ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

কক্সবাজার সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযান

১৪ কেজি আইস ও প্রায় ৪ লাখ পিস ইয়াবাসহ আটক ৩

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ১১ মে ২০২৩

১৪ কেজি আইস ও প্রায় ৪ লাখ পিস ইয়াবাসহ আটক ৩

ইয়াবাসহ আটক

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি’র) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এবং কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে সর্বমোট ১৪ কেজি ৭৭৮ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং ৩ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। বিজিবি’র কক্সবাজার রিজিয়ন ও রামু সেক্টরের আওতাধীন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে এসব মাদকসহ তাদের আটক করে। 
বিজিবি’র রামু সেক্টর সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ মেহেদি হোসাইন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিজিবির পৃথক তিনটি টহলদল অবস্থান নেয়। এসময় দুইজন ব্যক্তিকে মায়ানমার থেকে সীমান্তের শূন্য লাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসতে দেখে বিজিবি নৌ টহলদ্বয় বর্ণিত নৌকাটিকে চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবি'র উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় আরোহিত ব্যক্তিরা মায়ানমারের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল দ্রুত ধাওয়া করে নৌকাসহ মোঃ রবি মোল্লা (২৩) ও মোঃ আয়াছ নামের ২ জন মায়ানমার নাগরিককে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে বিজিবি টহলদল নৌকাটিকে নাফ নদীর তীরে এনে তল্লাশি করে নৌকার মধ্যে রাখা জালের ভিতরে অভিনব পদ্ধতিতে লুকায়িত অবস্থায় পলিব্যাগে মোড়ানো দুইটি পোটলা থেকে ৭ কেজি ৩৮২ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস ও ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এসময় অবৈধ মাদকদ্রব্য বহনের জন্য ব্যবহৃত কাঠের নৌকা এবং ১০০ কেজি সুতার জাল জব্দ করা হয়। 

অপরদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাধীন ঘুমধুম সীমান্তের ফুটেরঝিরি নামক স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পরিত্যক্ত অবস্থায় মালিকবিহীন ৭ কেজি ৩৯৬ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এদিকে, একই রাতে বিজিবি'র টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) সাবরাং বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ দক্ষিণ নোয়াপাড়া এলাকা দিয়ে মাদকের একটি চালান মায়ানমার থেকে আনার সময় বিজিবি সদস্যদের দেখে মাদক ফেলে দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে ফেলে যাওয়া পোটলার ভেতর হতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ ঘটনার পর রাত প্রায় ১২টার দিকে ৪/৫ জন ব্যক্তি বিজিবির টহলদল দেখে নৌকা রেখে নাফ নদীতে লাফিয়ে মায়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরে নৌকা তল্লাশি করে এর ভেতরে লুকায়িত অবস্থায় ২ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। 

একইভাবে বৃহস্পতিবার সকালে ৩/৪ জন বিজিবি সদস্যদের দেখে পালিয়ে গেলেও জাহিদ হোসেন নামে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। পরে ওই নৌকা তল্লাশি করে ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ২০০ কেজি সুতার জাল জব্দ করা হয়। 

আটককৃত ২ জন মায়ানমার নাগরিক এবং ১ জন বাংলাদেশী নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধ মাদকদ্রব্য বহন ও পাচারের দায়ে নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। 

 

ফজলু

সম্পর্কিত বিষয়:

×