ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

প্রথম ধাপের ইউরেনিয়ামের সব চালান রূপপুরে

নিশ্চিত হলো এক বছরের জ্বালানি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:২৮, ১১ নভেম্বর ২০২৩

নিশ্চিত হলো এক বছরের জ্বালানি

প্রথম ধাপের ইউরেনিয়ামের সব চালান রূপপুরে

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীর রূপপুরে এসে পৌঁছেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়ামের সপ্তম চালান। বিশেষ নিরাপত্তাবলয়ে সড়কপথে শুক্রবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ইউরেনিয়ামের প্রথম ধাপের সব শেষ এ চালানের গাড়িবহর রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে প্রবেশ করে। এ সময় বাংলাদেশী ও রাশিয়ান কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা দুই দেশের জাতীয় পতাকা ও বেলুন উড়িয়ে স্বাগত জানান। সাত ধাপের এই ইউরেনিয়াম আসায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে এক বছরের জ্বালানি নিশ্চিত হলো। 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অলোক চক্রবর্তী জনকণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাশিয়া থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আসে ইউরেনিয়ামের শেষ চালানটি। ঢাকা থেকে সড়কপথে এ ইউরেনিয়ামের চালান রাত ২টায় রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো আনার সময় মহাসড়কে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তাবলয় ছিল। নিরাপত্তার জন্য সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।  
এ বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, এ সাতটি চালানে আসা জ্বালানি দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে এক বছর ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, প্রথম চালান আসার পর রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি পারমাণবিক স্থাপনায় উন্নীত হয়েছে। ফলে রূপপুর এখন আর প্রকল্প নয়।  
ড. শৌকত আকবর আরও জানান, গত ৫ অক্টোবর দুপুরে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পারমাণবিক জ্বালানি সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজে সব ধরনের যন্ত্রপাতি বসানো শেষ হয়েছে। রাশিয়া প্রতিটি মালামাল ও যন্ত্রপাতি আমাদের এখন বুঝিয়ে দিচ্ছে। এখন কমিশনিং শুরু হবে।  
সংশ্লিষ্ট সনদ লাভের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলও প্রস্তুত করে তাদের পদায়ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি আমদানি, পরিবহন ও রক্ষণাবেক্ষণসহ সব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো ফাঁক রাখা হয়নি। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার সুযোগ নেই।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাশিয়া থেকে ঢাকায় আসার পর ২৯ সেপ্টেম্বর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান ঈশ্বরদীর রূপপুরে পৌঁছায়। এরপর ৬ অক্টোবর ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান, ১৩ অক্টোবর তৃতীয়, ২০ অক্টোবর চতুর্থ চালান, ২৭ অক্টোবর পঞ্চম চালান এবং ৩ নভেম্বর ষষ্ঠ চালান রূপপুরে পৌঁছায়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ সালের মার্চে প্রথম ইউনিটে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার কথা দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। পরের বছর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি দ্বিতীয় ইউনিট চালু হতে পারে। দুটি ইউনিটে মোট ২৪০০  মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

×