১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

‘পাকিস্তানের পেতাত্মা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে কোন ধরণের ঐক্য বা আপোষ হতে পারে ন ’

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৯:৪৬ পি. এম.
‘পাকিস্তানের পেতাত্মা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে  কোন ধরণের ঐক্য বা আপোষ হতে পারে ন ’

সংসদ রিপোর্টার ॥ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী-এমপিরা বলেছেন, দেশের মানুষ আর বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে কোন ধরণের ঐক্য বা আপোষ করে রাজনীতি করতে রাজি না। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীদের সঙ্গে কীসের ঐক্য? পাকিস্তানের পেতাত্মা এসব কুলাঙ্গারদের সঙ্গে সমঝোতার কোন প্রশ্নই উঠে না। আর কোনদিন এসব মীরজাফরদের পক্ষে দেশের চলমান এই উন্নয়ন-অগ্রগতি থামানো সম্ভব হবে না। কারণ দেশের জনগণ এসব মীরজাফরদের চিনতে পেরেছে।

প্রথমে স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁরা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলের উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক মন্ত্রী মুহাঃ ইমাজ উদ্দিন প্রমাণিক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে তাজুল ইসলাম, রুহুল আমিন রুহুল, সালমা চৌধুরী, ছোট মনির, কাজিম উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বিএনপির জাহিদুর রহমান প্রমূখ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে কোন ধরণের ঐক্য বা আপোষ করতে দেশের মানুষ রাজি নয় জানিয়ে বলেন, বিএনপি উন্নয়ন দেখতে পারে না। বর্তমান সরকার এতো উন্নয়ন করছে, এটা তাদের সহ্য হয় না। তাই তারা শুধু আন্দোলন আন্দোলন বলে। টকশ’তে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার জন্য চিকিৎসার জন্য সাতজন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁর যে আসল সমস্যা মানষিক রোগ, এটার জন্য কোন ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়নি। আসলে সরকার এই মানষিক রোগের জন্য ডাক্তার নিয়োগ করতেও পারবে না। কারণ তার (খালেদা জিয়া) মানষিক রোগ হচ্ছে একটাই, তাঁকে মুক্তি দিতে হবে! কিন্তু আদালতের রায়ে দুর্নীতির কারণে খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন। তাঁকে সরকার কীভাবে মুক্তি দেবে? এই বিএনপি অতীতে যে দুঃশাসন, অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করেছে, তা এখনও অব্যাহত রেখেছে। অনেকে জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন। কিন্তু এদের (বিএনপি-জামায়াত) সঙ্গে আবার কীসের ঐক্য? এদের সঙ্গে সমঝোতার কোন বিষয় নেই। এই কুলাঙ্গারদের সঙ্গে আপোষ করে আমরা কোন রাজনীতি করতে রাজি নই।

জাতীয় নির্বাচনে সংখানুপাতিকহারে ভোটের হিসাবে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রস্তাব করে বিরোধী দলের উপনেতা জি এম কাদের বলেন, গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় অনিয়মের সুযোগ ও সম্ভাবনা কম। পৃথিবীর বহু দেশে সংখ্যানুপাতিকহারে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পদ্ধতি চালু হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে যে দল শতকরা ২০ ভাগ ভোট পাবে, সেই দল সংসদের মোট আসনের ২০ ভাগ অর্থাৎ ৬০ জন সংসদ সদস্য পাবে। এতে নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোন সমস্যা হবে না। নির্বাচনী ব্যবস্থা সুসংসহত হবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে থাকা বাধ্যবাদকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এই অনুচ্ছেদটি পুরোপুরি বাতিল হোক এটা চাই না। তবে সংসদীয় ব্যবস্থার যে পদ্ধতি আমাদের দেশে চালু আছে সেটা সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের সরকারি কর্মকান্ডের কোন বিষয়ে বিরোধীতা কিংবা সরকারের বাইরে ভোট প্রদানের কোন সুযোগ নেই। সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে জাতীয় সংসদ। কিন্তু এখানে সেক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। ওয়েস্ট মিনিস্টার পদ্ধতির সরকারে সরকারি দলের শুধু মন্ত্রীরা ছাড়া বাকি সব সদস্য, বিরোধী দলের সদস্য সবাই সরকারের যে কোন বিষয়ে সমালোচনা এবং বিপক্ষে ভোট দিতে পারে। শুধু মন্ত্রীরা পারে না। বাজেট, অভিশংসন ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের পাশাপাশি সরকারি দলের সদস্যরাও যাতে বিপক্ষে ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাহলে সংসদ কার্যকর হবে।

বিরোধী দলের উপনেতা আরও বলেন, সংসদে সমালোচনা হলে সংসদ প্রাণবন্ত হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা কোন বিষয়ে কোন সুপারিশ মেনে নেয়া হলে তা সংসদকে কার্যকর করে। এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বেকারত্ব। এই বেকারেত্বের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে, কিন্তু বেকারের তুলনায় কর্মসংস্থান হচ্ছে না। শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মের উপযোগি করে ঢেলে সাজাতে হবে, তাতে বেকার সমস্যা কিছুটা হলেও দূর হবে। মাদকের মারাত্মক ছোবল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যেভাবে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে তা সত্যিই আশঙ্কাজনক। গত বছর মাদক বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালনা হচ্ছে, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্টতা থাকায় এ অভিযান সফল হচ্ছে না। দেশের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে জনসংখ্যা। প্রতিনিয়তই জনসংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনসংখ্যার দেশ প্রথমে চীন, পরে ভারত। কিন্তু বাংলাদেশের জনঘনত্ব চীনের চেয়ে আটগুণ, ভারতের চেয়ে সাড়ে তিনগুণ বেশি। জনসংখ্যার এ সমস্যার সমাধান করা জরুরি।

সাবেক মন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রমাণিক বলেন, মীরজাফর মারা গেছে, কিন্তু মৃত্যুর আগে বলে গেছে বংশধর রেখে যাব। সেই মীরজাফরের বংশধরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে। কোনদিনই এসব মীরজাফরদের পক্ষে দেশের এই উন্নয়ন-অগ্রগতি থামানো সম্ভব হবে না। কারণ দেশের জনগণ এসব মীরজাফরদের চিনতে পেরেছে।

বিএনপির জাহিদুর রহমান বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে দেশের মানুষ আজ বিপন্ন, শঙ্কিত। একাদশ জাতীয় নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালটে একটি নির্দিষ্ট মার্কায় সিল মেরে ভর্তি রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না- তা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে। কারাগারে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হচ্ছে না। উনি দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছেন। বিএনপি প্রধানকে ক্রমেই মুত্যুর দিকে ধাবিত করা হচ্ছে। তিনি মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দিয়ে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান।

জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ নয়, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ক্রমাগতভাবে প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোও ধরে রাখতে পারেনি। দেশের এই উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে হবে। জনশক্তি থেকে বিপুল সংখ্যেক রেমিটেন্স আসছে, তাই প্রণোদনা দিয়ে হলেও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। আর উন্নয়নকেও টেকসই করতে হবে। নির্বাচনকে অর্থবহ করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে বসতে হবে, নইলে ভোটের প্রতি মানুষের অনিহা দূর হবে না। কারণ নির্বাচনই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে তাজুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া দম্ভভরে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ কোনদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না, এমনকি বিরোধী দলের আসনেও বসতে পারবে না। কিন্তু আল্লাহ’র কী রহমত, আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে আজ ক্ষমতায়। আর খালেদা জিয়া বিরোধী দলের আসনেও বসতে পারেনি। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিকভাবে দল পরিচালনা করে। আর বিএনপি লন্ডন থেকে ফেসবুকে কমিটি করে। এই বিএনপি কোনদিনই আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে পারবে না।

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৯:৪৬ পি. এম.

১৬/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

জাতীয়



শীর্ষ সংবাদ: