ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

এমন দীর্ঘ ঘূর্ণিঝড় জীবনে দেখেনি

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট 

প্রকাশিত: ২১:২৯, ২৭ মে ২০২৪

এমন দীর্ঘ ঘূর্ণিঝড় জীবনে দেখেনি

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় বাগেরহাটে মানবেতর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণহানি না হলেও প্রবল বাতাসের সাথে লাগাতার বৃষ্টি আর অস্বাভাবিক পানির চাপে দৃশ্যত এ মানবিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং অবনতি হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম পানিতে থৈ থৈ করছে। এদিন ভাটির সময়েরও এতটুকু পানি কমেনি। দমকা বাতাসের সাথে ভারী বৃষ্টি চলছেই। গত ত্রিশ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন জেলার ৫ লক্ষাধিক গ্রাহক। হাজার হাজার মাছের ঘের ভেসে গেছে। অসংখ্য গাছপালা, ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। গ্রাম থেকে শহরের নিম্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ পানিবন্দি দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। 

শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে কোটি কোটি টাকার মালামাল ভিজে গেছে। জেলার কমপক্ষে ১০ টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে ও বাঁধ উপচে  লোকালয়ে অতি জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।মোড়লগঞ্জ পৌর সভার মেয়র মনিরুল হক তালুকদার জনকন্ঠকে বলেন, এমন দীর্ঘ ঘুর্ণিঝড় জীবনে দেখিনি। ভাটির সময়েরও ঘুর্ণিঝড় সিডরের চেয়ে ২ ফুট পানি বেশী, একই সাথে লাগাতার বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের বেগ। সব ভেসে গেছে। রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চারিদিকে কোমর সমান পানিতে সব তলিয়ে আছে। উঁচু দালানের একতলার খাট পর্যন্ত তলিয়ে আছে। উঁচু ভবন হওয়া সত্বেও মোড়েলগঞ্জ পৌর সভার নিচতলা ডুবে গেছে। বাজারের সব দোকানের মালামাল ভিজে গেছে। তার মতে, জমা এ পানি নামার সময় আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি  হবে।

জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ১০ হাজার ঘর ভেঙে পড়েছে। আরও ৩৫ হাজার ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে আছে অনেক গ্রাম। কয়েক হাজার পুকুর ও মাছের ঘের ভেসে গেছে। অসংখ্য গাছপালা আর বিদ্যুৎতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষদের খাবার দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে বলে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাঃ খালিদ হোসেন জানান।

সুন্দরবনে ঘুর্নিঝড় রিমেলের আঘাতে  ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক জনাব মিহির কুমার দো বলেন যে,  সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রায় সকল পানীয় জলের পুকুর নোনা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। 

যার ফলে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, বনজীবী ও বন বিভাগের স্টাফদের খাবার পানির মারাত্মক সংকট দেখা  দিয়েছে। বনের অনেক স্থানই ৮ থেকে ১০ ফিট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছিল। কাজেই বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর  ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। 

সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য এলাকায় ঝড়ের আঘাতে ১টি মৃত হরিণ এবং বিভিন্ন স্থান থেকে  পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া ও আহত অবস্থায় আরো ১০ টি  হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে। সুন্দরবনের অধিকাংশ  স্থানেই মোবাইল নেটওয়ার্ক, ওয়্যারলেস সংযোগ কার্যকর না থাকায় সেসব  স্থানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। 

নদী প্রচন্ড উত্তাল, এখনো বৃষ্টি পড়ছে এবং বাতাসের বেগ যথেষ্ট রয়েছে। বনের  প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে একটু সময় লাগবে। তবে কোন বনজীবী ও বনকর্মীর আহত/নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
 

×