৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

পাকিস্তানীরা এখন বাংলাদেশের মতো উন্নয়ন চায় ॥ কাদের

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০

নিজস্ব সংবাদদাতা, গোপালগঞ্জ, ১৩ ফেব্রুয়ারি ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পাকিস্তানীরা চলে গেলেও বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ‘জয়বাংলা’ ছিল না, বঙ্গবন্ধু নিষিদ্ধ ছিল, মুক্তিযুদ্ধ নিষিদ্ধ ছিল, স্বাধীনতার আদর্শ নিষিদ্ধ ছিল। এমন সময় শেখ হাসিনা এসে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। পাকিস্তানী ২১ বছরের অন্ধকারের শক্তি, পাকিস্তানী ধারায় বাংলাদেশ আর ফিরে যাবে না। আর কোন অপশক্তিকে আমরা ক্ষমতার মঞ্চে দেখতে চাই না। বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধের মূলধারার বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। বৃহস্পতিবার বিকেলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ওরা ভেবেছিল টুঙ্গিপাড়ায় কবর দিলে বাংলাদেশ শেখ মুজিবকে ভুলে যাবে। তাদের হিসাবের অন্তে ৪৪ বছর পর আজ টুঙ্গিপাড়া সব বাঙালীর তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। এই জনপদে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার কোনদিনও মৃত্যু হবে না। ৪৪ বছরে সবচেয়ে সাহসী ও সৎ নেতা, দক্ষ প্রশাসক এবং সফল কূটনীতিক হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও উচ্চতার প্রশংসা করে আজ সারাবিশ্ব।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ বলতে দুনিয়া জানত গলিত লাশের দেশ, ভিক্ষুকের দেশ, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের দেশ। এ দেশ কোনদিন উন্নত হবে না। মহান আল্লাহ পিতা মুজিবকে জন্ম দিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য, আর কন্যা শেখ হাসিনাকে জন্ম দিয়েছেন জনগণের মুক্তির জন্য। এ এক অপূর্ব মিলন। শেখ হাসিনা ফিরে এসেছিলেন বলেই আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতে পেরেছিলাম। শেখ হাসিনা ফিরে না এলে এ দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোনদিন হতো না, আমরা নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করতে পারতাম না, সীমান্ত ও সমুদ্র চুক্তি হতো না, মেট্রো-রেল হতো না, আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পাঠাতে পারতাম না। আজকে সেই স্যাটেলাইটেই আমরা আমাদের খেলা দেখি। বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের বিস্ময়। বিশ্বশালায় বাংলাদেশ আজ বিশেষ মর্যাদা পায়। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে আজ এক নম্বরে। পাকিস্তানীরা এখন বাংলাদেশের মতো উন্নয়ন চায়।

বঙ্গবন্ধু মুজিবের পরিবারকে সততা ও মেধার প্রতীক আখ্যায়িত করে বঙ্গবন্ধুর পরিবার থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীসহ যুবকদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশে কোন বেকার থাকবে না। প্রত্যেক পরিবারে অন্তত একজন যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এটা আমাদের নেত্রীর অঙ্গীকার। এজন্য তিনি শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চান।

সরকার খালেদা জিয়াকে জেলের মধ্যে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলতে চান- মীর্জা ফকরুলের এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা এই প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। এ রাজনীতি বঙ্গবন্ধু করেননি। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাও করেন না। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে তার দলের লোকেরা বলে একটা, চিকিৎসকেরা বলে আরেকটা। তার দলের লোকেরা তাকে অসুস্থ থেকে অসুস্থ বানিয়ে যতটা না চিকিৎসা নিয়ে ভাবছে তার চেয়ে বেশি রাজনীতি করছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়েছে আদালত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মামলায় তিনি বিচারাধীন আছেন। তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য টেলিভিশনের পর্দায় যারা আবেদন করেছেন, তারা উপযুক্ত কারণ ও যুক্তিসহ স্বরাষ্ট্র-মন্ত্রণালয়ে প্যারোলের কোন লিখিত আবেদন করেননি। আর উপযুক্ত কারণ ও যুক্তিযুক্ত আবেদন ছাড়া স্বরাষ্ট্র-মন্ত্রীও প্যারোল বিবেচনা করতে পারে না। তিনি বলেন, মামলাটি রাজনৈতিক মামলা হলে তার মুক্তি নিয়ে সরকার বিবেচনা করতে পারত। কিন্তু তার এ মামলাটি দুর্নীতির মামলা। তাকে এ মামলা থেকে মুক্তি দেয়ার এখতিয়ার আছে একমাত্র আদালতের।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এস এম ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ধর্ম-প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি ও এস এম কামাল হোসেন, খুলনা মহনগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডি বাবুল রানা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান, সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী ও আনিচুর রহমান, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, পৌর-মেয়র শেখ আহম্মেদ হোসেন মীর্জা প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার খায়ের।

সম্মেলনের শেষের দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের টুঙ্গিপাড়ার উপজেলা ও পৌর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন। আবুল বশার খায়েরকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাবুল শেখকে সাধারণ সম্পাদক এবং সাইফুল ইসলামকে টুঙ্গিপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ফোরকান বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে দুপুর পৌনে ১২টায় তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন। এসময় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০

১৪/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: