ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

সাবমেরিন কেবল সংস্কার চললেও ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক

প্রকাশিত: ০৫:৩৬, ২৫ অক্টোবর ২০১৭

সাবমেরিন কেবল সংস্কার চললেও ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের প্রথম সাবমেরিন কেবল সিমি-উই-৪’র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সোমবার মধ্যরাত থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ সময়ের জন্য দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সিমি-ইউ-৫’র মাধ্যমে দেশে ইন্টারনেট সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। মেরামত কাজের জন্য ইন্টারনেটের গতি কিছুটা কমে গেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪৯ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিটিসিএলের ইন্টারনেট সরবরাহ ‘ডাউন’ হয়ে গিয়েছিল। এ সময়ের মধ্যে ইন্টারনেটের গতি একেবারেই কম ছিল। পরে অবশ্য স্বাভাবিক গতিতে ইন্টারনেট সরবরাহ দিতে পারছে বিটিসিএল। আইটিসির মাধ্যমেও ইন্টারনেট সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। তবে বিএসসিসিএল বলছে, দেশে যে পরিমাণ ইন্টারনেট প্রয়োজন তার পুরোটাই সরবরাহ ঠিক রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) এমডি মশিউর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক রাখতে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ১৫০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। সিমি-উই-৪ কেবলের মাধ্যমে ২৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ দেশে আসত। এ কেবলের বাংলাদেশের অংশের ‘রিপিটার’ প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। রিপিটারটি পুরোপুরি বদল করতে হবে। সিমি-উই-৪ কেবলের মেয়াদকাল ২০ বছর। ২০০৫ সালে কেবলটি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে কেবলের বয়স ১২ বছর পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে কেবলটির কয়েক দফা মেরামত কাজ করেছে কনসোর্টিয়াম। কেবলটির মালিক ১৬টি দেশ। সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে কেবলটি ফ্রান্স থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত চলে গেছে। যেখান থেকে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপন হয়েছে সেখানেই মেরামত কাজ চলছে। সিএস এশিয়ান রেস্টোরার (কেবল শিপ) এ জাহাজে কনসোর্টিয়ামের চীফ ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন জুলফিকার সোলায়মান। বাংলাদেশের একজন ইঞ্জিনিয়ারও রয়েছেন। সমুদ্র তীর থেকে ১২০ কিলোমিটার গভীরে মেরামত কাজ চলছে। আগামী ২৬ অক্টোবর মেরামত কাজ শেষ হওয়ার কথা। মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পটুয়াখালীতে স্থাপিত দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সিমি-উই-৫ কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে দেশের ইন্টারনেট। ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কোন সুযোগ নেই। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে অনেক আগেই যুক্ত হয়েছে দেশ। সিমি-উই-৫’র মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহ ঠিক রাখা হচ্ছে। প্রথম কেবল মেরামত না হওয়া পর্যন্ত ইন্টারনেটের গতি কিছুটা কম থাকবে এটা হতে পারে। তবে আমাদের আইটিসি লাইসেন্সধারীরা আছে, এতে খুব বেশি সমস্যা হবে না। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সাবমেরিন কেবল ‘সিমি-উই-৪’-এ যুক্ত হয় ২০০৫ সালে, যার মাধ্যমে ২৫০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাচ্ছে। এটি ছাড়াও বাংলাদেশ ছয়টি বিকল্প সাবমেরিন কেবলের (আইটিসি বা ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল কেবল) সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বিএসসিসিএল জানিয়েছে, সিমি-উই-৫ (সাউথ এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ) সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে এ বছরের ডিসেম্বরে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। এ কেবলের সঙ্গে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ায় দেশে প্রথম কেবল বন্ধ হলেও বিকল্প কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবারহ দেয়া হবে। বর্তমানে বিকল্প কেবলের মাধ্যমে সে কাজটিই করা হচ্ছে। এ সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে দেশে পর্যায়ক্রমে এক হাজার ৩শ’ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে। তখন ফোর-জি (চতুর্থ প্রজন্মের), ফাইভ-জি (পঞ্চম প্রজন্মের) নেটওয়ার্ক স্থাপন করা আরও সহজ হবে। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় ১০ একর জমিতে ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে বর্তমানে ১৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ইন্টারনেট সরবরাহ করা হচ্ছে। এখান থেকে কক্সবাজারের জিলং পর্যন্ত (প্রথম সাবমেরিন কেবল কোম্পানির ল্যান্ডিং স্টেশন) ব্যাকবোন তৈরি করার কাজও শেষ। বর্তমানে সিমি-উই-৪ কেবলের মাধ্যমে দেশে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ হচ্ছে। এ কেবলে কোন কারণে সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প সিমি-উই-৫ কেবলের মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ (ব্যাকআপ) দেয়া হবে। সিমি-ইউ-৪’র (সাউথ এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ) মালিক হচ্ছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর, ইতালি, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও ফ্রান্স। সিমিউই-৫-এর মালিক হচ্ছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের মালিকও এ ১৬টি দেশ। বিএসসিসিএলের এমডি মশিউর রহমান বলেন, সিমি-উই-৫ নতুন কেবল। এর মেয়াদকাল ২৫ বছর। তাছাড়া এ কেবলটি সার্বাধুনিক পদ্ধতিতে স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু সিমি-উই-৪ কেবল ২০০৫ সালে স্থাপন করা হয়। এ কেবলের মেয়াদকাল ২০ বছর। কেবলটি বেশ কয়েক দফা মেরামত করা হয়েছে। কেবলটি আপগ্রেডেশনও করা হয়েছে। এ কারণে ২১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ কেবলের বিভিন্ন স্থানে রিপিটার বসানো আছে। রিপিটার হচ্ছে ব্যান্ডউইথের গতি বাড়ানোর একটি যন্ত্রের নাম। এ যন্ত্রটির কোথাও সমস্যা দেখা দিলে ব্যান্ডউইথ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হবে। আমরা আশা করছি ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেবলটির মেরামত কাজ পুরোপুরিভাবে শেষ হবে। তখন ব্যান্ডউইথ সরবরাহে কোন সমস্যা থাকবে না।