শনিবার ৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

নাচে-গানে, এক রঙে রাঙিয়ে...

  • ক্যাম্পাসে বর্ষবরণ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বর্ষবরণে একই ধরনের পোশাক পরে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের বৈশাখী চত্বরে শিক্ষার্থীর পদচারণা ও উচ্ছ্বাস সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। প্রতি বছরের ন্যায় সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে প্রথম শোভযাত্রাটি ক্যাম্পাসের ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা বৈশাখী চত্বরে গিয়ে পৌঁছে। সকাল ৯টার দিকে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাধনের’ সুসজ্জিত শোভাযাত্রাটি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করে। সেখানে ছিল রংরেঙের সাজ পোশাক, হাতে ধরা ব্যানার, উঁচিয়ে রাখা ফেস্টুন ভরা নানা রকম কথামালা আর নাচ-গানে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার আনন্দ। বাঁধন প্রতি বছরই এ রকম শোভাযাত্রা বের করে। তবে এবারের ব্যতিক্রম ছিল আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের এক রকমের পোশাকের বৈশাখী শোভাযাত্রাটি। ভুবুজেলার শব্দ আর তরুণ কণ্ঠের চিৎকারে আশপাশের লোকজনকে জানান দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল শোভাযাত্রাটি। বৈশাখী চত্বরে গিয়ে দেখা মিলল টুকরো টুকরো কিছু বাঙালিয়ানার চিত্র। সাজে, পোশাকে, খাবারে আর রঙে! পান্তা-ইলিশ ছাড়াও দেশীয় পিঠা-পুলি নিয়ে স্টল বসিয়েছে অনেকেই। বৈশাখী চত্বরেই বসে গানের আসর, ছোট্ট সোনামণিদের আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। উপাচার্য মোঃ আলী আকবর এবং সহ-উপাচার্য মো. জসিমউদ্দিন খান বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘টিম ভ্যালেন্টাইনদের’ কথা না বললেই নয়। বৈশাখের এ আনন্দে সুবিধা-বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে খাওয়া-দাওয়া, ঘুরাঘুরি আর আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন তাঁরা। বিকেলের ঘুড়ি উড়ানো আর সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বর্ষবরণের দিন শিক্ষার্থীদের মনে অন্য রকম এক ভালোলাগার জন্ম দিয়েছিল।

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নি¯œানে সূচী হোক ধরা’-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। শোভাযাত্রা শেষে ‘বাংলা মঞ্চে’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তপন কুমার রায় ও শিক্ষার্থী সারজিনা আক্তার দিপার সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীরা নৃত্য, গান, আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক প্রফেসর আবুল আহসান চৌধুরী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে সারা বাংলায় যে প্রাণচাঞ্চল্য উৎসব উৎসারিত হয়ে থাকে তা সম্পূর্ণভাবে অসাম্প্রাদায়িক চেতনায় লালিত। বাঙালীর বাংলা নববর্ষ, মহান ভাষা আন্দোলন মহান মুক্তিযোদ্ধা এই তিনটি অনুষ্ঠানের সঙ্গে কোন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, সাম্প্রদায়িকতা, অনুদারিতা, গোষ্ঠীবদ্ধতার সম্পর্ক নেই। বাংলায় নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস যথেষ্ট প্রাচীন। বাংলায় নববর্ষ মূলত গ্রামীণ উৎসব। গ্রাম বাংলার মানুষের প্রাণের উৎসব। এই উৎসবের সঙ্গে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক কর্মকা- অপরদিকে সাংস্কৃতিক কর্মকা- যুক্ত রয়েছে। তবে আত্ম উপলব্ধির বিষয় যে, গ্রামীণ মানুষের নববর্ষের চেতনা নগরবাসীর হাতে এসে কিছুটা বিকৃত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি পান্তা ইলিশ খাওয়ার প্রয়াসকে সমর্থন করি না। এর ভিতরে ধনী-গরিবদের একটি বৈপরীত্য রয়েছে। এটি গ্রামীণ মানুষকে অবজ্ঞা করার শামিল।’

তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা উপলক্ষে ৫০টি স্টল বরাদ্দ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হঠাৎ চোখ যায় একটি স্টল ঘিরে ভিড়ের দিকে। বায়োস্কোপ নিয়ে হাজির হয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান ও তার বন্ধুরা। তবে আনন্দের সঙ্গে থেমে নেই কিন্তু মানবতা! রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অসুস্থ শিক্ষার্থী আলামীনের সহায়তায় তার বন্ধুরাও স্টল দিয়েছে মেলাতে। বৈশাখী মেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও ছিল চমকপ্রদ। প্রথম দিনে মঞ্চস্থ হয় বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার প্রযোজিত ‘জাকির মামার বাকির খাতা’ নাটকটি। দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয় বাঙালী সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। দর্শনা, ভেড়ামারা, বিপুল বাড়িয়াসহ পাঁচটি স্থান থেকে আগত ৭০ জনের অধিক লাঠিয়ালের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় লাঠি নৃত্য, লাঠি ফাইট, ঝাকের নৃত্যসহ নানা রকমের ঐতিহ্যবাহী খেলা। মেলার তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী কাহিনী সমৃদ্ধ যাত্রাপালা ‘মুঘলে আজম’। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগ ও হলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মেতে ওঠ্্ে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ পার্শ্ববর্তী প্রায় কয়েক হাজার মানুষ। মেলায় ঘুরতে আসা সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রিয়া বলেন, ‘এখানে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। বন্ধুদের সঙ্গে লাঠি খেলা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেছি।’

হাবিপ্রবির আনন্দ উদযাপন

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা প্রদক্ষিন করে গোটা ক্যাম্পাস। নববর্ষ উপলক্ষে ক্যাম্পাসে মোট ২৫টি স্টলের মধ্যে বিদেশী শিক্ষার্থীদের স্টলটিতে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিদেশী শিক্ষার্থীরা নিজ দেশের জাতীয় পোশাক পরে নিজস্ব খাবার পরিবেশন এবং নিজস্ব ঐতিহ্যকে প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের স্টলকে সজ্জিত করে। সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ সকলকে তারা তাদের স্টলে স্বাগত জানায় এবং তাদের দেশীয় খাবার পরিবেশন করে সকলকে আপ্যায়ন করে। কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নেপালের শিক্ষার্থী দীপক কুমার সাহা জানান, বাংলা নববর্ষ আমরা সবাই মিলে উদযাপন করেছি। আমরা খুব আনন্দ করেছি। দিনটিতে মনে হয়েছে আমি নিজ দেশে কোন জাতীয় উৎসব পালন করছি। ভেটেরিনারি এ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদের সোমালিয়ান শিক্ষার্থী নূর আব্দি হাসান জানান, আমি এখানে ৩ বছর থেকে লেখাপড়া করছি। প্রতিবছর বাংলা নববর্ষ পালন করি। বাংলা নববর্ষ উদযাপন দিনটি আমার ক্যাম্পাস জীবনের স্মরণীয় একটি দিন। বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ভুটানের শিক্ষার্থী উগেন বাংলা নববর্ষের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, বাংলা নববর্ষের উৎসব আমরা খুব ভাল লেগেছে। ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে অনেক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেছি। দেশে গিয়ে আমার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনকে দেখাব। বর্তমানে দেশের ৩৭ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অধিক সংখ্যক বিদেশী শিক্ষার্থী হাবিপ্রবিতে লেখাপড়া করছে। হাবিপ্রবিতে অধ্যয়নরত ২০১ জন বিদেশী শিক্ষার্থীর মধ্যে সোমালিয়া, নেপাল, ভারত, ভুটান, জিবুতী ও নাইজিরিয়ার শিক্ষার্থী রয়েছে।

বৈশাখী মেলা শেষ হয়ে গেলেও তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শত বছরের এই উদযাপনকে একটি কথাতেই বলতে হয় ‘শত বর্ষের অন্তপ্রাণ, ঐতিহ্যের জয়গান।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

বর্ষবরণের উৎসবে পিছিয়ে ছিল না বরেন্দ্রভূমির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এবারও বর্ণিল আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ। নতুন আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গল শোভাযাত্রা, গান, কবিতা, যাত্রা, নাটকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনের নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে বরণ করা হয় নতুন বছরকে। বছরের নতুন দিনের শুরুতে শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢাকে বাড়ি দিয়ে বর্ষবরণ উৎসবের উদ্বোধন করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভিন্ন বিভাগ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। ঢাক-ঢোল, ভুঁভুজেলা, পালকি, নৌকা, মুখোশ, ফেস্টুন, ব্যানারে নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মহানন্দে ক্যাম্পাসজুড়ে শোভাযাত্রা করে। কৃষক, জেলে, সাপুড়ে, বেদেসহ বিভিন্ন সাজে সাজেন শিক্ষার্থীরা। কেউ বা আবার সাজেন বউ-জামাই ও ঘটক। শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীদের রং-বেরঙের সাজ আর নানা কীর্তি-কিচ্ছা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে দিয়েছিল আবহমান গ্রামবাংলার এক টুকরো বর্ণিল ঝলক।

ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল তরুণদের রঙিন উপস্থিতি। ছেলেদের গায়ে হরেক রঙের পাঞ্জাবী, মেয়েদের পরনে লাল-সাদা শাড়ি আর মাথায় ফুল। গালে নকশা আঁকা। আবাল থেকে বৃদ্ধ, সকলেই ছিল রঙীণ। কর্মব্যস্ত জীবনে একটু খানি উৎসবের অবসর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন দর্শনার্থীরা এসেছিলেন বর্ষবরণ উদযাপনে মেতে উঠতে। অনেকে আবার রাবির বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজনে এসেছেন প্রথমবার।

শীর্ষ সংবাদ:
এখন অপার সম্ভাবনা ॥ এক সময়ের অবহেলিত, বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চল         রায়ার ইচ্ছা পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী         পেঁয়াজ আতঙ্ক কেটে গেছে, কেনার হিড়িক নেই         এটিএম জালিয়াতি কমেছে         পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দিয়ে এক নারী হাতিয়েছে ৩০ কোটি টাকা         করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে, বেড়েছে সুস্থতা         করোনা শনাক্তে এ্যান্টিজেন ও এ্যান্টিবডি টেস্ট চালুর পরামর্শ         টিকা থেকে মাস্ক বেশি কার্যকর ॥ সিডিসি         ভারি বৃষ্টি উজানের ঢল- ধরলার পানি বিপদসীমার ওপরে         করোনা উপসর্গে ঝালকাঠিতে গৃহবধূর মৃত্যু         অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে মাদক পাচার, সেবন         আল্লামা আহমদ শফী আর নেই         পেঁয়াজ ভর্তি ট্রলার ভিড়েছে টেকনাফে         অর্থনৈতিক উন্নয়ন বেগবানে ৩৪ হাজার কোটি টাকার ফান্ড ঘোষণা এডিবির         করোনা ভাইরাসে আরও ২২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৫৪১         করোনা ভাইরাস ॥ বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ছাড়াল সাড়ে ৯ লাখ, আক্রান্ত ৩ কোটির বেশি         অ্যাটর্নি জেনারেলের অবস্থার অবনতি, আইসিউতে স্থানান্তর         করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় কারিগরি কমিটির ৭ পরামর্শ         বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের নয় তিনি সারা বিশ্বের সম্পদ ॥ খাদ্যমন্ত্রী         ভিডিও কলে কথা বলে কিশোরীর ইচ্ছা পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী