ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

বিজয়ের মাস

প্রকাশিত: ০৬:১৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬

বিজয়ের মাস

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বীর বাঙালী। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলই কার্যত স্বাধীন। বিশ্বের মানচিত্রে ৫৫ হাজার বর্গমাইলের দেশটি জন্মের ঠিক আগ মুহূর্তে পাক হানাদারদের পক্ষে নগ্ন হয়ে মাঠে নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। প্রভাবশালী এই দুটি দেশ পাকিদের পরাজয় ঠেকাতে মরিয়া। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে এ দুটি দেশের শেষ চেষ্টা আবারও ব্যর্থ হয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের দীর্ঘ বক্তব্যের পর অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়। স্বাধীনতার পথে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যায়। ১২ ডিসেম্বর, ১৯৭১। একাত্তরের রক্তঝরা এ দিনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুল হাসান টেলিফোন করে জেনারেল নিয়াজীকে আশ্বস্ত করেন, ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ উভয়দিক থেকে বন্ধুরা এসে পড়বেন। গুল হাসানের কাছ থেকে এ আশ্বাস শুনে ঢাকায় পাকিস্তানী সামরিক কর্তৃপক্ষ নিজেদের প্রতিরক্ষার আয়োজন নিরঙ্কুশ করতে ২৪ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালায়। এ সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এ দেশীয় দোসর আলবদর বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সহানুভূতিশীল পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের আটক ও হত্যা শুরু করে। চীন এ সময় পাকিস্তানী ঘাতকদের সমর্থনে পুরোপুরি অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আজকের দিনে পিকিং রেডিও ঘোষণা করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের মাধ্যমে মূলত চীনকেই দমন করতে চায়। বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারকেই ভারতের মাধ্যমে ‘তথাকথিত’ বাংলাদেশ সমর্থনের অন্যতম কারণ। এছাড়াও আজকের এ দিনে চীনা প্রতিনিধি হুয়াং হুদা নিউইয়র্কে আলেকজান্ডার হেগকে জানান, চীন কেবল আরেকবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আগ্রহী। উপমহাদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। কিন্তু চীন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতসহ মিত্র দেশগুলো। চারদিকে শুধুই মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়, আর পাক হানাদারদের পরাজয়ের খবর। একাত্তরের এদিনে গাইবান্ধা, নরসিংদী, সরিষাবাড়ী, ভেড়ামারা, শ্রীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা শত্রুমুক্ত হয়। ঢাকাবাসী এ সময় রয়েছেন অভীষ্ট আনন্দ আর অজানা আশঙ্কার এক অদ্ভুত দোলাচলে। অতি কট্টোর পাকিস্তান সমর্থকরাও এখন আর দেশটির অখ-তা সম্পর্কে বড় কথা বলার সাহস দেখাচ্ছে না। স্বাধীনতার ওই মাহেন্দ্রক্ষণটি কখন আসবে তা দেখতে অধির অপেক্ষায় ঢাকাবাসী। এদিকে ঢাকা বিজয় করতে চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী ঘেরাও করে ফেলে। ডিসেম্বরের এ দিন বিকেলেই ভারতের চার গার্ডস ইউনিট ঢাকার ডেমরাঘাটের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে যায়। সূর্যাস্তের আগেই জামালপুর ও ময়মনসিংহের দিক থেকে জেনারেল নাগরার বাহিনী টাঙ্গাইলে প্যারাস্যুট ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ফলে ঢাকা অভিযানের সর্বাপেক্ষা সম্ভাবনাপূর্ণ পথের ব্যবহার শুরু করা সম্ভব হয়ে ওঠে। এদিকে দেশের বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলা ও যৌথবাহিনীর ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে ভীতসন্ত্রস্ত পাকিস্তানী বাহিনী বিভিন্ন এলাকার ক্যাম্প ছেড়ে পালাতে থাকে। নিজ ভূমির সার্বভৌমত্ব ও পৃথক একটি পতাকার জন্য তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আপামর জনসাধারণ মরিয়া হয়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় সরকারের অন্তহীন বৈষম্য আর নিপীড়নের বন্দীদশা থেকে মুক্ত হওয়ার দুর্বার আন্দোলনের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে গেছে বীর বাঙালী। এদিন বঙ্গোপসাগর থেকে ২৪ ঘণ্টার দূরত্বে মার্কিন সপ্তম নৌবাহিনী নিশ্চল দাঁড়িয়েছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ততদিনে পাকিস্তানী বাহিনী পালিয়েছে। অধিকাংশ অঞ্চলই তখন কার্যত স্বাধীন হয়ে পড়ে। আর ঢাকার বিজয় নিশ্চিত করা তখন শুধু সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২

শীর্ষ সংবাদ:

রাজধানী থেকে বিভিন্ন রুটের ভাড়ার তালিকা প্রকাশ
৫০ শতাংশ পর্যন্ত লঞ্চভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব
খোলাবাজারে আজ ডলারের দাম ১১৫ টাকা
টর্চার সেলের সন্ধান, উদ্ধার ৪, আটক ১১
স্বর্ণ ফেরত দিয়ে ৮৫ শতাংশ টাকা পাবেন ক্রেতারা
নতুন দল নিবন্ধনে সময় আর ২১ দিন
মন্ত্রী পদমর্যাদা পাচ্ছেন ঢাকার দুই মেয়র
প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন মেয়র আইভী
জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
গণপরিবহনে সাড়ে ৫ বছরে ৩৫৭ জন ধর্ষণের শিকার
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে
দেশে করোনায় মৃত্যু আরও ৩, শনাক্ত ২৯৬
অবৈধ মজুদ রাখা ১২ হাজার বস্তা সার ও ২টি ট্রাক আটক
বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু
আরও ৭৯ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি
সেপ্টেম্বরের মধ্যেই জ্বালানী সংকট কেটে যাবে: তোফায়েল আহমেদ
গম-ভুট্টা চাষিরা কম সুদে পাবেন ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ
কালো টাকা বৈধভাবে দেশে আনার উপায়
রতনের দিনে হেলপারি, রাতে গাড়িতে ডাকাতি