বুধবার ৫ কার্তিক ১৪২৮, ২০ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

ডিপ্রেশনের যত লক্ষণ

  • পপি দেবী থাপা

বর্তমান যুগে ‘ডিপ্রেশন’ শব্দটির সঙ্গে পরিচয় থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ- ‘ডিপ্রেশন’। বুঝে কিংবা না বুঝেই এই শব্দটি ব্যবহারের উদাহরণও কম নয়! ছোটখাটো মন খারাপকেও ‘আমি ডিপ্রেশনে আছি’ বলে চালিয়ে দেয়াটা এখন হরহামেশাই ঘটে বন্ধু মহলেও! ডিপ্রেশন মানে কি শুধুই মন খারাপ? অথবা আরো বেশী কিছু বোঝায় এই শব্দটি দ্বারা? মানবমনের একটি জটিল স্তরে গিয়ে মানুষ শিকার হয় ডিপ্রেশনের । রিডার্স ডাইজেস্ট বলছে, কেউ ডিপ্রেশনে ভুগছে কিনা তা জানার রয়েছে আটটি লক্ষণ।

অনুভূতিগুলো বেশিরভাগ লুকিয়ে রাখা

সহকর্মী, প্রিয়জন, এমনকি কখনও কখনও নিজেদের সঙ্গেও তারা তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে চায় না। লুকিয়ে রাখে। সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে তাদের ভাল লাগে না। তাই কখনও কারও সঙ্গে ভাগ করে নিলে সেটি আরও স্পষ্টতা পাবে, এ ভয়ে সেগুলোকে সামনেই আসতে দেয় না। কিন্তু তাতে কি সমস্যা চলে যায়? চেপে রাখার কারণে তা আরও বাড়ে। কিন্তু সমস্যা নিয়ে ভাবাটাও তারা ভয় পায়। যতদিন পারা যায় পালিয়ে বেড়ায় এবং সমস্যাগুলোকে এর চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত বাড়তে দেয়। কোন মন খারাপ বা কষ্টের অনুভূতিকে প্রকাশ করে না, কারণ তারা ভয় পান যে তা বেরিয়ে এলে কোনভাবেই নিজেকে সামলাতে পারবে না। অনুভূতিগুলোকে তাই দমিয়েই রাখা হয়। কিন্তু একদিন যখন সেগুলো একসঙ্গে বিস্ফোরিত হবে, তখন? ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষেরা অনুভূতির সকল দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখে, ভ্যাপসা পরিবেশে একসময় নিজেরই গুমোট লাগে।

ভাল বা খারাপ-কোনটাই না থাকা

সাদা-কালোর মাঝখানে থাকা এক ধূসর এলাকায় আটকা পড়ে থাকে তাদের মন, বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং তারা নিজে। তারা কখনও সত্যি করে বলেন না যে, তারা ভাল আছে না খারাপ! হয়তো নিজেরাই খুঁজে পায় না সেই উত্তরটি। কেউ যখন জিজ্ঞেস করে, ‘কেমন আছেন?’, তখন সেই প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে যেন ভাবনায় পড়ে যায় অথবা প্রতিদিন একটি মেকি প্রত্যুত্তর থাকে, ‘ভালো আছি’ বা ‘আমি তো সবসময় ভালই থাকি’। এটা যেন প্রশ্নকারীকে খানিকটা এড়িয়ে যাবার জন্যই জোর করে বলা।

ব্যস্ত একটি জীবন বেছে নেয়া

দমিয়ে রাখা অনুভূতিগুলোর সঙ্গে এঁটে উঠতে না পারার কারণে তারা বেছে নেয় নিজেদের প্রচ- ব্যস্ত রাখার পথটি, যাতে নিজের জন্য নিজেরই সময় না মেলে, অনুভূতিগুলো অতল গহ্বরে যাতে আরও চাপা পড়ে যায়। পড়াশোনা, চাকরি, অতিরিক্ত কাজের চাপ- সব মিলিয়ে তারা ধীরে ধীরে নিজেদের ডুবিয়ে দেয় এক ধরনের স্বেচ্ছাক্লান্তিতে। একটুও অবসর সময় রাখে না, দমবন্ধ একটি জীবন, তবু প্রাণ খুলে শ্বাস নিতে চায় না তারা! নিজের কাছ থেকে নিজেই কি পালায়? একটু বিনোদন, প্রিয়জনের সঙ্গ কিংবা একলা বসে ভাবা- কিছুই চায় না, নাকি পারে না? ডিপ্রেশন তাদেরকে তা করতে দিচ্ছে না। অতঃপর ধীরে ধীরে তলিয়ে যাওয়া হয় অতি পরিশ্রমে।

অল্পতেই রেগে যাওয়া

কারও অল্প হাসি বা আনন্দের প্রকাশেও যেন বিরক্ত লাগে তাদের। ভাল কিছু গ্রহণেও দ্বিধা। একটু পরপর রাগ হয়। তাদের সকল আবেগের বিকল্প হিসেবে তখন দেখা দেয় রাগ। অল্পতেই, হয়তো অকারণেই রেগে যায় আশপাশের সবার ওপর। দূরত্ব সৃষ্টি হয় তাদের সঙ্গে। তাৎক্ষণিক রাগের বহিঃপ্রকাশটা বেশ প্রবল হয়। কাউকে আঘাত করা বা জিনিসপত্র ভাংচুর পর্যন্তও গড়ায়। এই স্বভাব যদি আগে না থেকেও থাকে, তবুও ডিপ্রেশনের সময় এমনটা হতে পারে। ব্যক্তির নিজের উপরও রাগ হয়, এলোমেলো কারণ দর্শায়, নিজেই বুঝতে পারে না কী এই রাগের উৎস? উত্তর- ডিপ্রেশন।

অহেতুক ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করা

ডিপ্রেশনে আক্রান্তদের, বিশেষত পুরুষদের মধ্যে কোন কারণ ছাড়াই ঝুঁকি নেবার প্রবণতা বেড়ে যায়। খুব জোরে গাড়ি চালানো। পথ চলতে অন্যমনষ্কতা। অতিরিক্ত ধূমপান কিংবা মদ্যপান, জুয়া খেলা, নিজেকে বা অন্যকে আঘাত করা ইত্যাদি ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ দেখা দেয়। ‘যা হয় হবে’- এ ধরনের বেপরোয়া আচরণ দেখা দেয় ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষের মধ্যে। দিনযাপনে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই তারা এড়িয়ে যায়। সামাজিক সম্পর্কে দেখা দেয় অবনতি। পেয়ে বসে নিঃসঙ্গতা । যা ডেকে আনে নিজের ক্ষতি।

চিন্তা-ভাবনায় অস্পষ্টতা

সব সমস্যাকে চেপে রাখার ফলে মস্তিষ্কের অবস্থা এমন হয় যে ভাল করে কিছু চিন্তা করতেই পারে না। কোন বিষয়ে ফোকাস করা, তা নিয়ে ভাবা, এবং যৌক্তিক সমাধান করাও হয়ে ওঠে দুঃসাধ্য একটি ব্যাপার। ভাবনায় কথোপকথনে খেই হারিয়ে ফেলা, কথায় যুক্তির অভাব, প্রয়োজনীয় কথা খুঁজে না পাওয়া ইত্যাদি ডিপ্রেশনের লক্ষণ। সফল যোগাযোগের পূর্বশর্ত হল চিন্তা-ভাবনা ও তার সঠিক প্রকাশ। কিন্তু ভাবনার গতি যখন খুব ধীর, তখন সেভাবে কথাও আসে না আর যোগাযোগেও দেখা দেয় অস্পষ্টতা। এ সময় মানুষ প্রচ- সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। কী খাবে, কোথায় যাবে, কী কিনবে এসব সিদ্ধান্ত নেয়াও বেশ কঠিন কাজ বলে মনে হয়, অন্যান্য সমস্যার কথা ভাবা তো দূরের কথা!

পছন্দের কাজগুলো আর না করা

নিজের সৃজনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত কোন কাজ, যেমন ছবি আঁকা, ছবি তোলা, গান গাওয়া, লেখালেখি, নাচ করা ইত্যাদি সব ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়া এবং একসময় আর না করা ডিপ্রেশনের একটি মারাত্মক লক্ষণ। যে কাজগুলো একজন শুধু করার জন্য করে না, বরং আত্মতৃপ্তির জন্য করে, তা নিজেকে পথচলার শক্তি যোগায়। কিন্তু ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষগুলো সেই কাজগুলো করাই একসময় থামিয়ে দেয় এবং নিজেদের মধ্যে সেগুলো করার কোন তাগিদ অনুভব করে না বলে জানায়। আশপাশের মানুষজন অবাক হয়, হয়তো সে নিজেও অবাক হয়। কিন্তু তবু কোথায় কেমন যেন ছন্দপতন ঘটে যায়!

অন্তর্মুখী ও এককেন্দ্রিক হয়ে পড়া

ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষটির জীবনে ধীরে ধীরে অন্যের জায়গা কমে যেতে শুরু করে এবং সবটুকু জুড়ে শুধু সে-ই থাকে। অন্যের ভাললাগা, মন্দলাগা বা কোন অনুভূতি তার কাছে তেমন কোন দাম পায় না। একসময় নিজেও ব্যাপারটা বুঝতে পারে এবং এজন্য নিজেকে দোষী ভাবে। কিন্তু তারপরও নিজস্ব সেই গ-ি থেকে বের হতে পারে না। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রেমিক-প্রেমিকাসহ সব ধরনের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্কে অবহেলা, কারও মতামতকে প্রাধান্য না দেয়া, নার্সিসাস কমপ্লেক্সের সূত্রপাত ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। এর ফলে সকলেই ব্যক্তিটির কাছ থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে এবং সে পুরোপুরি একা হয়ে পড়ে। একাকিত্ব যত গ্রাস করে, ডিপ্রেশন আরও বাড়তে থাকে। এক ধরনের চক্রাকার প্রক্রিয়ায় ডিপ্রেশন গিলে খায় ব্যক্তিটিকে এবং তার জগতটাও ক্রমশ ছোট হয়ে আসে।

শীর্ষ সংবাদ:
তিস্তায় হটাৎ ভয়াবহ বন্যায় রেড এ্যালার্ট ॥ ফ্লাড ফিউজ বিধ্বস্থ হবার মুখে         শ্রীনগরে অগ্নিদগ্ধ ভাইয়ের পর মারা গেল বোন         মাঝে মধ্যে পাপন ভাইয়ের পরামর্শ খারাপ নয়, ভাল ॥ সাকিব         মেসি-এমবাপের নৈপুণ্যে পিএসজির রোমাঞ্চকর জয়         ৫ গোলের নাটকীয় লড়াইয়ে আতলেতিকোকে হারাল লিভারপুল         ভারতীয় সাবমেরিন আটকের দাবি পাকিস্তানের         কঠোর ব্যবস্থা নিন ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ         ওমানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকল বাংলাদেশ         আজ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী         ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবেন না         কেন এই সহিংসতা উত্তর এখনও মেলেনি         ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের ডাক ॥ সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মাঠে আওয়ামী লীগ         মাঝিপাড়ায় এখন সুনসান নীরবতা, আতঙ্ক কাটেনি         প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে সাজিয়েছেন ফরিদপুর         পিএসসির প্রশ্ন ফাঁসে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড         মুছা কালু ভোলা-তিন জনের গ্রেফতারেই খুলতে পারে জট         স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে আঘাত হানতেই সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস         একযুগে আরেকটি স্বপ্নপূরণ         রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে মরিয়া সরকার ॥ ফখরুল         বাংলাদেশের মানুষ তার ধর্ম পালন করবে স্বাধীনভাবে : প্রধানমন্ত্রী