ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

রানের রেকর্ডে অনন্য উচ্চতায় এই কৃতী ব্যাটসম্যান

বাংলাদেশের প্রথম ৯ হাজার তামিমের

প্রকাশিত: ০৬:৫৪, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬

বাংলাদেশের প্রথম ৯ হাজার তামিমের

মোঃ মামুন রশীদ ॥ সময় মানুষকে সুস্থির ও অভিজ্ঞতায় পুষ্ট করে পরিণত হিসেবে গড়ে তোলে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলের অন্যতম অপরিহার্য ওপেনার হিসেবে খেলেছেন তামিম ইকবাল। ২০০৭ সালে অভিষেক হওয়ার পর থেকে ইনজুরির কারণ ব্যতীত কখনও দল থেকে বাদ পড়েননি এ ২৭ বছর বয়সী বাঁহাতি। ব্যাট হাতে ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন গেলেও তার জায়গা ঠিকই ছিল। ধীরে ধীরে যেন আরও পরিণত ব্যাটসম্যান হয়ে উঠছেন দেশের সর্বকালের সেরা এ ওপেনার। আগে ধারাবাহিকতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠলেও গত বছরটা দুর্দান্ত কেটেছে তামিমের। ১৮ ম্যাচে করেছিলেন ৭৪২ রান ৪৬.৩৭ গড়ে। চলতি বছর কোন ওয়ানডেই খেলেনি বাংলাদেশ দল রবিবারের আগ পর্যন্ত। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বছরের প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমেই আবার ব্যাটিং ঝলক দেখালেন তামিম। আফগান বোলিংয়ের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত খেলে ৯৮ বলে ৮০ রানের একটি ইনিংস খেলে বিদায় নিয়েছেন। তবে এর মাধ্যমে তিনি এক উচ্চতায় উঠেছেন যা আর কোন বাংলাদেশী ক্রিকেটার করে দেখাতে পারেননি। তিন ফরমেট মিলিয়ে তামিম ৯ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়েছেন। গত বছরটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যই ছিল সাফল্যে মোড়ানো। কোন ওয়ানডে সিরিজ হারেনি, বরং ক্রিকেট পরাশক্তি পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে টানা তিনটি সিরিজে হারিয়ে দিয়েছে। আর এমন গৌরবময় সাফল্যের পেছনে তামিমের ব্যাট দারুণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি গত বছর ১৮ ওয়ানডে খেলে ২টি সেঞ্চুরি ও ৫টি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। বর্তমানে তিনি ওয়ানডে, টেস্ট এবং টি২০ ক্রিকেটে দেশের পক্ষে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক। এমনকি ওয়ানডে ও টেস্টে দেশের পক্ষে সর্বাধিক শতক হাঁকানো এবং টি২০ ক্রিকেটে একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্যাটসম্যান এ বাঁহাতি ওপেনার। ক্রমেই যেন আরও পরিণত ও ধারাবাহিক হয়ে উঠছেন তিনি। গত বছর ব্যাট হাতে যে উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন সেটা অব্যাহত থাকল বাংলাদেশ দলের বছরের প্রথম ওয়ানডেতেই। বিরল একটি কৃতিত্ব গড়া থেকে মাত্র ১৫ রান দূরে ছিলেন তিনি। আফগানদের বিরুদ্ধে নামার আগে তিন ফরমেটের ক্রিকেট মিলিয়ে তামিমের রান ছিল ৮,৯৮৫। শুরুতেই সঙ্গী সৌম্য সরকারকে হারিয়ে ফেললেও বেশ স্বস্থির ও মনোযোগী ছিলেন তামিম ব্যাটিংয়ে। এ সিরিজের আগে প্রায় তিন সপ্তাহ অনুশীলন করতে পারেননি আঙ্গুলেরে ইনজুরির কারণে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা নিয়েই ছিল সংশয়। সেটা কাটিয়ে উঠে দারুণ একটি ইনিংস উপহার দিলেন। আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ইনিংসের তৃতীয় ওভারের শেষ বলে দৌলত জাদরানের বলে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ দিয়ে ফ্লিক করে চার হাঁকান তামিম। এর মধ্য দিয়েই নতুন এক চূড়ায় উঠে যান তিনি। যেখানে আর কোন বাংলাদেশী উঠতে পারেননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মালিক হয়ে গেলেন তিনি। ৪২ টেস্টে ৭ সেঞ্চুরি ও ১৮ হাফসেঞ্চুরিসহ তামিম ৩৯.৪৬ গড়ে করেছেন ৩১১৮ রান। যা দেশের পক্ষে টেস্টে সর্বাধিক রান ও শতকের কৃতিত্ব। আর ৫২ টি২০ ম্যাচে তিনি ২৪.৫৫ গড়ে করেছেন ১১৫৪ রান। এটিও ক্ষুদ্র ফরমেটের ক্রিকেটে কোন বাংলাদেশীর পক্ষে সর্বাধিক। ওয়ানডে ক্রিকেটেও আগেই তিনি দেশের পক্ষে সর্বাধিক রানের মালিক ছিলেন। তিন ফরমেট মিলিয়ে অনন্য নজির ৯ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েও থেমে থাকেননি তামিম। দারুণ ব্যাটিং করেছেন। খেলেছেন নিñিদ্র একটি ইনিংস। ক্যারিয়ারের ৩৩তম অর্ধশতক পেয়ে যান। অর্ধশতক হাঁকানোর পরেও সাবলীলভাবেই ব্যাট চালাচ্ছিলেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরির দিকে। গত বছর ১১ নবেম্বর বাংলাদেশ সর্বশেষ ওয়ানডে খেলে জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। সাড়ে ১০ মাস পর আবারও ওয়ানডে খেলতে নামা বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ছিল শঙ্কা। হয়ত ছন্দহীনতা দেখা দেবে। কিন্তু তামিম যেভাবে ব্যাট করলেন মনে হল যেন দু’দিন আগেও আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেছেন। যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই একই ছন্দে শুরু করলেন তামিম। ৯৮ বলে ৯ চার হাঁকিয়ে ৮০ রান করেন তিনি। শতকটা পেলে ছাড়িয়ে যেতেন সাকিবকে। ওয়ানডেতে বর্তমানে ৬ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে এ দু’জনই আছেন বাংলাদেশের পক্ষে শীর্ষে। এককভাবে ওয়ানডে সেঞ্চুরির শীর্ষস্থানটা হয়ে যেত তামিমের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিরওয়াইস আশরাফের বলে লং অফে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তামিম। এর আগেই দ্বিতীয় উইকেটে ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ৮৩ ও তৃতীয় উইকেটে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ৭৯ রানের জুটি গড়ে দলকে দারুণ একটা ভিত গড়ে দেন।