সোমবার ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ নভেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

সঙ্কট মোকাবেলায় আসুন সবাই এক সঙ্গে বসি ॥ এরশাদ

  • জাতীয় পার্টির সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, সরকারের কাছে আবার আবেদন করি, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদসহ জাতীয় সংকট মোকাবেলায় আসুন সবাই এক সঙ্গে বসি, আলোচনা করি। আলোচনার মাধ্যমে একটা সুরাহা করি। পৃথিবী দেখুক আমরা এক সঙ্গে বসতে পারি। সবাইকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, সংকট মোকাবেলায় এর কোন বিকল্প নেই।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, আমরা যারা সংসদ সদস্য আছি, তাদের উচিত জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা। আমি বলব, সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এরশাদ বলেন, সারা দেশ রক্তে ভাসছে। সস্ত্রাসী কর্মকা- একটি দলের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এর পরিধি বিস্তৃৃতি লাভ করেছে। আমরা রক্তে ভেজা নয়, বৃষ্টির দেশ চাই। শান্তির বৃষ্টিতে ভিজতে চাই।

এরশাদ বলেন, আমি আবার ডাকছি, আহ্বান করছি, আসুন সবাই এক সঙ্গে বসি। পৃথিবীর মানুষ দেখুক, আমরা এক সঙ্গে আছি, এক সঙ্গে সংঘবদ্ধ হয়েছি। এখানে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের মানুষকে বাঁচাতে হবে। মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। সেজন্য ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত শান্তি ফিরে না আসবে ততদিন পর্যন্ত জাতীয় পার্টির সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ চলতে থাকবে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে আমি জনগণের কাছে যাব। শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেব। কিন্তু এটা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এখানে সরকার সহযোগিতা করতে হবে।

সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ সারা বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মানুষ আতঙ্কিত। এমন বাংলাদেশ তো আমরা চাইনি। আজ কোথাও শান্তি নাই। তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাসী হামলা করেছে, তারা জেএমবি, আনসারুল্লাহ নয়, তারা ইউনিভার্সিটির ছাত্র। সবচেয়ে বিপজ্জনক হচ্ছে, তারা আত্মঘাতী। তারা জীবন দিতে এসেছে। এ ধরনের ঘটনা আগে বাংলাদেশে ঘটেনি। যারা জীবন দিতে পারে, জীবন নিতেও পারে। আমাদের সরকারকে বুঝতে হবে, কেন শিক্ষিত ছাত্ররা, ধনীর দুলালরা অস্ত্র হাতে নিয়েছে। কী কারণে তাদের মনে অশান্তি সৃষ্টি হলো। কী কারণে তারা এতজন বিদেশীকে হত্যা করল। এ জন্য বেকারত্বকেও দায়ী করেন এরশাদ।

তিনি আরও বলেন, যারা বেকার তারা সমাজের বোঝা, পরিবারের বোঝা। সরকারের পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। এ কারণে তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এই সুযোগে এ ধরনের প্রতিহিংসার মধ্যে তারা ঢুকেছে। আত্মঘাতী হচ্ছে।

এরশাদ বলেন, ‘আমি সংসদে বলেছিলাম, আসুন আলোচনা বসি। যেসব লোক শান্তিতে বিশ্বাস করে, সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। আগুন-জ্বালাও পোড়াওয়ে বিশ্বাস করে না। তাদের নিয়ে একসঙ্গে বসে আলোচনা করি। এ সঙ্কট থেকে সুরাহা বের করি। এখন পর্যন্ত আমরা বসতে পারিনি। কাজটা করতে হবে সরকারকে। সরকার ভালভাবে কাজটা করতে পারেনি। আমি বলব-সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।’

এ সময় তিনি তার সময়কালের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে জঙ্গী হামলার ঘটনার পর থেকেই জাতীয় ঐক্য ও সংলাপে বসার তাগিদ দিয়ে আসছেন সাবেক সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে প্রথমে এ মত প্রকাশ করেন তিনি। এরপর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঐক্য ও সংলাপের আলোচনা শুরু হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ: