ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

নারী কণ্ঠের আলোচিত সেই গাছটি কেটে ফেলল

নিজস্ব সংবাদদাতা, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:১২, ২২ জুন ২০২৪; আপডেট: ১৯:১৭, ২২ জুন ২০২৪

নারী কণ্ঠের আলোচিত সেই গাছটি কেটে ফেলল

গাছে কান পাতলে নারী কণ্ঠে কথা শোনা যায় দাবি করা গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে গাছে কান পাতলে নারী কণ্ঠে কথা শোনা যায় বিষয়টিকে ভুয়া ও গুজব দাবি করে কেটে ফেলা হয়েছে সেই আলোচিত গাছ। পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে শনিবার (২২ জুন) দুপুরে কাটা হয় গাছটি। তবে গাছটি কাটার পরও দেখতে ও গাছের কথা শুনতে দুরদুরান্ত থেকে  ছুটে আসছেন অসংখ্য মানুষ। 

এখন স্থানীয়রা বলছেন, গাছে কান পাতলে কথা শোনার বিষয়টি ছিল গুজব। তবে কান পাতলে গাছের ভিতর থেকে শব্দ শোনা যেতো। তবে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বলছে গাছ থেকে কথা শোনার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কেন গাছ থেকে নারী কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছেন অনেকেই? এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে মনোবিজ্ঞানে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহ আগে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদি ইউনিয়নের গজিনা এলাকার নিরব নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু গাছটিতে ধারালো দা দিয়ে কোপ দিলে গাছ বলে ওঠে আমাকে মারিস না। পরে এ ঘটনা পাশের একজন নারীকে বললে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে দলে দলে এসে কান পাততে থাকে এলাকার সবাই। তাদেরও একই দাবি, গাছে কান পাতলে মেয়ে কণ্ঠে কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কেউ সালামের উত্তর শুনছেন, আবার কেউ কান্না বা আর্তনাদের আওয়াজ শুনছেন। তবে গাছ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ প্রথম থেকেই দাবি করে আসছেন বিষয়টি ভুয়া। 

এমন ঘটনা আশপাশের কয়েক এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গাছটি দেখতে ও কথা শুনতে ছুটে আসে উৎসুক জনতা। গাছটিকে পবিত্র আখ্যা দিয়ে গাছের চারপাশ ঘিরে বাশের বেড়া দেয় এলাকাবাসী। কেউ কেউ আবার মানৎ করে গাছের গোড়ায় ফেলতে থাকে টাকা। পরে কয়েকজন মুসল্লির অনুরোধে বেড়া ভাঙা ও টাকা তোলা বন্ধ হয়। 

এমন ঘটনায় মুলধারার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। আজ শনিবার সকালে মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জিল্লুর রহমান ও স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান টুটুলের হস্তক্ষেপে গাছটি কেটে ফেলা হয়। এসময় গাছকাটা দেখতে ভিড় করেন এলাকাবাসী। 

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক নাহমিনা বেগম জানান, গাছে কান পাতলে কথা শোনা যায় এটার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নাই। তবে গাছের একটি শক্ত নেটওয়ার্ক রুট রয়েছে, যা অনেকদুর নিয়ে বিস্তৃত। এর মাধ্যমে এক গাছ আরেক গাছকে উপকার করে থাকে। তবে গাছে কান পাতলে কথা শোনার বিষয়টি সম্পুর্ণই কুসংস্কার। 

এ ঘটনায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মনো বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক নুসরাত শারমিন জানান, এটি প্যারিডোলিয়া হতে পারে। প্যারাডোলিয়া এমন মনস্তাত্ত্বিক রোগ যা কোনো এলোমেলো উদ্দীপককে অর্থবহু করে তুলতে পছন্দ করায়। এছাড়াও মানুষের মাছহিস্ট্রেরিয়া থেকেও মানুষ এমন কুসংস্কার ছড়িয়ে দিতে পারে। 

মুকসুদপুর থানার ওসি জিল্লুর রহমান ও রাঘদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহিদুর রহমান টুটুল বলেন, ‘গাছে কথা শোনা যায় বিষয়টি গুজব। আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর আমরা ওই এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে দেখি। বিষয়টি আমাদের কাছে ভুয়া মনে হয়েছে। এছাড়াও আমরা কান পেতে দেখেছি। কোন কথা শোনা যায় না। পরে আমরা গাছটি কেটে ফেলি।’ 

 

এম হাসান

×