ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

রাজশাহীর জনসমুদ্রে প্রধানমন্ত্রী;###;বিএনপির আন্দোলন চোরের জন্য, তারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে, এতিমের টাকা লুটেপুটে খায়;###;আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করে, বিএনপি দেয় লাশ

ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ব ॥ নৌকায় ভোট দিন

প্রকাশিত: ০৫:১৯, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ব ॥ নৌকায় ভোট দিন

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ হযরত শাহ মখদুম রূপোশের (র.) পুণ্যভূমি, শহীদ কামারুজ্জামানের স্মৃতিধন্য পদ্মা বিধৌত মহানগরী রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানের বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন। দেশের উন্নয়নের ধারা যাতে অব্যাহত থাকে, ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নৌকায় ভোট চান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বিশাল জনসমুদ্রের লাখো মানুষ দুই হাত তুলে নৌকায় ভোট দেয়ার ওয়াদা করেন। প্রধানমন্ত্রী দৃপ্তকণ্ঠে বলেন, আপনারা নৌকায় ভোট দিন, আমরা দেশকে উন্নয়ন করব। ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে তুলেব। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসমুদ্রে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয় আর বিএনপি জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিন খেলে। দেশের মানুষ এখন শান্তিতে আছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, সরকার অবহেলিত এলাকার উন্নয়ন করছে। আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করতে পারে। উন্নয়ন করে। আর বিএনপির লক্ষ্য শুধু লুটপাট। তারা উন্নয়ন করতে পারে না। বোমাবাজি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আমলে মানুষ নির্ভয়ে চলতে পারত না, ঘর থেকে বের হতে পারত না। রাজশাহীকে তারা ত্রাসের নগরীতে পরিণত করেছিল। তাদেরই সৃষ্টি বাংলাভাই। বিএনপি সরকার আমলে তাদের ক্যাডাররা আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে। শিবির ক্যাডাররা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করে। বিএনপির সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিভাবে মানুষ কষ্ট করেছে আমরা দেখেছি। এই রাজশাহীতে তারা আপনাদের দিয়েছিল লাশের উপহার। আগুন দিয়ে যারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে, তারা জনগণের জন্য কিছুই করতে পারে না। বিএনপি চোরের জন্য আন্দোলন করছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলন করে। কিসের আন্দোলন? টাকা চুরি করে তাদের নেত্রী জেলে গেছেন। তারা চোরের জন্য আন্দোলন করছে। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করেছেন বলেই আজ তাকে শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন ‘খালেদা কারাভোগ করছেন। ১৯৯১ সালে এতিমখানা করবে বলে বিদেশে থেকে টাকা এনেছেন। সেই এতিমখানা কই? এতিম কই? এতিমদের নামে টাকা এনে ওই টাকা নয়-ছয় করে লুটেপুটে খেয়েছেন। লুট করা, চুরি করা তাদের চরিত্র। ২৭ বছরে এতিমের টাকা সুদে-আসলে বেড়েছে, তা খেয়েছেন খালেদা জিয়া আর তার দলের লোকজন। এতিমের কোন কাজে লাগেনি। রাজশাহীবাসীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘আমরা আপনাদের জন্য উপহার নিয়ে আসি। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে কী করেছিল? তারা আপনাদের দিয়েছিল লাশ উপহার। মা-বোনদের করেছিল বিধবা। এখানে ছিল সন্ত্রাসী বাংলা ভাইয়ের অভয় অরণ্য। আমরা উপহার দিই স্বস্তি। আমরা রাস্তা বানাই, তারা কেটে ফেলে। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাসিকের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশাল এ জনসমুদ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। তিনি সভার শুরুতেই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন বায়ান্ন ও একাত্তরের বীর শহীদদের। এছাড়া সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আপনাদের জন্য উপহার এনেছি। আমরা ক্ষমতায় আসার পর কী কী কাজ করেছি, ইতোমধ্যে আপনারা অনেক দেখেছেন। বহু প্রকল্প উদ্বোধন করেছি, বাকি যেগুলো কাজ আমরা শুরু করতে যাচ্ছি সেগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। তিনি বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশে কোন মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না, আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে। রাজশাহীতেও মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন কি দিয়েছে? এই রাজশাহীকে করেছিল তারা সন্ত্রাসের নগরী। সৃষ্টি করেছিল বাংলা ভাই। ২০০১ এ ক্ষমতায় আসার পর এই বিএনপি এখানে যে অত্যাচার করেছিল আপনাদের এখনও মনে আছে। বিএনপি সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই এলাকায় কিভাবে মানুষ কষ্ট পেয়েছে। এই বিএনপির লোকেরা ছয় বছরের বাচ্চা শিশুকে গ্যাং রেপ করেছিল। কারণ তার বাবা-মা আওয়ামী লীগ করত। এই বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইউনুস এবং ড. তাহেরকে হত্যা করেছিল। জোট সরকারের আমলে আমাদের আওয়ামী লীগ নেতা আযহার মেম্বার, শফিকুল ইসলাম, আব্দুল বাকি, সাদেক আলীসহ রাজশাহীর বিভিন্ন নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আপনাদের দিয়েছিল লাশ উপহার, সৃষ্টি করেছিল বিধবা আর পিতাহারা সন্তান। এই রাজশাহীতে আমাদের ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম আলী আখন্দ, রবিউল ইসলাম রবি, যুবলীগের শামসুল আলম বিএনপি-জামায়াত নির্মম ভাবে হত্যা করেছিল। শিবির ক্যাডাররা হাত পায়ের রগ কেটেছিল যুবলীগ নেতা আনোয়ার ইসলামকে। ২০১০ সালে শিবির ক্যাডাররা রাবির ছাত্র ফারুককে মেরে ডাস্টবিনে ফেলে রেখেছিল। এই বাংলা ভাইয়ের হাতে আবুল কাইয়ুম বাদশাকে মেরে বাসার সামনে উল্টো ঝুলিয়ে রেখেছিল। বিএনপি-জামায়াতের আমলে এই এলাকা ছিল জঙ্গী ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। এখানে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারত না। এ রকম এক অবস্থা সৃষ্টি করেছিল দেশব্যাপী। উন্নয়ন তারা করতে পারে নাই। পেরেছে কই দিনে পাঁচশ জায়গায় বোমা হামলা করতে। এই ভাবে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ২০১৪, ১৫, ১৬ পরপর এই তিন বছর তাদের তা-বে প্রায় ৫০০ মানুষকে তারা পুড়িয়ে হত্যা করেছে। তারা গাড়ি পুড়িয়েছে। ২৯টি লঞ্চে আগুন দিয়েছে। রেললাইন তুলে দিয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টা করেছে। তারা রেললাইন ধ্বংস করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার এসে আবার রেললাইন চালু করেছে। সরকারী অফিস আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে বিএনপি-জামায়াত। তারা (বিএনপি) বিদ্যুত দিতে পারে না, বিদ্যুতের টাকা লুটপাট করেছে। আর অপরদিকে আমরা বিদ্যুত কেন্দ্র করেছি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে তারা বিদ্যুত কেন্দ্র পুড়িয়েছে, কর্মরত ইঞ্জিনিয়ারকে পুড়িয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনে মানুষ মারা তাদের কাজ ছিল। আপনার দেখেছেন রাজশাহীর রাস্তায় তারা কিভাবে পুলিশ মেরেছে। আপনারা জানেন, বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার হয়েছে। কেন হয়েছে? এতিমের টাকা। ৯১ সালে এতিমখানা তৈরি করবে বলে বিদেশ থেকে টাকা এনেছে। কিন্তু এতিমখানা কই? কেউ এতিমখানার ঠিকানা জানে না। তারা এতিমখানার টাকা নয়-ছয় করে খেয়েছে। আজ প্রায় ২৭ বছর পর তার বিনিময় সুদে আসলে পেয়েছে। এতিমের টাকা এতিমের হাতে যায়নাই, সে টাকা লুট করেছে তারা। সেই মামলা দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই মামলায় তার সাজা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে। তাদের জন্য পাঁচ পাঁচ বার বাংলাদেশ বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তার ছেলে যে ঘুষ খেয়েছে, চুরি করেছে এটা তারাই বলেছে। তার আরেক ছেলে টাকা পাচার করেছে। এই দেশের টাকা জনগণের কাজে লাগেনি। বিদেশে পাচার করেছে। সেই পাচার করা টাকা আমরা ফেরত এনেছি। সেটার জন্য আবার তারা আন্দোলন করেছে। তাদের নেত্রী টাকা চুরি করে জেলে গেছে। তাদের এখন আন্দোলন চোরের জন্য। তারা ২৭ বছরে এতিমের টাকা এতিমকে দিতে পারে নাই। এতিমের টাকা সুদে আসলে খেয়েছে খালেদা জিয়া ও তার পরিবার। সেই টাকা তার নিজের কাছে রেখে দিয়েছে। সেটার জন্য সে সাজা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের জন্য কাজ করে। আপনারা জানেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জাতির পিতার নামে ট্রাস্ট করেছি। প্রায় আঠার শ’ শিক্ষার্থী, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত এবং আমাদের দুস্থ নেতাকর্মীদের জন্য সাহায্য দিয়ে থাকি। ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে, কোন অনিয়ম পায়নি। আমি বলেছিলাম ভালভাবে তদন্ত করে দেখেন। আমরা জনগণের জন্য কাজ করি, জনগণের সম্পদ কেড়ে খেতে না। আমরা দুই বোন, আমাদের বাবা-মা সব হারিয়েছি, আমাদের সম্পদ ও পৈত্রিক সূত্রে যে বাড়ি পেয়েছি সেটা জনগণকে দিয়েছি। যে অর্থ পেয়েছি সেটা ট্রাস্ট করে এদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা বৃত্তি দিচ্ছি, উপবৃত্তি দিচ্ছি। আমরা তো এতিমের টাকা মেরে খাইনি, বরং মানুষকে দিয়েছি। আমরা মানুষের জন্য কাজ করি, উন্নয়ন করি, তারা ধ্বংস করে। আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কেটে ফেলে, রাস্তা বানাই, তারা রাস্তা কেটে ফেলে। হাজার হাজার বাস ট্রাক পুড়িয়ে জ্বালিয়ে শেষ করে দিয়েছে। সিএনজিতে ড্রাইভারকে আটকে পুড়িয়েছে। মানুষকে পুড়িয়ে যারা হত্যা করে তারা মানুষের কি কল্যাণ করতে পারে? আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করি। আজ আমরা বিধবা ভাতা দিচ্ছি, বয়স্ক ভাতা দিচ্ছি, সদ্যপ্রসূতি মাকে ভাতা দিচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দিচ্ছি। আমরা যেখানে জনগণের কল্যাণে কাজ করছি, সেখানে তারা জনগণের সম্পদ লুটে খাচ্ছে। দুই কোটি তিন লাখ শিক্ষার্থীকে আমরা প্রতিমাসে বৃত্তি দিচ্ছি, একেবারে প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত। আপনাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য আমরা বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। বই কেনার জন্য আপনাদের খরচ করতে হয় না, খরচ করি আমি। প্রায় চার কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ১৯৭ শিক্ষার্থীকে আমরা ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২ খানা বই পহেলা জানুয়ারি হাতে তুলে দিয়েছি। যে সব এলাকায় স্কুল নাই, সেখানে স্কুল করে দিচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, প্রাইমারিতে ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর মা মোবাইল ফোনে বৃত্তির টাকা পায়। কে দিয়েছে এই ফোন এটাও আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার মোবাইল ফোন উন্মুক্ত করে দিয়েছিল বেসরকারী খাতে। আজকে সবার হাতে মোবাইল ফোন। বিএনপির আমলে মোবাইল ফোন তো কেউ চোখে দেখে নাই। তখন একটা মোবাইল ফোন কিনতে লাগত ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এক মিনিট মোবাইলে কথা বলার জন্য দিতে হতো ১০ টাকা। ধরলেও ১০ টাকা করলেও দশ টাকা। এই ছিল বিএনপির সময়। আর এখন সবার হাতে মোবাইল ফোন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব ঘোষণা দিয়েছিলাম। আপনাদের ছেলেমেয়েরা ল্যাপটপ চালাবে, কম্পিউটার চালাবে। আমরা ৫২৭৫ ডিজিটাল সেন্টার সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছি। আমরা ট্রেনিং দিচ্ছি। শিক্ষা গ্রহণ কর, পয়সা কামাই কর। সেই ট্রেনিং করে ঘরে বসে টাকা কামাই করতে পারছে আপনাদের ছেলেমেয়েরা। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য আমরা প্রায় এক বছরে ১০ লাখ লোক বিদেশে পাঠিয়েছি। এই মোবাইল ফোন আরও আধুনিক করে আমরা ফোরজিতে চলে গেছি। মানুষ সেবা পাচ্ছে। মানুষ চিকিৎসা সেবা যেন পায় সেজন্য কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিচ্ছি। ত্রিশ প্রকার ওষুধ বিনা পয়সায় দিচ্ছি। যেন আমাদের মা বোনেরা কারও মুখাপেক্ষী না হয়, নিজে হেঁটে কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার ছিল, আমি উদ্যোগ নিলাম ৪৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত করে রেখেছিলাম। এরপর ২০০৮ এর নির্বাচনে আপনার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন, আমরা সরকার গঠন করেছি। সরকার গঠন করে দেখি বিএনপি ২০০১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত যে সময়ে ছিল সে সময় বিদ্যুত উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। তারা বিদ্যুত দিতে পারে নাই, দিয়েছে খাম্বা। খালেদা জিয়ার ছেলে খাম্বার ব্যবসা করত, সবাইকে খাম্বা কিনে দিয়েছে, রাস্তার পাশে শুধু খাম্বা আর খাম্বা। বিদ্যুত নাই। খুঁটি আছে কিন্তু বিদ্যুত নাই। খুঁটি তো আর বিদ্যুত দিতে পারে না, বিদ্যুত উৎপাদন করতে হয়। আমরা ২০০৯ এ ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুত উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়িয়েছি। এই রাজশাহী অঞ্চলে বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র করে দিয়েছি। আজকে আমরা ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করি। সেই সঙ্গে ৯০ ভাগ মানুষ বিদ্যুত পায়। ইনশাআল্লাহ ২০২১ সালের মধ্যে কোন ঘর অন্ধকার থাকবে না। সব ঘরেই আমরা আলো জ্বালব। যেখানে বিদ্যুত লাইন নাই, সেখানে আমরা সোলার প্যানেল করে দেব। বায়োগ্যাস করে দিচ্ছি। ভারত থেকে বিদ্যুত আমদানি করছি। পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র করছি, যাতে কোন বিদ্যুত সমস্যা না থাকে। রাস্তা ঘাট পুল ব্রিজ ব্যাপকভাবে আমরা করে দিয়েছি। এই রাজশাহীতে কোন ইন্ডাস্ট্রি ছিল না, গ্যাসের লাইন ছিল না, আমরা গ্যাসের লাইন দিয়েছি। গোটা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে দিয়েছি। যাতে করে সেখানে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে, মানুষের কর্মসংস্থান হয়। আমাদের কৃষক তারা কষ্ট করে। আমরা তাদের মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা করে দিয়েছি। ’৯৮ এর বন্যার পর যেসব বর্গা চাষী যারা আমানত রাখতে পারে না তাদের জন্য বিনা জামানতে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করেছি। এখন ২ কোটি কৃষক উপকরণ কার্ড বিনামূল্যে পাচ্ছে, যে কার্ডের মাধ্যমে বীজ, সার কৃষকরা কিনতে পারে। ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের কাছে আসে। বিশাল এ জনসমুদ্রে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক ও প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান খান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুবুল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দীপু মণি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী সাইফুজ্জামান শেখর, রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্যা ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আকতার জাহান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য নূরুল ইসলাম ঠা-ু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান প্রমুখ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে পৌঁছে একযোগে ২১ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। তিনি এসব উন্নয়ন কর্মকা- রাজশাহীবাসীর জন্য উপহার বলেও ঘোষণা দেন। পরে জনসভায় তিনি এসব উন্নয়নের বর্ণনাও দেন। প্রধানমন্ত্রী বেলা ৩টা ৫৫ মিনিটে মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত হলে মুহুর্মহু করতালি ও স্লোগানে প্রকম্পিত হয় পুরো এলাকা। পরে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ শুরু করেন। আজানের জন্য তিন মিনিট বিরতিও দেন তিনি। ৩৭ মিনিটের বক্তব্যে তিনি সরকারের উন্নয়নের চিত্রও তুলে ধরেন। রাজশাহীতে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ॥ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারী কলেজ (আইসিটি) সমূহের উন্নয়ন ‘শীর্ষক প্রকল্প এর আওতায় বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজ, বোয়ালিয়া, রাজশাহী’র ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ। শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান ডিগ্রী কলেজ, বোয়ালিয়া, রাজশাহীর ৫ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ। দামকুড়া হাট কলেজ, পবা, রাজশাহীর ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ। আড়ানী ডিগ্রী কলেজ, বাঘা, রাজশাহীর ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ। আব্দুল করিম সরকার ডিগ্রী কলেজ, তানোর, রাজশাহীর ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ। বাগমারা কলেজ, বাগমারা, রাজশাহীর ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ। বিড়ালদহ কলেজ, পুঠিয়া, রাজশাহীর ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ। রাজশাহীতে পুলিশের চন্দ্রিমা থানা। কাশিয়াডাঙ্গা থানা। কাটাখালী থানা। এয়ারপোর্ট থানা। পবা থানা। কর্ণহার থানা। দামকুড়া থানা। বেলপুকুর থানা। রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় বারনই নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ। রাজশাহী (নর্থ) ১টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ। রাজশাহী নওহাটা ফায়ার স্টেশন নির্মাণ। ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড সার্ভে ইন্সটিটিউট, রাজশাহী এর নির্মাণ। গোদাগাড়ী উপজেলাধীন উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হল রুম নির্মাণ। রাজশাহী বিভাগীয় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের নির্মাণ কাজ।