ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

প্রবীণ রাজনীতিক অজয় রায় পরলোকে

প্রকাশিত: ০৫:২২, ১৮ অক্টোবর ২০১৬

প্রবীণ রাজনীতিক  অজয় রায়  পরলোকে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আমৃত্যু সংগ্রামী নেতা সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি ও সাম্প্রদায়িকতা জঙ্গীবাদ-বিরোধী মঞ্চের সমন্বয়ক অজয় রায় আর নেই। দীর্ঘ ৬ মাস যাবত নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর ৫টায় ধানম-ির নিজ গৃহে তিনি শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি স্ত্রী জয়ন্তী রায়, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। অজয় রায়ের মরদেহ বারডেম হাসপাতালের মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে। আগামী ১৯ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। পরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রামে নিজ ভিটায় তার শেষকৃত সম্পন্ন হবে। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিয়া উদ্দিন তারেক আলী ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ এক শোক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি অজয় রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আজীবন ত্যাগী, নিভৃতচারী অজয় রায়ের মৃত্যুতে দেশবাসী একজন খাঁটি দেশপ্রেমিককে হারাল। আমরা প্রয়াত নেতার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। কমরেড অজয় রায় ১৯২৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রামে। বাবা প্রমথনাথ রায় বারানসী বিশ^বিদ্যালয়ের ইংরেজী ভাষার অধ্যাপক ছিলেন। মা কল্যাণী রায়। কমরেড অজয় রায় স্কুলের ছাত্র থাকাবস্থায়ই ভারতীয় কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৪২ সালে কংগ্রেসের ভারত ছাড় আন্দোলনের এক পর্যায়ে স্কুল ছাত্র ধর্মঘট ডাকা হলে অজয় রায় উদ্যোগী হয়ে তা সংগঠিত করেন। ১৯৪৩ সালে বাংলায় ভয়াবহ মন্বন্তর দেখা দিলে দুর্ভিক্ষ ও মহামারী প্রতিরোধে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কমিউনিস্ট পার্টি। বারানসীতে কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে ত্রাণ সংগ্রহ কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন কমরেড অজয় রায়। ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগ ও পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৪৮ সালে কমিউনিস্ট পার্টি সশস্ত্র সংগ্রামের সিদ্ধান্ত নিলে সেই স্লোগানের ভিত্তিতে ওই বছরের ডিসেম্বরে ছাত্র সম্মেলন করতে গিয়ে অজয় রায় গ্রেফতার হন। ১৯৫৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হলে তিনি ন্যাপে যোগ দেন এবং ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে তিনি আবারও আত্মগোপনে যান। কিন্তু ১৯৬০ সালে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার হন। মুক্তি পান ১৯৬৫ সালের জুলাই মাসে। ওই বছর পাক-ভারত যুদ্ধ লাগলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা শুরু হলে অজয় রায় দেশরক্ষা আইনে আবারও গ্রেফতার হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি মুক্তি পান। কিন্তু সে বছর ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসন জারি হলে নবেম্বর মাসে অজয় রায় আবারও গ্রেফতার হন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ২৮ মার্চ ময়মনসিংহে ইপিআর ছাউনি ঘেরাও করে জনগণ ছয়জন পাঞ্জাবী সৈনিককে জেলে ঢুকিয়ে অজয় রায়কে মুক্ত করে আনেন। মুক্তি পেয়েই ওই অঞ্চলে তিনি মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ময়মনসিংহ শহরের মহাখালী স্কুলে, পরে কিশোরগঞ্জকে ভিত্তি করে এবং জুলাই মাসের শেষভাগে প্রথমে আগরতলা ও পরে কলকাতা হয়ে মেঘালয়ের বারেংগাপাড়ায় স্থাপিত ক্যাম্পকে ভিত্তি করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২