৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

জয় বাংলা ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ড জয়ী আলোর পাখি ফাউন্ডেশন

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০২০

আলোর পাখি ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয় ২০১৭-এর ১১ জুন। পাখি ফাউন্ডেশন মূলত কাজ করে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিশেষ শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুলিং, শিশুবিকাশ কেন্দ্র, থেরাপি ইউনিট, সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং, টিচার্স ট্রেইনিং, আউটিং, সাংস্কৃতিকচর্চা, হোম প্রোগ্রাম, প্যারেন্টকাউন্সেলিং, সচেতনতাবৃদ্ধিমূলক কার্যল্ডম।

এই সংগঠনটি গড়ে ওঠার পেছনে রয়েছে একটি গল্প ও কিছু সমাজসেবী মানুষের অবদান। গল্পটি হলো একটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর মায়ের লড়াই। ওই শিশুদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে গড়ে তোলা এই ‘আলোর পাখি ফাউন্ডেশন।’ ঝুমনা মল্লিক ঝুমি পুরাতন ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি ২০০৫ সাল থেকে আইটি জগত এ নিজের ক্যারিয়ারে এগিয়ে আছেন। তাছাড়া বিভিন্ন সামাজিক কার্যল্ডমের সঙ্গেও সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০০৯ সালে তার কোলজুড়ে আসে একটি ফুটফুটে শিশু, নাম লাবীবা। সন্তানের হাসিমুখে বেড়ে উঠা দেখলে প্রতিটি মা-বাবার মনই খুশিতে ভরে ওঠে। কিন্তু লাবীবা যখন ৫ মাস বয়সের তখন ঝুমি তার মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক দিক লক্ষ্য করেন এবং ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

ডাক্তার তখন লাবীবা আর ১০টা স্বাভাবিক শিশুর মতো নয় ও একজন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু। সে সময়ে ঝুমি মা হিসেবে অনেক ভেঙে পড়েন এবং তার চাকরি জীবনেও এর প্রভাব পরে। ঝুমি প্রায় ২ বছর ক্যারিয়ারে পিছিয়েছিলেন। ২০১২ তে ঝুমি আবার সব সামলে নতুন করে শুরু করেন। লাবীবাকে দেখাশোনা করার পাশাপাশি তিনি ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে বেছে নেন যেন তার সন্তানকে পালন করতে কোন অবহেলা না হয়। ঘরে বসে তিনি বিদেশের বায়ারদের কাজ করতেন অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে। তিনি বেশ সফলতার সঙ্গে এই পেশায় এগিয়ে যেতে থাকেন।

লাবীবার যখন সাড়ে তিন বছর বয়স তখন লাবীবাকে বিশেষ স্কুলে দেয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তার। কিন্তু, পুরাতন ঢাকায় কোন বিশেষ স্কুল না থাকায় লাবীবার আর স্কুলে যাওয়া হয় না। নতুন ঢাকায় কিছু অল্পসংখ্যক বিশেষ স্কুল আছে যা অনেক দূরে। পুরাতন ঢাকার ২/৩ ঘণ্টা জ্যাম ঠেলে যাতায়াত করতে যেখানে স্বাভাবিক মানুষই হিমশিম খায় সেখানে একটি বিশেষ শিশুর পক্ষে তা অবর্ণনীয় কষ্টদায়ক।

ঝুমি তখন উপলব্ধি করতে থাকেন যে, তার মতো বিশেষ স্কুল না থাকায় এমন অনেক অভিভাবক আছে পুরাতন ঢাকায় যারা নিজের বিশেষ শিশুকে স্কুলিং করাতে পারছে না। তিনি তখন ভাবলেন তার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তিনি বিশেষ শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় ট্রেইনিং নিয়ে নিজেই একটি স্কুল গড়ে তুলবেন পুরাতন ঢাকাবাসী বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য। তিনি ভাবেন যে, স্কুল কবে হবে সে অপেক্ষায় না থেকে নিজেই কাজ করবেন সমাজের জন্য, দেশের জন্য।

তিনি ২০১৬ সালে বিশেষ শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় ট্রেইনিং নেন এবং কলকাতা থেকেও কিছু ট্রেইনিং নিয়ে নিজ উদ্যোগে তার বন্ধু ও কিছু কাছের মানুষের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তার ক্যারিয়ার এর পাশাপাশি সফলভাবে সংঠনটি পরিচালনা করছেন। তার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ফরহাদ, সম্পা, রিয়াজ, লতিফা, সুমি। উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন সমাজের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে অনেক সংগ্রাম। অফিস ভাড়া নেয়ার জন্য যখনই কোথাও বলা হতো এটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন

শিশুদের জন্য তখনই কেউ ভাড়া দিতে রাজি হতো না। এভাবে প্রায় ৪/৫ মাস পরেও ভাড়া না পেয়ে ঝুঁমি নিজের বাসার একটি ফ্লোরেই শুরু করেন কার্যল্ডম। বর্তমানেও সেই বাড়িতেই কার্যল্ডম চলছে। ওই শিশুগুলো আর তাদের অভিভাবক, শিক্ষক শিক্ষিকা সবাই এখন তার একটি পরিবারে পরিণত হয়েছে।

গত ২ বছরে প্রায় ১০০০ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের পরিবার কাউন্সেলিং সেবা পেয়েছেন এবং সফলভাবে স্কুলিং করানোর মাধ্যমে কিছু শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক স্কুলে যাওয়ার যোগ্য করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। তারা এখন স্বাভাবিক স্কুলে পড়ছে। এমনকি ঢাকার বাইরে ও বাংলাদেশের বাইরে অনলাইন ও হটলাইনের মাধ্যমে কাউন্সেলিং সেবা পৌঁছে দেয়া হয় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের।

তার জীবনের একমাত্র ব্রত হয়ে উঠেছে এখন শুধুমাত্র এই ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশুগুলো। তিনি বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য কাজ করে যেতে চান। ওদের সেবার মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ রেখে যেতে চান তিনি। সমাজিক উন্নয়নে কাজের জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জয় বাংলা ইয়ুথ এওয়ার্ড ২০১৮ ‘পায় সংগঠনটি। বর্তমানে ইয়াং বাংলা, সিআরআই-এর বিভিন্ন কার্যল্ডমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সমাজ পরিবর্তন এ ভূমিকা রাখছে আলোর পাখি ফাউন্ডেশন।

ডিপ্রজন্ম ডেস্ক

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০২০

২৪/০৩/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: