জামালপুর পৌর শহরের ডাকপাড়া এলাকায় আদর্শ কল্যাণ সংস্থার নামে অবৈধভাবে বসানো গরুর হাটে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা ও পৌর প্রশাসন। অভিযানে হাটের সব অস্থায়ী স্থাপনা ভেঙে দিয়ে হাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে হাট কমিটির লোকজন হাট ছেড়ে পালিয়ে যায়।
১৪ মার্চ শনিবার বিকেলে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার। জেলা ও পৌর প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় হাটে নির্মিত বিভিন্ন অস্থায়ী ঘর, বাঁশের কাঠামো ও সাইনবোর্ড অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত গরু বিক্রেতাদের গরুসহ নিরাপদে হাট এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া ওই স্থানে কোনো ধরনের হাট না বসানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।
হাটে আগত কয়েকজন গরু বিক্রেতা অভিযোগ করেন, তারা জামালপুর থেকে গরু নিয়ে শেরপুর ব্রিজপাড় হাটে যাচ্ছিলেন। পথে ডাকপাড়া নতুন রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে লাঠিসোঁটা হাতে একদল লোক তাদের গতি রোধ করে এবং গরু বোঝাই গাড়িগুলো নতুন রাস্তা মোড় সংলগ্ন ওই অবৈধ হাটে নিতে বাধ্য করে। তাদের অভিযোগ, যারা ওই নির্দেশ মানেননি তাদের মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গরু ব্যবসায়ী জানান, ডাকপাড়া এলাকার শামীম নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা এই অবৈধ হাট বসানোর সঙ্গে জড়িত। এছাড়া ওই এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গেও তারা জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। শামীম বাহিনীর ভয়ে স্থানীয়রা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মুখ খুলতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, জামালপুর শহরের ডাকপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে বসানো গরুর হাটটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযানে জামালপুর পৌরসভা, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন। এর আগেও হাট পরিচালনাকারীদের সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সতর্কতা উপেক্ষা করে পুনরায় হাট বসানোর কারণে এ অভিযান চালানো হয়। ভবিষ্যতে আবার অবৈধভাবে হাট বসালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজু








