২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

চাই পরিকল্পিত উন্নয়ন

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০২০
  • মামুন খান

বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় প্র্র্রতিবারেই প্র্র্রথম কাতারে জায়গা করে নেয় আমাদের প্র্র্রাণের শহর ঢাকা। তীব্র যানজট আর ধুলাবালির রাজ্যে প্রাণ ভরে নিশ্বাস নেয়ার জায়গাটুকু খুঁজে প্র্রাওয়া দুষ্কর। এতকিছুর মাঝে যখন অপরিকল্পিত উন্নয়নের তা-ব, তখন স্বস্তির নিশ্বাস নেয়ার কোন সুযোগ নেই। বর্তমানে ঢাকার সড়কের বড় একটি সমস্যা হলো যত্রতত্র এবং যখন তখন রাস্তা খনন করা। একটি নির্দিষ্ট রাস্তা বছরে একাধিকবার খনন করার দৃষ্টান্তও খুব কম নেই, রেহাই মেলে না বর্ষাকালেও। আজ ওভার ব্রিজের জন্য খনন করলে কাল মেট্রোরেলের জন্য পরের দিন আবার যন্ত্রপাতি নিয়ে হাজির হয় অন্য কোন সংস্থা। খনন কাজ শেষ করে অনেকক্ষেত্রেই তারা উচ্ছিষ্ট ময়লা-আবর্জনা রাস্তার প্র্রাশেই রেখে দেয় যা দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি দূষিত করছে বায়ুম-লকে। দুঃখের কথা হলো এত খোঁড়াখুঁড়ির মাঝে তারা সড়ক খননের সুনির্দিষ্ট যে কয়েকটি নীতিমালা রয়েছে তা ভাববার সময়েই পায় না। অতীতে সড়ক খননের জন্য যে কয়েকটি নীতিমালা করা হয়েছিল তার প্রায় সবই কিছু সাদৃশ্য রয়েছে, যেমন : দিনের বেলায় এবং বর্ষার মৌসুমে রাস্তা খনন করা যাবে না।

কোথাও রাস্তা খনন করতে চাইলে অনুমতি নিতে হবে এবং কমপক্ষে ৭ দিন আগে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে জানিয়ে দিতে হবে। কাজ শুরুর এবং শেষের তারিখ দিয়ে টানাতে হবে সাইন বোর্ড। কাজ শেষে রাস্তাকে পূর্বের ন্যায় ঝকঝকে করে রাখতে হবে। একবার খননের কমপক্ষে তিন বছর পরে আবার খনন করতে পারবে। জরুরী কারণ ছাড়া এই নীতিমালার বিরুদ্ধে কাজ করলে গুনতে হবে বিশাল অঙ্কের জরিমানা।

এসব নীতিমালা দেখে মনে কিছু প্রশ্ন জাগতেই পারে, সড়ক খননের জন্য যে কিছু নীতিমালা রয়েছে তা নগর পিতাদের স্মৃতিতে রয়েছে তো? যদি তাদের মনে থাকে তবে কেন এর বাস্তবায়ন হচ্ছে না! নাকি তারা কোটি মানুষের ভোগান্তি দেখে সুখ উপভোগ করে! নাকি তারা জনগণের কাজে নিযুক্ত হয়ে অন্য কারও উদ্দেশ্যে বাস্তবায়নে ব্যস্ত? গ্রামে একটি প্রবাদ খুব শুনতে পাওয়া যায় ‘নিজের ভালা পাগলেও বোঝে।’ কিন্তু আমরা বাঙালীরা কী নিজেদের ভাল বুঝি? অপরিকল্পিত রাস্তা খনন কিংবা অন্য কোন কাজের জন্য যে কত কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে দেশের তা কি হিসাব করি? প্র্রতিষ্ঠানগুলো যৌথ ভাবে কাজ করলে একাধারে যেমন অর্থ সাশ্রয় হয় অন্যদিকে হ্রাস প্র্রায় জনভোগান্তি। তবে একেই জায়গায় কেন তারা একসঙ্গে কাজ করতে পারছে না? অভাব কি ঐক্যের, পরিকল্পনার নাকি নতুন বরাদ্দের আশা তাদের চেতনাকে বধ করে! শহর বাঁচাতে হলে এখন সবচেয়ে বেশি দরকার পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং প্রত্যেকটি নীতিমালার যথাযথ প্র্রয়োগ। এক্ষেত্রে জনসচেতনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্র্রালন করতে পারে, প্রত্যেকটি কাজে তাদের আরও বেশি সোচ্চার হতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থকে উপেক্ষা করে সমাজের বৃহৎ অংশের জন্য কাজ করবে নগর পিতারা সেই প্রত্যাশাই আমাদের।

সূর্যসেন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০২০

২৩/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: