২৮ জানুয়ারী ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

ভিসিদের দায়-দায়িত্ব

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০২০

পুরান ঢাকার দেড় শ’ বছরের ঐতিহ্য ধারণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আবারও ভিসিদের দায়-দায়িত্ব, কর্তব্যনিষ্ঠা ও নীতি-নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নতুন করে বলার অবকাশ নেই, যে কোন দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো উন্নতমানের শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি নীতি-নৈতিকতা, চরিত্র ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ পীঠস্থান। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের প্রায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই সেই গুণমান অর্জন করতে পারেনি। এমনকি অর্জন করার ন্যূনতম চেষ্টাও করছে না। তদুপরি কতিপয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরসহ একশ্রেণীর শিক্ষক-শিক্ষিকা জড়িয়ে পড়েছেন নীতি-আদর্শহীন অনিয়ম-দুর্নীতিতে, অব্যবস্থাপনা ও দুর্বৃত্তপনা এমনকি অপরাজনীতিতে। একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে চারিত্রিক অসততাসহ অনৈতিক কর্মকা-ের প্রামাণিক অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি সর্বোচ্চমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, যা জাতিকে ফেলে দিয়েছে লজ্জায়। এতে অভিযুক্ত হয়েছে সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট দল ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী, যারা আবরারের সহপাঠী ও রুমমেট। তথাকথিত র‌্যাগিংয়ের নামে সংঘটিত এই মর্মান্তিক হত্যাকা-ের দায় বুয়েটের ভিসিসহ একশ্রেণীর শিক্ষক কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। প্রায় অনুরূপ অবস্থা লক্ষ্য করা যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রায় সর্বত্রই পরিলক্ষিত হয় ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়ম উন্নয়ন কার্যক্রমকে উপলক্ষ করে। শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়ার প্রতি অনীহা, সান্ধ্যকালীন কোর্সের প্রতি অতি আগ্রহ, অন্যত্র পাঠদানের প্রবণতা, ছাত্রীদের প্রতি দুর্বলতা ইত্যাদি। এসব প্রেক্ষাপটেই রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী।

মনে রাখতে হবে যে, শিক্ষার্থীরা লাশ কিংবা বহিষ্কার হতে আসেন না ক্যাম্পাসে। এর বাইরেও রাষ্ট্রপতি বলেছেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দিনে সরকারী এবং রাতে বেসরকারী হয়ে যায়Ñ এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। অনেক শিক্ষকই নিয়মিত ক্লাস নেয়া ও পরীক্ষা গ্রহণে অনিচ্ছুক। অথচ রাতেরবেলা তারা ইভিনিং কোর্স নিতে খুবই আগ্রহী। কেননা সেখানে নগদ উপার্জন হয়। এতে শিক্ষার্থীদের কতটা জ্ঞানার্জন হয় তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও পকেট ভারি হয় একশ্রেণীর শিক্ষকের। প্রতিবছর ভর্তি বাণিজ্যের বিষয়টিও প্রকট। ভিসিরাও এ বিষয়ে অবহিত নিশ্চয়ই। এর বাইরেও ইদানীং বেশ কয়েক ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা তদন্তাধীন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের। শিক্ষকম-লী ও শিক্ষার্থীদের দলীয় রাজনীতি, পারস্পরিক কোন্দল, অন্তর্কলহ, নীতিনৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। বেশ কয়েক শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগও উঠেছে। এতে প্রতিনিয়ত অধঃপতিত হচ্ছে শিক্ষার মান, যা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রতি প্রায় বিমুখ করে তুলছে।

এশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পায়নি বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়। সারাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ বুয়েট, ঢাবি, জাবি, চবি, রাবি, শাবিসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। নানা অস্থিরতার কারণে অতীতের গৌরব ধরে রাখতে পারছে না প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। অস্থির রাজনীতির কালো ছায়া পড়েছে দেশের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষক রাজনীতিও নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে শিক্ষাবিরুদ্ধ এমন সব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। এই প্রেক্ষাপটে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করতে হবে জবি সমাবর্তনে উপস্থাপিত রাষ্ট্রপতির বক্তব্যকে।

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০২০

১৪/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: