সোমবার ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

দোতলা ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার পাচ্ছে বেতাগীর খুদে শিক্ষার্থীরা

  • প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিজের জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের কথা জানিয়ে এক ছাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেয়ার পর দোতলা ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার পাচ্ছে বরগুনার বেতাগীর জলিশাহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই বিদ্যালয়েরই পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র মাইনুল ইসলাম স্কুলের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে গত ২৯ ডিসেম্বর রাজধানীতে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি লিখিত আবেদন তুলে দেয়।

উপস্থিত বক্তৃতায় জাতীয় পর্যায়ের তৃতীয় পুরস্কার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিতে ঢাকায় এসেছিল শিশু মাইনুল। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার সাংবাদিকদের জানান, বর্ষার সময় স্কুলে পানি ওঠার কথা জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে ওই শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীকে একটি কাগজ দিয়েছিল। মাইনুল চিঠিতে লিখেছে, ‘বিদ্যালয়টি বেড়িবাঁধের বাইরে ব্যারের ডোন নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় প্রতি বছর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। যার ফলে আমাদের দৈনন্দিন লেখাপড়া ও খেলাধুলা করতে কষ্ট হয়। আপনার কাছে আমার বিনীত প্রার্থনা, যাতে আমরা অতি শীঘ্রই একটি দ্বিতল ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার পেয়ে উন্নত পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারি তার বিহীত বিধানে মর্জি হন।’

ওই চিঠির সঙ্গে শ্রেণীকক্ষে ঢুকে যাওয়া পানির মধ্যে বেঞ্চে বসে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করার একটি ছবি এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানিতে শিক্ষার্থীদের বই নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার তিনটি ছবিও জুড়ে দেয় মাইনুল। মাইনুলের চিঠি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী জলিশাহাট স্কুলের জন্য জরুরীভিত্তিতে ‘দ্বিতল ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার’ নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে বলেছেন জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে চিঠি দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ওই চিঠি পেয়ে ভবন নির্মাণের নির্দেশনা দিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে চিঠি দেয় গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের তাৎক্ষণিকভাবে দ্বিতল ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের সুযোগ আছে। সেখানে (ওই বিদ্যালয়ে) যা যা করার করব, শুষ্ক মৌসুমেই কাজ শেষ করা হবে। ওই স্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শীঘ্রই স্কুলে ভবন তৈরি হবে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দেশে আর কোন জরাজীর্ণ স্কুল থাকবে না বলেও ঘোষণা দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী।

শীর্ষ সংবাদ: