বুধবার ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৩ জুন ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বিজয়ের মাস

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১। সর্বত্র পর্যুদস্ত পাক হানাদাররা। বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। চারদিকে উড়ছে মানচিত্রখচিত লাল-সবুজের রক্তস্নাত স্বাধীন পতাকা। একের পর এক জেলা হচ্ছে হানাদারমুক্ত। একাত্তরের ডিসেম্বরের এদিন বাংলা ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় সহযোগিতা চুক্তি। মুক্তিবাহিনী ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কমান্ডে পরিচালিত হয়। তিনি জেনারেল ম্যানেকশর মাধ্যমে উভয় সরকার প্রধানকে রিপোর্ট করবেন বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

রক্তখরা ডিসেম্বরের এদিন অনেকটা বিনা বাধায় শত্রুসেনাদের বিতাড়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম অঞ্চল যশোর মুক্ত হয়। পাকিস্তানী বাহিনীর দুর্গ বলে পরিচিত যশোরের আকাশে উড্ডীন লাল-সবুজ পতাকার ঢেউ এসে পড়ে দেশের আনাচে-কানাচে। লাখো প্রাণ আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে একটি নতুন রাষ্ট্রের আলো ছড়াতে শুরু করে।

ধীরে ধীরে স্বাধীন হয়ে উঠতে শুরু করে বাংলার অবারিত প্রান্তর। অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধারা দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। স্বাধীনতা চাই, বিজয় চাই। হায়েনার থাবা থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে মুক্ত করতেই হবে- এ মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত বীর সেনানীরা। বাংলাদেশের নানা প্রান্তে চলছে সম্মুখ লড়াই। ১৯৭১ সালের এই দিনে শত্রুমুক্ত হয় গোপালগঞ্জ, শেরপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লার বরুড়া, সাতক্ষীরা আর সিলেটের বালাগঞ্জ। কোনরূপ প্রতিরোধ ছাড়াই যশোর শত্রুমুক্ত হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলায় পর্যুদস্ত পাকসেনারা আগেরদিনই যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে পালিয়েছে। মিত্রবাহিনী একটা বুলেট খরচ ছাড়াই প্রবেশ করল পাকসেনাদের এই শক্ত ঘাঁটিতে। পাকিস্তানী সেনারা যে ট্যাংক, কামান, ট্রাক ও জীপ নিয়ে খুলনার দিকে পালিয়েছে তা এলাকার মানুষ জানালো মিত্রবাহিনীকে। সঙ্গে সঙ্গে মিত্রবাহিনী ছুটল খুলনার দিকে।

ওদিকে তখন নবম ডিভিশনের সদর ঘাঁটিতেও সব খবর পৌঁছে গেছে। ডিভিশনের প্রধান মেজর জেনারেল দলবীর সিং বয়রা ঝিকরগাছার পথ ধরে গোটা নবম ডিভিশনকে নিয়ে এগিয়ে গেলেন যশোর শহরে। যশোরে পাকিস্তানী নবম ডিভিশনের মতো মিত্রবাহিনীর সদর দফতর হলো। সিলেটেরও পতন হলো ওইদিন দুপুরে। প্রথমে ছত্রীসেনারা নামল সিলেটের নিকটবর্তী বিমানবন্দর শালুটিকরে। খুব ভোরে। তারপর চতুর্দিক থেকে মিত্রবাহিনী সিলেটের পাকিস্তানী ঘাঁটিগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়। দুপুরেই সিলেটের পাকিস্তানী সেনানায়ক আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলো।

ভারত ও ভুটানের স্বীকৃতিতে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক যুদ্ধেও পাকিস্তান সরকারের পতনে বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে সেদেশের সামরিক শাসকরা। যুদ্ধের মাঠের মতো কূটনৈতিক পর্যায়েও একের পর এক পরাজয় ঘিরে ফেলে পাক জান্তাদের। অন্যদিকে সম্মুখযুদ্ধে একের পর এক জেলা জয় করে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকা জয় করতে ক্রমশ এগিয়ে আসতে শুরু করে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নিতে প্রহর গুনতে তাকে বাংলার মুক্তিপাগল দামাল ছেলেরা।

শীর্ষ সংবাদ:
অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬ জেলা ॥ করোনায় ১৩ জেলা ঝুঁকিপূর্ণ, কম ১৫ জেলা         এ দিন থাকবে না সুদিন আসবে         করোনায় মৃত্যু সাত শ’ ও আক্রান্ত ৫২ হাজার ছাড়িয়েছে         প্রত্যন্ত কোন এলাকা দখলে নিয়ে ‘মুসলিম ভিলেজ’ গড়তে চায় আনসার         যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়েনের হুমকি ট্রাম্পের         টেস্টের সীমাবদ্ধতা- করোনা নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ         ৪৭০ জনের মানব পাচার সিন্ডিকেট         বিশ্বব্যাপী বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, কমছে মৃত্যু         করোনার প্রথম ওষুধ প্রস্তুত দাবি রাশিয়ার         দেশের ৪ কোটি তামাক ব্যবহারকারী ভয়াবহ করোনা ঝুঁকিতে         আবাদি জমি পতিত রাখা যাবে না, উদ্যোগ নিচ্ছে মন্ত্রণালয়         বাসের ভাড়ায় ঢাকা চট্টগ্রামে যাত্রী টানছে ইউএস বাংলা         কারাগারের কর্মকর্তা কর্মচারীরা আতঙ্কে         নৌ ও সড়কপথের স্বাস্থ্যবিধি নামকাওয়াস্তে         করোনা উপসর্গ নিয়ে প্রকৌশলী ও ইমামসহ মৃত্যু ১৮         আগামী শিক্ষাবর্ষে নতুন কারিকুলামে পাঠদান শুরু হচ্ছে না         ১২৫৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ         সব জেলা হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর         দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৩৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৯১১         প্রথমবারের মত ভার্চুয়াল একনেকে ১৬২৭৬ কোটি খরচে ১০ প্রকল্প অনুমোদন        
//--BID Records