখা বাঞ্ছনীয় যে, ১৯২১ সালে ৬৪০ একর জমি নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে দখলে আছে মাত্র ৩০০ একর জমি। ইতোমধ্যে ঢাবির শিক্ষা পরিধি অনেক বেড়েছে। নতুন নতুন ফ্যাকাল্টি ও বিভাগ ক্রমান্বয়ে বেড়েছে সময় ও চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে। বেড়েছে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকম-লী ও স্টাফের সংখ্যাও। ফলে দিবারাত্রি দুই শিফট চালিয়েও কিছুতেই আর স্থান সঙ্কুলান করা যাচ্ছে না। সত্যি বলতে কি, ঢাবি বর্তমানে ছাত্রাধিক্য ও শিক্ষকম-লীর ভারে ভারাক্রান্ত। আবাসন সঙ্কট প্রকট। ন্যূনতম সুযোগ সুবিধার প্রচ- অভাব। হোস্টেল ও আবাসিক ভবনগুলোর অবস্থা শোচনীয়। প্রসঙ্গত জগন্নাথ হলের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করা যেতে পারে। তদুপরি শিক্ষার্থীদের নানাবিধ সমস্যা এবং তার সমাধানে ক্ষোভ-বিক্ষোভ-ধর্মঘট-ভাংচুরে উত্তাল ও বেসামাল। সেখানে কিছু হলেই এর অনিবার্য প্রভাব গিয়ে পড়ে শাহবাগে, যাতে জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়, রুদ্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। দ্বিতীয় ক্যাম্পাস এর সমাধানে সহায়ক হতে পারে বৈকি।

ঢাবি প্রশাসন যে কতটা দুর্বল, তার প্রমাণ মিলেছে কিছুদিন আগে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে, তড়িঘড়ি করে ৭টি সরকারী কলেজ অধিভুক্ত করা ভুল হয়েছে। তবে ততদিনে জল অনেক ঘোলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে বিস্তর। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রুখে দাঁড়িয়েছে অধিগ্রহণের প্রতিবাদে। মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ৭টি কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে, যাদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যাও কম নয়। এ নিয়ে পুলিশী নির্যাতনে সাধারণ শিক্ষার্থীর টিয়ার গ্যাস শেল নিক্ষেপে অন্ধত্ববরণসহ ঢাবি শিক্ষার্থী কর্তৃক প্রহৃত হওয়ার অভিযোগও আছে। মামলাসহ নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। অবশেষে পরাজয় তথা ব্যর্থ হয়ে ঢাবি কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করেছে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। ৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছে ৭টি কলেজের দুর্ভাগা শিক্ষার্থীদের প্রতি। প্রকৃতপক্ষে এটি ঢাবি কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ব্যর্থতার নজির হয়ে থাকল। অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, পরীক্ষা গ্রহণ, ফল প্রকাশ, প্রশাসন পরিচালনাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে দেখাশোনার জন্য স্বতন্ত্র জনবল ও ব্যবস্থাপনা যে অপরিহার্য, তা ঢাবি কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এ রকম পরিবেশ-পরিস্থিতি কোন অবস্থাতেই প্রত্যাশিত নয়।

একদা প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বিশ্বের খ্যাতনামা হাজারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়ও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বুয়েট, ঢামেকের তো প্রশ্নই ওঠে না। উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণাকে ঘিরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানের ক্রমাবনতি ঘটছে ক্রমশ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তো কথাই নেই। হাতে গোনা কয়েকটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় বাদে অধিকাংশের নিজস্ব ব্যবস্থাসহ মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেন এমনটি হচ্ছে, তা দেখারও কেউ নেই। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সরকারী অনুদানের পরিমাণও নগণ্য। শিক্ষা খাতে বার্ষিক সরকারী বরাদ্দের অধিকাংশই চলে যায় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও অবকাঠামো উন্নয়নে। শিক্ষাক্ষেত্রে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও গবেষকের সংখ্যাও খুব কম। প্রকৃত মেধাবীরা বৃত্তি নিয়ে চলে যায় বাইরে। উচ্চবিত্তের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে থাকে বিদেশে। সুতরাং দেশের অবনতিশীল শিক্ষা এবং তার মান নিয়ে কেউই মাথা ঘামাচ্ছেন নাÑ না সরকার, না সংশ্লিষ্টরা। এই অমানিশার অবসান কবে ঘটবে, কে জানে! নতুন ঢাবি ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে যেন এমনটি না ঘটে, সেটাই প্রত্যাশা।

শীর্ষ সংবাদ:
চিকিৎসায় প্রতারণা ॥ সিলগালা করা হলো রিজেন্ট হাসপাতাল         পিক টাইম কবে ॥ করোনা সংক্রমণ         বান্দরবানে ফের ব্রাশফায়ারে ছয় খুন         বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোই লক্ষ্য         জাবিতে ১২ জুলাই থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু         উত্তরে পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি         বন্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে এক লাখ ইউরো দিচ্ছে ইইউ         ভার্চুয়াল আদালত নিয়ে আজ বিচারপতিদের ফুলকোর্ট সভা         বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত         ঘরে বসেই দেখা যাবে গোয়ালঘর, কেনা যাবে কোরবানির পশু         এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আউশ আবাদ হয়েছে         ড্রেন নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারকারী ইউপি মেম্বার সাসপেন্ড         সারাদেশে ১৫৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা         দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৫৫ জনের, নতুন শনাক্ত ৩০২৭         ওয়ারি লকডাউন আরো কঠোর হবে,এলাকাবাসী ধৈর্য্য ধরুন : মেয়র তাপস         একযুগ পর ট্রেনে কোরবানীর পশু পরিবহন করবে রেলওয়ে : রেলপথমন্ত্রী         ‘করোনা পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’: তথ্যমন্ত্রী         লঞ্চ দুর্ঘটনা : হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হলে ‘হত্যা মামলা’ হবে : নৌপ্রতিমন্ত্রী         বিজিবির ১১৯ মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপন স্থগিত         সংসদের মুলতবি অধিবেশন বসছে বুধবার        
//--BID Records