ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

মন্ত্রিসভায় জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালার খসড়া অনুমোদন

প্রকাশিত: ০৫:৫২, ২০ মার্চ ২০১৮

মন্ত্রিসভায় জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালার খসড়া অনুমোদন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ কাজে ভারতীয় পরামর্শকের সেবা নিতে একটি চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি যুদ্ধকালীন বা সংকটে সব আধাসামরিক বাহিনী ও সহায়ক বাহিনী সশস্ত্র বাহিনীর কর্তৃত্বে অপারেশনাল কমান্ডে থাকবে-এমন বিধান যুক্ত করে জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা-২০১৮ এর খসড়াও অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়াও মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সার (ব্যবস্থাপনা) (সংশোধন) আইন, ২০১৮’, ‘বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮’, ‘বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮’-এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সভায় ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা-২০১৮’-এর খসড়াও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভায় নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুতেও শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) ও ভারতের গ্লোবাল সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার এনার্জি পার্টনারশিপের (জিসিএনইপি) মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিসিএনইপির সঙ্গে বিএইসির চুক্তির খসড়া সম্পর্কে মন্ত্রিসভায় পাঠানো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়িত করছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে রাশিয়ান ফেডারেশন ছাড়াও একই ধরনের টেকনোলজি ব্যবহার করে পারমাণবিক বিদ্যুত উৎপাদনকারী ভারতের পরামর্শক/বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তা গ্রহণ করা আবশ্যক। সারসংক্ষেপে আরও বলা হয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ নিয়োগের শর্তাবলি সংবলিত সংযোজন ভারতীয় দূতাবাস থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে তা চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল গত ৪ ও ৫ জানুয়ারি ভারত সফরে যায়। সেখানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করার পর তা অনুস্বাক্ষর করা হয়। ভেজাল সার বিক্রির শাস্তি বাড়ছে ভেজাল সার বিক্রির শাস্তি বাড়িয়ে ‘সার (ব্যবস্থাপনা) (সংশোধন) আইন ২০১৮’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, আগের আইন অনুযায়ী ভেজাল সার বিক্রিতে ৬ মাসের সশ্রম কারাদ- বা সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দ- ছিল। প্রস্তাবিত আইনে ভেজাল সার বিক্রিতে ২ বছরের সশ্রম কারাদ- বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ের বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে যে আইনটি ছিল তা সীমিত আকারে সংশোধন করা হয়েছিল এবং সেটিকে আরও আপডেট করার জন্য এ সংশোধন আনা হয়েছে। ২০০৬ যে আইন তার মধ্যে সংজ্ঞায় একটি শব্দ যুক্ত করা হয়েছে, তা হল আবশ্যকীয় উদ্ভিদ উপাদান। এই সংযোজনে পুষ্টির বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সংজ্ঞায় মিক্সড ফার্টিলাইজার পরিবর্তন করে সুষম সার করা হয়েছে বা মিক্সড ব্যালেন্স ফার্টিলাইজার করা হয়েছে। এছাড়া খসড়া আইনে জাতীয় সার প্রমিতকরণ কমিটির সদস্য ১৫ জন থেকে বাড়িয়ে ১৭ সদস্য করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন চূড়ান্ত অনুমোদন॥ এছাড়া মন্ত্রিসভায় ‘বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে চলছে। এটার কোন আইন ছিল না, এটিকে আইনে পরিণত করা হয়েছে। বরেন্দ্র এলাকা বলতে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব জেলাকে বোঝাবে। অর্থাৎ বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগ নিয়ে এই বরেন্দ্র এলাকা গঠিত হবে। তবে আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন করে যে কোন এলাকাকে বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন চূড়ান্ত অনুমোদন ॥ এছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সাভারের বিএলআরআই (বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট) ১৯৮৪ সালের একটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে চলছে। সামরিক আমলের অর্ডিন্যান্সগুলো আইনে রূপান্তরের জন্য সুপ্রীমকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। এজন্য এই আইনটি করা হয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ॥ নতুন ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা-২০১৮’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এটি একটি ব্রডবেজ (বিস্তৃত) নীতিমালা। সুনির্দিষ্টভাবে আইনের মতো নয়, নীতিমালা হওয়ায় জেনারালাইজ ফর্মে এটি আনা হয়েছে। এটি বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে দেয়া হয়েছে। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু একটি নীতিমালা দিয়ে গিয়েছেন। সেটার ওপর ভিত্তি করে আরও বিস্তৃতভাবে নতুন নীতিমালাটি করা হয়েছে। নীতিমালা শুরুতে থাকা মুখবন্ধ তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই নীতিমালায় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় সরকারের সাধারণ রূপরেখা বর্ণিত হয়েছে। এর লক্ষ্য জাতীয় অগ্রগণ্যতা, আইনী কাঠামো ও সম্পদের ভিত্তিতে সশস্ত্র বাহিনীর যথাযথ ভূমিকায় গণমতের প্রতিফলন ঘটানো। এই প্রতিরক্ষা নীতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিম-লে দেশের প্রতিরক্ষা পরিবেশ সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করবে। এছাড়াও এই দলিল সার্বিক পরিসরে প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের চলমান ও পরিকল্পিত সক্ষমতা ও ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা দেবে। মুখ্য জাতীয় মূল্যবোধসমূহ, জাতীয় লক্ষ্য ও প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্য, জাতীয় স্বার্থ, বাংলাদশের প্রতিরক্ষার মৌলিক বিষয়- এগুলো নীতিমালার মধ্যে আনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সমক্ষমতা অর্থাৎ সশস্ত্র বাহিনীর মূল সক্ষমতা কী হবে, যুদ্ধকালীন সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে মোতায়েন হবে- এসব বিষয়ে নীতিমালায় বিস্তারিত বলা হয়েছে। শফিউল আলম বলেন, সামরিক ও অসামরিক সম্পর্ক কী হবে, সশস্ত্র বাহিনী ও নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক কী হবে এটা আরেকটা চ্যাপ্টারে বলা হয়েছে। গণমাধ্যমের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক কী হবে সেটাও ডিটেল করা আছে। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা গঠন অর্থাৎ জাতীয় ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা সংস্থাসমূহ কী হবে যেমন নিরাপত্তাবিষয়ক জাতীয় কমিটি, মন্ত্রিসভা কমিটি। এগুলো অলরেডি আছে। জাতীয় কমিটির প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে, সেভাবেই হবে। আর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি যেটা, যিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকবেন তার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। নীতিমালা অনুযায়ী সংসদ আগের মতোই প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করবে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা প্রতিরক্ষা বিষয়গুলো ডিল করবে। ক্রাইসিস বা যুদ্ধকালীন আধা-সামরিক ও সহায়ক বাহিনী সামরিক বাহিনীর অপারেশনার কমান্ডে থাকবে। যেমনÑ বিজিবি, কোস্টগার্ড, বিএনসিসি, পুলিশ বাহিনী, আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অন্যান্য প্রতিরক্ষা দল ক্রান্তিকালীন সেনবাহিনীর সঙ্গে কাজ করবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নীতিমালার উপসংহার বলা হয়েছে- রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সকলকে ‘ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল’ এই উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বাঙালী জাতিকে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। যার ক্রমধারায় যুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী গড়ে ওঠে এবং জনগণের সঙ্গে একীভূত থেকে স্বাধীনতা অর্জনে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। জনসম্পৃক্ত থাকার এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখ-তা রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে একটি যথোপযুক্ত সশস্ত্র বাহিনী। ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সশস্ত্র বাহিনীকে ‘তোমরাই হবা আমার পিপলস আর্মি’ এই বলিষ্ঠ আহ্বান জানিয়েছিলেন এই গণসম্পৃক্ততা আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাষ্ট্রনায়কদের দূরদর্শিতায় এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গণসম্পৃক্ত আধুনিক পেশাগতভাবে দক্ষ সশস্ত্র বাহিনী গড়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে’ বলে উপসংহারে বলা হয়েছে। নীতিমালায় উল্লেখ করা গণমাধ্যমের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সচেতন নাগরিক সশস্ত্র বাহিনীর সবচেয়ে ভাল বন্ধু। নিরাপত্তা সম্পর্কিত অনুমোদিত তথ্য দায়িত্বশীল প্রচারণার মাধ্যমে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সুতরাং একটি বন্ধুপ্রতিম গণমাধ্যম-সামরিক সম্পর্ক অপরিহার্য। গণমাধ্যম-সামরিক সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এ দুটি প্রতিষ্ঠান জাতীয় সক্ষমতার উপাদান। উভয়ই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় মন্ত্রিসভার শোক ॥ নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় ২৬ জন বাংলাদেশীসহ ৫১ জন আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘গত ১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় ২৬ জন বাংলাদেশীসহ ৫১ ব্যক্তি নিহত হয়েছে ও ২০ জন আহত হয়েছেন। এই বিষয়ে বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রিসভা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। এজন্য একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার শোক ॥ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বনামধন্য ভাস্কর ও মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুতে মন্ত্রিসভা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। মন্ত্রিসভা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেছে ও তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। গত ৬ মার্চ রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। শফিউল আলম বলেন, তিনি (ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী) বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দী ও নির্যাতিত হন। এবং স্বাধীনতা উত্তরকালে সমাজের চোখে রাঙ্গানি উপেক্ষা করে জনসম্মুখে যুদ্ধকালীন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার বিষয়ে তিনিই প্রথম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, তিনি ২০১০ সালে দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২০০৪ সালে রিডার্স ডাইজেস্ট পত্রিকা তাকে ‘হিরো অব দ্য মান্থ’ মনোনীত করেছিল। তার আত্মজীবনীর নাম নিন্দিত নন্দন। এটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২