ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

আবারও মঞ্চে রবীন্দ্রনাথের ‘চিত্রাঙ্গদা’

প্রকাশিত: ০৪:০৭, ২৬ জানুয়ারি ২০১৬

আবারও মঞ্চে রবীন্দ্রনাথের ‘চিত্রাঙ্গদা’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকার মঞ্চে অন্যতম নন্দিত নাট্য সংগঠন স্বপ্নদলের গবেষণাধর্মী প্রযোজনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্রাঙ্গদা’। নাটকটির ৪০তম মঞ্চায়ন হবে আগামী ২৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। ‘চিত্রাঙ্গদা’র গবেষণাগার নাট্যরীতিতে নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন- সুকন্যা, মিতা, মোস্তাফিজ, রেজাউল, শিশির, সামাদ, জেবুন্নেছা আলো, রিমু, নাবলু, তানভীর, শাহীন, হিটলার, মাধুরী, মাসুদ, তানিয়া, জুঁই, আলী, সাইদ, বিপুল, জুয়েনা, তীর্থ প্রমুখ। নাটকের গল্পে তুলে ধরা হয়েছে নারীর আত্মঅধিকার প্রেরণার স্মারক। ‘চিত্রাঙ্গদা’র নাট্যকাহিনীতে উপস্থাপিত হয়- মহাবীর অর্জুন সত্যপালনের জন্য একযুগ ব্রহ্মচার্যব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছেন। মণিপুরের রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন ও যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। অর্জুন এবার যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। কিন্তু অর্জুনকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর্দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকেÑ অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে? অতঃপর চিত্রাঙ্গদার আত্মদ্বন্দ্ব আর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে এ সত্য উপলব্ধি করা যায় যে, বাইরের অবয়বের চেয়ে নারী-পুরুষের চারিত্রশক্তি অনেক বেশি মূল্যবান এবং এতেই প্রকৃতপক্ষে আত্মার স্থায়ী পরিচয়। পাশাপাশি এতে নারী-পুরুষের সম্মানজনক সহাবস্থান এবং এক্ষেত্রে পুরুষের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা প্রভৃতি প্রসঙ্গ যেভাবে এসেছে তার তুলনা সমগ্র বিশ্বশিল্প বা সাহিত্যে দুর্লভ! জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ ১৮৯২ সালে মাত্র একত্রিশ বছর বয়সে মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা উপাখ্যান রূপক ধরে আধুনিক সময়ে মানবের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছায়ারূপে রচনা করেন কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’। এর প্রায় চুয়াল্লিশ বছর পর ১৯৩৬ সালে তার পঁচাত্তর বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ রচনা করেন নৃত্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’, যেটি দেশ-বিদেশে অসংখ্য দলের মঞ্চায়নের মাধ্যমে সুপরিচিত। অন্যদিকে কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’ একটি দুরূহ ও অপ্রচলিত রচনা হিসেবে স্বীকৃত ছিল, এমনকি রবীন্দ্রনাথও কখনই এটি মঞ্চায়নে উদ্যোগী হননি। রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবর্ষে রচনার ১১৯ বছর পর ২০১১ সালে রবীন্দ্রনাথের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি-স্মারক প্রযোজনা হিসেবে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদানে স্বপ্নদলের প্রযোজনায়ই আধুনিক মঞ্চে প্রথম কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’র নিয়মিত মঞ্চায়ন সূচিত হয়। সেদিক থেকে স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি ইতিহাসের অংশ রূপেও বিবেচ্য। এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।