হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ৮ ফাল্গুন ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সাইবার নিরাপত্তা

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

আর এক বছর পর বাংলাদেশ ডিজিটাল দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। দেশে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা বাড়ছে দিন দিন। একই সঙ্গে বেড়ে চলেছে মানুষের নিত্যদিনের প্রযুক্তির ব্যবহার। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপব্যবহারের মাত্রা। আরও বাড়ছে সাইবার আক্রমণের পরিমাণও। বর্তমান বিশ্বে প্রতিদিনই কোন না কোন প্রতিষ্ঠান সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছে। ব্যাকিং খাতে সাইবার প্রযুক্তি চালু হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী প্রতিদিনই অনেক অঘটন ঘটছে। খোদ বাংলাদেশের তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে সংঘটিত এটিএম জালিয়াতি কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা জানান দেয়, পুরো বাজার ও ব্যাংকিং খাত হুমকির মুখে রয়েছে। অর্থ হাতিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ ব্যবহারকারীরাও সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। আজকের বিশ্বে তথ্য পদ্ধতি ও নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা একটি অধিকার ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তার গুরুত্ব অনুধাবন করে সব উন্নত দেশ সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিচ্ছে যেখানে, সেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলো এ অধিকার নিশ্চিত করার বিষয় থেকে এখনও অনেক দূরে। দেশে অনলাইন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সাইবার অপরাাধ। তাই এ অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমের ব্যাপক প্রসারের ফলে এই অপরাধের মাত্রা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে নারী সংক্রান্ত বিষয়ে সাইবার অপরাধের মাত্রা বেশি। তথ্যপ্রযুক্তির অস্বাভাবিক উন্নতি সত্ত্বেও দেশের এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার উপযুক্ত কার্যকর সক্ষমতা যে তৈরি হয়নি, তা স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের কোন বিকল্প এখনও দাঁড়ায়নি। ইন্টারনেট খুলে দিয়েছে সব বন্ধ দরজা। এখন বিশ্ব চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতে যুগান্তকারী উন্নয়ন নিজেদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এসেছে বৈকি। তবে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ সংক্রান্ত নয়া কোর্স চালু করা প্রয়োজন হলেও কোথাও কোন উদ্যোগ নেই। প্রতিষ্ঠা হলে নয়া প্রজন্ম সাইবার এবং তথ্য নিরাপত্তা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে তা দেশের আইসিটি অবকাঠামো গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। এক্ষেত্রে বিলম্ব ক্ষতির কারণ হতে পারে। ডিজিটাল নিরাপত্তার সার্বিক বিষয়টি উপলব্ধি করা না গেলে ভবিষ্যতে আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে ব্যাংক, বিদ্যুত বিভাগসহ অন্যান্য খাতে। তথ্যপ্রযুক্তির দুর্বল নিরাপত্তা অবকাঠামোগত কারণে বড় ধরনের সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের আর্থিক খাত। সর্বক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম জোরদার করলেও এর জন্য নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন প্রয়োজন। কিন্তু সেদিকে খেয়াল নেই। ফলে সর্বত্র পুরনো প্রযুক্তিই থেকে যাচ্ছে। বিদ্যুত খাত ডিজিটাল হলে তার সাইবার নিরাপত্তার দিকটি যেন অবহেলিত না হয়, সেদিকে সতর্কতা দরকার। দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্দীর বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে আগামীতে কারাগারে রেখেই চলবে পুরো বিচারকাজ।

সাইবার হামলা মোকাবেলায় যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিগত মজবুত নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে তুলতে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসূচী গ্রহণ জরুরী। শুধু প্রতিষ্ঠানের নয়, ব্যক্তি পর্যায়েও ডিজিটাল ডিভাইস, যেমনÑ কম্পিউটার, স্মার্টফোন এসব ব্যবহারে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরী।

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

১৮/০২/২০১৭ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: