৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী একটি মহামারী হিসেবে হাজির হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে সচেতনতার অভাব দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পরস্পরবিরোধী বিভ্রান্তিকর তথ্য ভেসে বেড়াচ্ছে। বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ার কারণে আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অন্য অনেক দেশের চেয়ে বেশি। তাই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ার উদ্দেশ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে এই লেখাটি অনুবাদ করা হলো।

যেহেতু বৈশ্বিক মহামারী একটি পরিবর্তনশীল ব্যাপার, তাই করোনাভাইরাসের ব্যাপারে নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া গেলে এসব পরামর্শের কোন কোনটি বদলেও যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সচেতন পাঠকদের উচিত হবে লাইভ আপডেট ও প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে এবং রোর বাংলার ‘করোনার আক্রমণ : ইতিবৃত্ত, সতর্কতা ও সাম্প্রতিক’ কালেকশনে নিয়মিত চোখ রাখা।

নতুন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যেসব মৌলিক প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে

কভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের ব্যাপারে সাম্প্রতিকতম তথ্য সম্পর্কে অবহিত থাকুন। এসব তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে, গণমাধ্যমে এবং আপনার জাতীয় ও স্থানীয় জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাওয়া যাবে। সংক্রমিত হওয়া অধিকাংশ মানুষ সাময়িক অসুস্থতার পর ভাল হয়ে যায়। কিন্তু অনেকের জন্যই এ সংক্রমণ মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই নিম্নোক্ত পরামর্শগুলো মেনে নিজের যত্ন নিন ও অন্যদের রক্ষা করুন।

বার বার হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন

নিয়মিতভাবে বার বার স্যানিটাইজার দিয়ে অথবা সাবান-পানির মাধ্যমে হাত পরিষ্কার করুন।

কেন?

যদি আপনার হাতে ভাইরাস থেকে থাকে, সাবান-পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করলে, সেগুলো মরে যাবে।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন

আপনার, আর হাঁচি-কাশি দেয়া যে কোন ব্যক্তির মধ্যে ১ মিটার (৩ ফিট) দূরত্ব বজায় রাখুন।

কেন?

কেউ হাঁচি বা কাশি দিলে, তাদের নাক-মুখ থেকে তরলের ছোট ছোট ফোঁটা ছড়িয়ে দেয়। এতে ভাইরাস থাকতে পারে। আপনি যদি তার খুব কাছাকাছি থাকেন, আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে এই ফোঁটাগুলো ভেতরে চলে যেতে পারে। কাশতে থাকা ব্যক্তিটি অসুস্থ হলে সেসব ফোঁটায় কভিড-১৯ ভাইরাস থাকতে পারে।

টচনিজের চোখ, নাক, ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন

হাত দিয়ে নিজের নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ থেকে বিরত থাকুন।

কেন?

আপনার হাত নানা জায়গা স্পর্শ করে এবং ভাইরাস তুলে নিতে পারে। একবার সংক্রমিত হয়ে গেলে, আপনার হাত থেকে চোখ, নাক, কিংবা মুখে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেখান থেকে, ভাইরাস আপনার দেহে প্রবেশ করতে পারে এবং আপনাকে অসুস্থ করে তুলতে পারে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত ভদ্রতা চর্চা করুন

এটা নিশ্চিত করুন যে আপনি এবং আপনার আশপাশে থাকা লোকজন শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত ভদ্রতা চর্চা করেন। মানে, হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় কনুই বাঁকিয়ে হাত দিয়ে মুখ আড়াল করা অথবা ফেসিয়াল টিস্যু পেপার ব্যবহার করা। তারপর তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহৃত টিস্যু ডাস্টবিনে ফেলা।

কেন?

তরলের ছোট ছোট ফোঁটা ভাইরাস ছড়াতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত ভদ্রতা চর্চার মাধ্যমে আপনি আপনার আশপাশে থাকা লোকজনকে ঠাণ্ডা, ফ্লু, আর কভিড-১৯ এর মতো ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচাতে পারেন।

শরীর ভাল না বোধ করলে ঘরে থাকুন। তবে জ্বর কিংবা সর্দি-কাশি হলে, বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। স্থানীয় স্বাস্থ্য-কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করুন।

কেন?

আপনার এলাকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি কী, সেটি সবচেয়ে ভাল জানবেন জাতীয় ও স্থানীয় স্বাস্থ্য-কর্তৃপক্ষ। দ্রুত যোগাযোগ করলে যিনি আপনাকে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন, তার পক্ষে আপনাকে সঠিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াটা সহজ হবে। এটা আপনাকে যেমন বাঁচাবে, তেমনি ভাইরাস ও অন্যান্য সংক্রমণের ছড়িয়ে পড়াটাও রোধ করবে।

কভিড-১৯ এর সাম্প্রতিক খবরাখবরের দিকে খেয়াল রাখুন। নিজেকে এবং অন্যদের কীভাবে কভিড-১৯ এর হাত থেকে বাঁচাতে হবে, সে ব্যাপারে আপনার নিয়োগদাতা, জাতীয় ও স্থানীয় স্বাস্থ্য-কর্তৃপক্ষ এবং যিনি আপনাকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন, তার পরামর্শ মেনে চলুন।

কেন?

আপনার এলাকায় কভিড-১৯ ছড়িয়েছে কি না, সে ব্যাপারে আপনাকে সবচেয়ে ভাল তথ্য দিতে পারবে জাতীয় ও স্থানীয় স্বাস্থ্য-কর্তৃপক্ষ। আপনার এলাকার মানুষদের নিজেদের রক্ষা করতে কী করা উচিত, এ ব্যাপারেও সবচেয়ে ভাল পরামর্শ তারাই দিতে পারবে।

কভিড-১৯ ছড়াচ্ছে এমন কোন স্থানে অবস্থান করছেন, বা সম্প্রতি (গত ১৪ দিনের মধ্যে) সেখানে ছিলেন, এমন মানুষদের জন্য প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ

ওপরের দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলুন।

মাথাব্যথা এবং নাকে হালকা তরল জমার মতো মৃদু উপসর্গও যদি দেখা দেয় এবং এর কারণে আপনি যদি অসুস্থ বোধ করেন, ঘরে থাকুন।

কেন?

অন্যদের সংস্পর্শ বাঁচিয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া এই কেন্দ্রগুলোকে আরও দক্ষভাবে কাজ করতে সহায়তা করবে এবং আপনাকে ও অন্যদের কভিড-১৯ ও অন্যান্য ভাইরাস থেকে বাঁচাবে।

জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। এগুলো শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সংক্রমণ বা অন্যান্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির ব্যাপার হতে পারে। যিনি আপনাকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দেন, তার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্প্রতি আপনি কোথাও ভ্রমণ করলে বা কোন ভ্রমণকারীর সঙ্গে আপনার সাক্ষাত হলে সে ব্যাপারে তাকে জানান।

কেন?

দ্রুত যোগাযোগ করলে যিনি আপনাকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন, তার পক্ষে আপনাকে সঠিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াটা সহজ হবে। এটা কভিড-১৯ এবং অন্যান্য ভাইরাসের সম্ভাব্য ছড়িয়ে পড়াটাও প্রতিরোধ করতে সহায়তা করবে।

মাস্ক ব্যবহার প্রসঙ্গে

কখন মাস্ক পরবেন?

আপনি যদি সুস্থ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার মাস্ক পরার প্রয়োজন হবে শুধু একটি ক্ষেত্রেই -যদি আপনি কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, এমন কাউকে দেখাশোনার দায়িত্বে থাকেন।

হাঁচি বা সর্দি-কাশি থাকলে।

সাবান-পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করার পাশাপাশি মাস্ক পরলেই কেবল মাস্ক পরাটা কাজে আসবে।

আপনি যদি মাস্ক পরেন, তাহলে এটি কীভাবে মুখে লাগাতে হবে আর কীভাবে ফেলে দিতে হবে, সেটি আপনাকে যথাযথভাবে জানতে হবে।

যেভাবে মাস্ক পরবেন, ব্যবহার করবেন, খুলে ফেলবেন ও ফেলে দেবেন

মাস্ক পরার আগে সাবান-পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।

মাস্ক দিয়ে নাক ও মুখ ঢাকুন এবং আপনার মুখ ও মাস্কের মধ্যে কোনো ফাঁকা নেই, এটা নিশ্চিত করুন।

মুখে পরে থাকা অবস্থায় মাস্কটি হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন না। যদি করতেই হয়, সাবান-পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন।

ময়লা হয়ে গেলেই পুরনো মাস্ক খুলে ফেলে নতুন মাস্ক পরুন। ওয়ান-টাইম-ইউজ মাস্ক বার বার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

মাস্ক খুলে ফেলার ক্ষেত্রে -পেছন থেকে খুলুন (সামনের অংশ স্পর্শ করবেন না)। ময়লার বালতি বা বাস্কেটে ফেলে দিন। সাবান-পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিন।

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০২০

২৩/০৩/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: