ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

অর্থায়নও নিশ্চিত হচ্ছে

শীঘ্র রামপাল ও পায়রা বিদ্যুত কেন্দ্রের দরপত্র চূড়ান্ত হবে

প্রকাশিত: ০৫:৩০, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫

শীঘ্র রামপাল ও পায়রা বিদ্যুত কেন্দ্রের দরপত্র চূড়ান্ত হবে

রশিদ মামুন ॥ রামপাল এবং পায়রা কয়লাচালিত বিদ্যুত কেন্দ্রের দরপত্র চূড়ান্ত হচ্ছে শীঘ্র। বহু বিতর্কের পরও রামপালে তিনটি আর কোন বিতর্ক ছাড়াই এগিয়ে চলা পায়রা বিদ্যুত কেন্দ্রে জমা পড়া একটি দরপত্র মূল্যায়ন চলছে। রামপালের দরপ্রস্তাব মূল্যায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যুত কেন্দ্রটির নির্মাণ ঠিকাদার হিসেবে কোন্ কোম্পানি কাজ পেতে যাচ্ছে তা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে পায়রা বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য জমা পড়া প্রস্তাব কারিগরি মূল্যায়ন চলছে। কারিগরি মূল্যায়নে উতরে গেলে কোম্পানিটির আর্থিক প্রস্তাব খোলা হবে। চীন এবং ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ বিদ্যুত প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। বিদ্যুত কেন্দ্র দুটির চারটি ইউনিট থেকে মোট দুই হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যাবে। এর মধ্য দিয়ে বৃহৎ পরিসরে দেশে কয়লাচালিত বিদ্যুত কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রটি বিডার্স ফাইন্যান্সে (কাজ পাওয়া কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ) নির্মাণ করা হচ্ছে। রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য জমাপড়া তিনটি দরপত্রেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বলছে তাদের দেশ থেকে বিদ্যুত কেন্দ্রটির নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দেবে। এতে বছরের মাঝামাঝি সময়ে রামপালে বিনিয়োগে অনাগ্রহ প্রকাশ করে ইউরোপের কয়েকটি ব্যাংক বিবৃতি দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে ওই সময় বলা হয় এসব ব্যাংকের কাছে সরকার রামপালে বিনিয়োগের কোন প্রস্তাব নিয়েই যায়নি। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সাইনোশিওর পায়রা বিদ্যুত কেন্দ্রের অর্থ সংস্থানের চেষ্টা করছে। নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি সূত্র বলছে, সাইনোশিওরের মাধ্যমে অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী। প্রতিষ্ঠানটি চীনের সরকারী প্রকল্পর অর্থায়নের ব্যবস্থা করে থাকে। রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে তিনটি কোম্পানি দরপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে শুধু ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যাল লিমিটেড (ভেল) এককভাবে দরপত্র জমা দিয়েছে। বাকি দুটি দরপত্র যৌথভাবে জমা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে জাপানের মারুবিনি কর্পোরেশন ও ভারতের লারসেন এ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড একটি এবং চীনের হারবিন ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড, ফ্রান্সের এএলএসটিওএম ও চীনের ইটিইআরএন মিলে একটি যৌথ দরপত্র জমা দেয়। জানা গেছে, দরপত্রে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাব দিয়েছে ভারতীয় কোম্পানি ভেল। ভেল রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রে অর্থায়নের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে। রামপালের কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুত কেন্দ্রের অর্থায়ন করবে ভারতের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এক্সিম ব্যাংক)। দরপত্রে দেয়া শর্ত অনুযায়ী, রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে চুক্তি করার ৪১ মাসের মধ্যে। আর দ্বিতীয় ইউনিট শেষ করতে হবে ৪৬ মাসের মধ্যে। বিআইএফপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জল কুমার ভট্টাচার্য সম্প্রতি বলেন, তিনটি বিদেশ কোম্পানি বাংলাদেশে রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়ে দরপ্রস্তাব জমা দিয়েছে। তাদের দরপ্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। খুব শীঘ্র এর মূল্যায়ন কাজ শেষ হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন দ্রুতই বিদ্যুত কেন্দ্রটির জন্য চুক্তি করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি সূত্র জানায়, পায়রা বিদ্যুত কেন্দ্রটির জন্য চীনের এনইপিসি এককভাবে দরপত্র জামা দিয়েছে। কোম্পানিটির তুরস্ক এবং ভিয়েতনামে ৬০০ মেগাওয়াটের ওপরে বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়ন চলছে। কারিগরি মূল্যায়ন শেষে আর্থিক প্রস্তাব খোলা হবে। জানতে চাইলে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খোরশেদুল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা দরপত্রে যে শর্ত দিয়েছি তাতে বলা আছে, বিদ্যুত কেন্দ্রটির চুক্তি হওয়ার পর থেকেই তা কার্যকর হবে। আলাদা করে অর্থায়ন চুক্তি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে না। চুক্তির সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ শুরু করতে হবে। এ রকম পরিস্থিতিতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে প্রথম এক বছরে ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে কাজ শেষ করতে হবে। যার পরিমাণ হতে পারে ২০০ মিলিয়ন ডলার। যা সাধারণত অন্য বিদ্যুত কেন্দ্রের বেলায় হয় না। তিনি বলেন, সময় বাঁচাতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। রামপালে বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কোম্পানি গঠন করা হয়। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যুত খাতে সহায়তা বৃদ্ধির জন্য ২০১০ সালে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। ওই সমঝোতার আলোকে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানির সঙ্গে পিডিবি যৌথমূলধনী কোম্পানি গঠন করে। বাংলাদেশ ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করছে। বিদ্যুত কেন্দ্রের অর্ধেক মালিকানা বাংলাদেশের অর্ধেক মালিকানা থাকবে ভারতের। বিদ্যুত কেন্দ্রটি আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে আরও একটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট এ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে রাষ্ট্রীয় নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি। ২০১৪ সালে স্বাক্ষর হওয়া ওই এমওইউর আলোকে একটি যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠন করা হয়। সিএমসি দেশের একমাত্র তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র বড়পুকুরিয়া-২৫০ মেগাওয়াট নির্মাণ করেছে। বড়পুকুরিয়ার বিদ্যুত কেন্দ্রটি সাব ক্রিটিক্যাল হলেও পটুয়াখালীর বিদ্যুত কেন্দ্র হবে সুপার আল্ট্রা ক্রিটিক্যাল সর্বাধুনিক প্রযুক্তির। দুটি বিদ্যুত কেন্দ্রের ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হয়েছে। বিদ্যুত কেন্দ্র দুটি আমদানি করা কয়লা দিয়ে চলবে।
monarchmart
monarchmart