ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

উজ্জীবিত বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আজ ভারত

প্রকাশিত: ০৫:৩৫, ৮ মার্চ ২০১৮

উজ্জীবিত বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আজ ভারত

মিথুন আশরাফ ॥ নিদাহাস ট্রফি শুরু হয়ে গেছে মঙ্গলবার। একটি ম্যাচও হয়েছে। তাতে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার কাছে ৫ উইকেটে ধরাশায়ী হয় ভারত। সেই ভারতের বিপক্ষে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ রাত সাড়ে সাতটায় দুই দলের মধ্যকার ম্যাচটি শুরু হবে। এই ম্যাচটি দিয়ে তিনজাতি এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মিশনও শুরু হবে। শুরুতেই জয় তুলে নিতে চায় বাংলাদেশ। শুরুটা ভাল করা গেলে যে সিরিজে ভাল করা সম্ভব। আর শুরুতেই যদি হার হয় তাহলে সামনের পথ পাড়ি দেয়া কঠিন। এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য ফাইনাল খেলা এবং শিরোপা জেতা। এ জন্য শুরুতেই বাজিমাত করা জরুরী। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদই যেমন বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় প্রথম ম্যাচটা যদি আমরা জিততে পারি, আমাদের শুরুটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সবসময়ই বিশ্বাস করি শুরুটা যদি ভাল হয় আমরা মোমেন্টামটা পেতে পারি, আমার মনে হয় একটা ম্যাচই কনফিডেন্সটা বুস্ট আপ করবে, বাকি সব ম্যাচে আপনি কিভাবে ব্যাক করবেন।’ টুর্নামেন্ট জেতার লক্ষ্যের কথাও স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ। বলেছেন, ‘লক্ষ্য অবশ্যই টুর্নামেন্ট জেতা। এটা আমাদের প্রথম লক্ষ্য।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘তবে পাশাপাশি আমাদেরও অনেক কিছু করার বাকি আছে। অনেক কিছু প্রমাণ করার বাকি আছে। আমরা কতটুকু ভাল করতে পারি এই সংস্করণে। শেষ সংবাদ সম্মেলনেও আমি এই কথাটা বলছিলাম অনেকের মনে হয়তো একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন আছে এই সংস্করণের শক্তিমত্তা নিয়ে। আমার মনে হয় এটা আমাদের জন্য খুব ভাল একটা প্ল্যাটফর্ম আমাদের নিজেদের প্রমাণ করার জন্য। সবার ব্যক্তিগত সেরাটা যদি আমরা আদায় করে নিতে পারি আমার মনে হয় আমাদের খুব ভাল কিছু অর্জন করা সম্ভব। যে কোন প্রতিপক্ষই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যার বিরুদ্ধেই খেলেন, আপনার ভাল খেলতে হবে। আপনি এটা বলতে পারেন ঘরের মাটিতে আমরা খুব ভাল খেলছিলাম, এখন আমাদের এক্সপেকটেশনটা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। আমরা হয়তো শেষ সিরিজে আশানুরূপ পারর্ফম করতে পারিনি। তবে যেহেতু উপমহাদেশের পরিবেশে বেশ অনেকবার আমরা খেলেছিও শ্রীলঙ্কায়। তো ভাল কিছু করতে পারব।’ কিন্তু কিভাবে? সাকিব আল হাসান নেই। তাকে ছাড়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতেই এমন অবস্থা হয়েছে, এখনতো খেলতে হবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে। তাও আবার শ্রীলঙ্কা ও ভারতের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচটিই আবার শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে। মাহমুদুল্লাহ জানান, ‘সাকিবকে মিস করা অবশ্যই দলের জন্য ক্ষতিকর আমার মনে হয়। ওর মতো চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়, অপরিহার্য খেলোয়াড় মিস করা অবশ্যই আমাদের জন্য টাফ। তারপরও আমাদের সবার জন্য সুযোগ ভাল কিছু করে দেখানোর।’ সেই সুযোগ এখন কাজে লাগাতে পারলেই হলো। অবশ্য দলে না থাকলেও সাকিব ঠিকই দলকে অনুপ্রাণিত করতে শ্রীলঙ্কায় গেছেন। মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কায় গেছেন সাকিব। স্বল্প সফরে দলের অনুশীলনেও ছিলেন। হোটেলে দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গেও সময় কাটিয়েছেন। তার উপস্থিতি দলকে অনুপ্রাণিতও করবে বলে জানান মাহমুদুল্লাহ, ‘হ্যাঁ, সাকিব শ্রীলঙ্কায়। গতকাল (মঙ্গলবার) এসেছে। দলের সঙ্গে আছে। তাকে দলের সঙ্গে পাওয়া দারুণ ব্যাপার। সে এখানে এসেছে দলকে কিছু বলতে। তাকে পেয়ে আমরা অনুপ্রাণিত।’ সেই অনুপ্রেরণা দলের ক্রিকেটারদের উজ্জীবিত করলেই হয়। বাংলাদেশের সামনে জেতার সুযোগ আছে। যদি দেশের মাটিতে হারা ম্যাচগুলো ভুলে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা যেভাবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ভারতকে চেপে ধরেছে, সেভাবে যদি ধরা যায়। ভারত দলে বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনি, ভুবনেশ্বর কুমার, জাসপ্রিত বুমরার মতো ক্রিকেটাররা নেই। তাতে করে প্রথম ম্যাচে ভারত হেরেছে। রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, সুরেশ রায়নার মধ্যে যে কোন দুইজনকে যদি শুরুতে সাজঘরে ফেরানো যায় তাহলে জয় সম্ভব। তা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের ম্যাচ থেকেই বুঝা গেছে। বোলিংয়ে যে ভারত শক্তিশালী নয়, সেই প্রমাণও মিলেছে। যদি বাংলাদেশ দল আগে ব্যাটিং করে তাহলে তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান রুম্মন অথবা আরিফুল হকদের বড় স্কোর জমা করতে হবে। আর বোলিং করতে হলে মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ও তাসকিন আহমেদকে বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে। যেন ভারত বড় স্কোর গড়তে না পারে। তাহলেই জয় সম্ভব। ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা অবশ্য প্রথম ম্যাচের ভুল থেকে দ্রুত শিক্ষা নেয়ার কথা বলেছেন। সঙ্গে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর কথাও জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘প্রথম ম্যাচে আমাদের সবকিছু সঠিক হয়নি। ভুল হয়েছে। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এমন উইকেটে ব্যাটিং আরও শক্তিশালী হতে হবে। আমাদের ব্যাটিং গভীরতা আছে। অলরাউন্ডারও আছে। আশা করছি, পরের ম্যাচেই আমরা শক্তভাবেই ঘুরে দাঁড়াবো।’ ভারতকে আটকাতে হলে বাংলাদেশকে শক্ত জবাব দিতে হবে। সেই জবাব দিতে পারলে শুরুটাও ভাল করা যাবে। ভারত বিপাকে পড়ে টুর্নামেন্ট থেকেও তখন ছিটকে পড়তে পারে। যদিও টুর্নামেন্টে একেকটি দল চারটি করে ম্যাচ খেলবে। দুই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দুটি করে ম্যাচ খেলবে। তাতে করে যে কোন দুই দল পয়েন্ট তালিকায় ওপরে থেকে ফাইনালে খেলবে। সব দলেরই ফাইনালে খেলার সুযোগ শেষ ম্যাচ পর্যন্ত থাকছে। তবে যে দল প্রথম ম্যাচেই জিতে যায়, তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তাতে করে সামনের ম্যাচগুলো জেতার সামর্থ্যও বেড়ে যায়। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচটা জেতা জরুরী। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট প্রেসিডেন্টস একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছে বাংলাদেশ। জিতেছেও। ব্যাটসম্যানরাও নিজেদের মেলে ধরতে পেরেছেন। বোলাররাও ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন। প্রস্তুতি ম্যাচ জিতে খানিক আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ও টি২০ সিরিজ জিতে যে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি পড়েছিল, সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার মতো প্রস্তুতি ম্যাচে জয় মিলেছে। এখন এ জয়কে পুঁজি করে, মনোবল চাঙ্গা রেখে ভারতের বিপক্ষে আজ নামতে পারলেই হলো। আর জয় মিলে গেলে তো কথাই নেই। সূচনাটা ভালই হয়ে যায়। তাতে করে ফাইনালে খেলা এবং টুর্নামেন্ট জেতার স্বপ্নও সফল হলেও হতে পারে।