১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

উহান ফেরত ৩১২ জনকে ১১ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কোয়ারেন্টাইনে থাকা উহান ফেরত ৩১২ জনকে নিজেদের বাড়িতে যাওয়ার পরও আরও ১০ দিন সীমিত চলাচল এবং নিজেদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অবহিত করতে পরামর্শ দিয়েছে আইইডিসিআর। কোয়ারেন্টাইন শেষে তারা নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছেন। বাড়িতে গিয়ে করণীয় সম্পর্কে তাদের ১১ নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক তিন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করেছে আইইডিসিআর। এ পর্যন্ত ৬৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেখানে কারও শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

করোনা ভাইরাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার আইইডিসিআর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নিয়মিত অবহিতকরণ সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মীরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

উহান ফেরত ৩১২ জনের সবাই সুস্থ আছেন জানিয়ে অধ্যাপক ডাঃ সাব্রিনা ফ্লোরা বলেন, উহান ফেরতদের কোয়ারেন্টাইনের ১৪ দিন শনিবার শেষ হয়েছে। তাদের সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কারও মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। কোয়ারেন্টাইন পরবর্তী আরও ১০ দিন ৩১২ জনকে সীমিত চলাচল ও নিজেদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অবহিত করতে আইইডিসিআরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাদের প্রতি বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- কোয়ারেন্টাইন থেকে বাসায় যাবার পথে গাড়িতে মাস্ক পরবেন। যে যানবাহনে (বাস/ ট্রেন/ লঞ্চ/ বিমান) করে বাড়ি যাবেন তার নাম, নম্বর, যাত্রার সময় আইইডিসিআর-এ জানাবেন। যে বাসায় অবস্থান করবেন, খুব জরুরী না হলে সে বাসা বদল করবেন না। যথাসম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলবেন, বাসার বাইরে যাওয়া অত্যাবশ্যক হলে নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করবেন। নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে দুই হাত ধোবেন (অন্তত ২০ সেকেন্ড )। অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করবেন না। কাশি শিষ্টাচার মেনে চলবেন (হাঁচি/ কাশির সময় বাহু/ টিস্যু/ কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন)। অসুস্থ পশু/ পাখির সংস্পর্শ পরিহার করবেন। মাছ-মাংস-ডিম ভালভাবে রান্না করে খাবেন।

শারীরিক অসুস্থতা (জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি) দেখা দিলে করণীয় সম্পর্কে ডাঃ ফ্লোরা বলেন, আইইডিসিআর হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করবেন এবং পরবর্তী করণীয় জেনে নেবেন। মৃদু অসুস্থতার ক্ষেত্রে নিজ ঘরে অবস্থান করবেন, নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করবেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একজন রোগীর সেবা করবেন। তিনি মাস্ক ব্যবহার করবেন ও প্রতিবার রোগীর সংস্পর্শে আসার পর মাস্কটি ঢাকনা যুক্ত বিনে ফেলবেন এবং সাবান-পানি দিয়ে দুই হাত ধুয়ে ফেলবেন (অন্তত ২০ সেকেন্ড )।

সিঙ্গাপুর পরিস্থিতি

সিঙ্গাপুর পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডাঃ সাব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের বলেন, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রেরিত সর্বশেষ খবরে আমরা জানতে পেরেছি যে, মোট ৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে ১ জন আইসিইউতে আছেন। কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের দূতাবাস থেকেও আমাদের সিঙ্গাপুর পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।

চীন-সিঙ্গাপুর ফেরত যাত্রী মানেই সন্দেহজনক করোনা ভাইরাস রোগী নয় ॥ আইইডিসিআর

সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআর আরও জানায়, চীন ও সিঙ্গাপুর থেকে প্রতিদিন অনেক যাত্রী বাংলাদেশে আসছেন। চীনের সকল প্রদেশে নোবেল করোনা ভাইরাস মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেনি। চীনের যে সব অঞ্চলে মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, চীন সরকার সে সব অঞ্চলে গণকোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা জারি করেছে ও সকল প্রকার যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে মহামারী উপদ্রুত এলাকা থেকে কারো বাংলাদেশে আসার সুযোগ নেই। অনুরূপভাবে গোটা সিঙ্গাপুর শহর মহামারী আক্রান্ত নয়। যে সব প্রতিষ্ঠানে ও বাসাবাড়ীতে করোনা ভাইরাস নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে সে সব অঞ্চল ও প্রতিষ্ঠানকে সিঙ্গাপুর সরকার শহরের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রোগীদের আইসেলশন ও তাদের সংস্পর্শে আসা সবাইকে কোয়ারেন্টাইন করেছে। ফলে সিঙ্গাপুরের করোনা ভাইরাস উপদ্রুত অঞ্চল থেকে কোন যাত্রীর বাংলাদেশে আসার সুযোগ নেই।

সতর্কতার অংশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশে আগত চীন ও সিঙ্গাপুর ফেরত যাত্রীদের মধ্যে যারা জ্বর-হাঁচি-কাশিতে ভুগছেন তাদের আইসোলেশন করে চিকিৎসার ব্যবস্থা ও নমুনা পরীক্ষা করছি। বাকিদের যার যার বাসাতে স্বেচ্ছা- কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দেশের ভেতরে সম্ভাব্য করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্ত করার জন্য জনসাধারণের সক্রিয় সহযোগিতা খুবই জরুরী। কিন্তু চীন ও সিঙ্গাপুর ফেরত যাত্রীরা যদি আমাদের আচরণের কারণে ব্যক্তিগত ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন, তাহলে তারা জ্বর-হাঁচি-কাশিতে ভুগলেও সরকারী স্বাস্থ্য সেবা নিতে নিরুৎসাহিত বোধ করবেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে কুন্ঠা বোধ করবেন। ফলে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা জনসাধারণকে ধৈর্য ও শান্তভাবে জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমকে সহযোগিতা করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি ও যে কোন জিজ্ঞাস্য আইইডিসিআর অথবা নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় অথবা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় হতে জেনে নেয়ার জন্য আহ্বান জানিছে আইইডিসিআর।

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

১৭/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: