ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

রায়পুরে নদী ও খালে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা

প্রকাশিত: ২২:২১, ৩১ জুলাই ২০১৭

রায়পুরে নদী ও খালে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা

নিজস্ব সংবাদদাতা, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর ॥ রায়পুর উপজেলার ডাকাতিয়া নদী ও বোরো পীট খালের পানির স্বাভাবিক চলাচলে পদে পদে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় প্রায় এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে স্থানীয় ভাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে দেশের বৃহত্তম চাঁদপুর সেচ প্রকল্প (সিআইপি) এলাকার ভিতরে প্রায় যুগ ধরে অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট নির্মাণসহ ডাকাতিয়া নদী ও খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে নদী ও খালে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে এখানকার বাসিন্দাদের অল্প বৃষ্টি হলেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ৩-৪ দিনের টানা বৃষ্টি হলে পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় স্থানীয় জলাবদ্ধতা। জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরেই ক্ষমতাসীন দলের ক্ষমতাবলে উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন অংশে হাজীমারার সন্নিকট থেকে মোল্লারহাট হয়ে লক্ষ্মীপুর অংশের কাছ পর্যন্ত কয়েকটি ভাগে ভাগ করে ২০ এককর এলাকাজুড়ে বাঁশের বেড়া, জালসহ বিভিন্ন ভাবে বাঁধ দিয়ে জবরদখল করে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি ও ইউপি সদস্য শাহজাহান মোল্লা, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আ. রশিদ মোল্লার ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা এবং ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী মোল্লা। এলাকার কেউ তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। এছাড়াও কতিপয় ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে নদীর দু’পাশে পাউবোর অর্ধশতক জমিতে অবৈধভাবে তোলা হয়েছে অর্ধ শতাধিক দোকান ঘর। এসব কারণে নদীর স্বাভাবিক পানি চলাচলে বিঘœতার সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ওই এলাকার বোরো পীট খালের অনেক স্থানে ১৫-২০ বছর ধরে পানির স্বাভাবিক চলাচলের পথ সম্পূর্নভাবে বন্ধ ও মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে ৬০ ফুট প্রশস্ত বোরো পীট খালকে ৫-৬ ফুট ব্যাসের পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথকে সংকুচিত করা হয়েছে। মাছ চাষের জন্য লোকজন বোরো পীট খালের মধ্যে প্রায় ৪০টি স্থানে, সি খাল, পি-৩ খালসহ কয়েকটি প্রধান খালের মুখে ও ডাকাতিয়া নদীর মধ্যে ৪টি স্থানে বাঁশের তৈরি গড়া (বানা), মোটা তার এবং রশির তৈরি নেট দেয়ার কারণেও পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সংশি¬ষ্ট সূত্র জানায়, চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকায় ৫৩ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ, আমন ও বোরোসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ করা হয়। প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষাধিক। এর মধ্যে ৫ লক্ষাধিক কৃষক রয়েছে। প্রকল্প এলাকাকে বন্যা ও জলাবদ্ধতা মুক্ত রাখার জন্য ২২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা সম্পন্ন রায়পুরে হাজীমারা ডাকাতিয়া নদীর উপর রেগুলেটর রয়েছে। এছাড়াও ১ বেন্টের বাংলা বাজার, গোপীনাথপুর ২ বেন্টের রামদাসদী, চরভৈরবী ও বইচাতলী স্থানে সুইচ গেইট রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য একমাত্র ডাকাতিয়া নদী থাকলেও নদীর বিভিন্নস্থান দখল করে অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট নির্মাণসহ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় বর্তমানে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। জেলা মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি মোস্তফা বেপারী বলেন, সেচ প্রকল্পের ভিতর থেকে পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশনে ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরবংশীর নাইয়া পাড়ায় বসবাসকারী প্রায় ৫ হাজার লোককে বছরে ৬ মাস জলাবদ্ধতার মধ্যে ভোগাস্তি পোহাতে হয়। এছাড়াও অপরিকল্পিতভাবে ফসলি জমির মাঝখানে এবং রাস্তার পাশে বাড়ি ঘর নির্মাণ করে আসছে। পানি নিষ্কাশন ক্যানেলগুলোর ওপরও একই ভাবে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে রায়পুরে ৩-৪ দিন টানা বৃষ্টিপাত হলে বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম বন্যা দেখা দেয়। এতে বহু পুকুরে চাষ করা মাছ পানিতে ভেসে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশান অফিসার (এসও) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ২০১২ সনের পর থেকে ডাকাতিয়া নদীর ইজারা প্রথা বন্ধ রয়েছে। দখল মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়াও দোকানের নামে জবরদখলের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করা হয়েছে। খালের বিষয়গুলো খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী রায় বলেন, নদী ও খালে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ চাষের অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।