২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

পূর্ণতা পায় স্বাধীনতা

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী ২০২০
  • অধ্যাপক (ডাঃ) কামরুল হাসান খান

‘দূরদৃষ্টি দিয়ে শেখ মুজিব বুঝতে পেরেছিলেন যে জয় যেদিন নিশ্চিত আসবে, সেদিন বন্ধ দরোজা খুলে মেশিনগান হাতে একই সঙ্গে মৃত্যুদূতও এসে দাঁড়াবে। বিজয় এবং মৃত্যু একই সঙ্গে ঘটবে- একটির কারণ হিসাবে অন্যটি ঘটবে বটে। কিন্তু মুজিব স্বাধীনতার বিনিময়ে মৃত্যুকে নিজের জন্য খুব কমই মনে করলেন। তাঁর জীবন যদি স্বাধীনতার কারণে যায়, তিনি গর্ব অনুভব করবেন (গ্রন্থ ম্যাসাকার : লেখক মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন)

১৯৭১-এর ডিসেম্বরের ২য় সপ্তাহ থেকে হানাদার পাক বাহিনী পিছু হটতে থাকে। একের পর এক মুক্ত হতে থাকে বাংলার ভূখ-। যশোর ও সিলেট মুক্ত হয় ৭ ডিসেম্বর। ১৪ ডিসেম্বর একমাত্র ঢাকা শহর এবং গুটিকয় ছোট এলাকা বাদে সারা বাংলাদেশ তখন শত্রুমুক্ত। তখন ঢাকায় মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ এড়ানোর জন্য পাকিস্তান বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। মার্কিন সপ্তম নৌবহর আগমনের সংবাদে পাক বাহিনী কিছুটা উৎসাহ বোধ করে। আত্মসমর্পণে টালবাহানা করতে থাকে। একই সময়ে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েতের ২০তম নৌবহর মার্কিন ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়। বেতার ও টিভিতে জেনারেল মানেকশ’র ঘন ঘন আত্মসমর্পণের আহ্বানে পাকিস্তানী সৈন্য ও অফিসার আতঙ্কগ্রস্ত হয়।

১৫ ডিসেম্বর অপরাহ্নে নিয়াজীর যুদ্ধবিরতির বার্তা দিল্লীতে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ এই প্রস্তাবের অন্তর্গত নয়। প্রস্তাবের মূল বিষয় ছিল, যুদ্ধবিরতির পর অস্ত্রশস্ত্র সমেত পাকিস্তানী বাহিনীর নিরাপত্তা বিধান করা। জেনারেল মানেকশ পাকিস্তানী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিয়াজীর কাছে দাবি করেন, যৌথ বাহিনীর কাছে পাক বাহিনীর শর্তহীন আত্মসমর্পণই যুদ্ধ বিরতি ঘোষণার একমাত্র ভিত্তি হতে পারে। নিয়াজির অনুরোধে ১৫ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত সকল প্রকার আক্রমণ স্থগিত রাখা হয়। পরদিন সকালে আক্রমণ বিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছু আগে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী জাতিসংঘের প্রতিনিধি জন কেলির মাধ্যমে যুদ্ধ বিরতির সময়সীমা আরও ছয় ঘণ্টা বৃদ্ধি করার অনুরোধ জানায়। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। ঐতিহাসিক রেসকোর্সের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের) যে স্থানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ স্বাধীনতার আহ্বান জানিয়েছিলেন, সেই স্থানে ১৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটা ৩১মিনিটে বিশাল হর্ষোৎফুল্ল জনতার উপস্থিতিতে ভারত- বাংলাদেশ যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান বাহিনীর সমর নায়ক লে. জেনারেল এ কে নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করেন।

সর্বত্র আনন্দের প্লাবন বইতে শুরু করে। উপচে- পড়া উচ্ছলতার মাঝেও বঙ্গবন্ধুর শূন্যতা গভীরভাবে অনৃভূত হয় সবার মাঝে। বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশ অসম্পূর্ণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অপূর্ণ। দেশের সর্বস্তরের মানুষ জীবিত বঙ্গবন্ধুকে ফিরে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব। সবাই নানাভাবে নামাজÑরোজাÑদোয়া করতে থাকল। মুক্তিযোদ্ধারা এতটাই আবেগাপ্লুত ছিল যে, তাঁরা ঘোষণা দিয়েছিল প্রয়োজনে পাকিস্তানের সীমান্তে গিয়ে যুদ্ধ করে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করে আনবে।

ইতিহাসের সেই আকাক্সিক্ষত মাহেন্দ্রক্ষণে নিয়াজী যখন ঢাকার রেসকোর্সে আত্মসমর্পণ করছে, ঠিক সেই সময়টিতেই দূরে বহুদূরে লায়ালপুরের মৃত্যু কুঠরীতে এই সংগ্রামের মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান পাথরের মেঝেতে অপেক্ষা করছেন ইতিহাসের পরবর্তী ঘটনার জন্য। তাঁকে অভিযুক্ত করে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছিল। সমস্ত ব্যাপারটি তখন ছিল প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়ার হাতের ওপর। তাকে কখন মৃত্যুদ- দেয়া হবে, কোন পদ্ধতিতেই বা তা কার্যকর করা হবে, সব কিছুই নির্ভর করছিল তার ওপর। বিচারের সিদ্ধান্ত আসার আগেই বঙ্গবন্ধু ধরে নিয়েছিলেন যে, মৃত্যু তার অবধারিত। বিচারের পর তিনি প্রতিদিনই ভাবতেন ‘আজ নিশ্চয়ই আমার শেষ দিন’। তাঁর পক্ষে আপীল করবার কেউ ছিল না, মামলাটি পুনর্বিবেচনা করবার কথাও কেউ বলতে পারেনি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাঁর প্রত্যয় হারাননি। ক্ষমতা তো তিনি চাননি, প্রত্যাশাও করেননি।

পৃথিবীর প্রায় সব দেশ থেকেই শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য চাপও আবেদন আসছিল। জাতিসংঘের মহাসচিব, ইউরোপের প্রায় অর্ধেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, এমনকি আন্তর্জাতিক আইনজীবী সমিতিও ইসলামাবাদের কাছে শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য আবেদন জানালেন। অনেক মুসলিম দেশের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নও শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছ অনুরোধ জানালেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন বলেছিল যে, শেখ মুজিবের যদি কিছু ঘটে যায়, তাহলে তার সমস্ত দায়ভাগই পাকিস্তানকে গ্রহণ করতে হবে। এবং তার ফল কখনও ভাল হবে না।

ভুট্টো চাইছিলেন যে, শেখ মুজিব নিশ্চয়ই একটা পর্যায়ে এসে পাকিস্তানের একত্রীকরণের জন্য একটা চুক্তি করবেন। সঙ্গে সঙ্গে ভুট্টো আরও বেশ কটা ফাঁদ পেতেছিলেন শেখ মুজিবের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে। অপেক্ষায় ছিলেন যে, শেখ মুজিব নিশ্চয়ই কোন না কোন ফাঁদে পা দেবেন। এত কিছু করেও ভুট্টো যখন দেখলেন শেখ মুজিবের কাছ থেকে কোন চুক্তি না, তার ওপর তিনি যেন দিন দিন দৃপ্ততায় আরও ঋজু হয়ে উঠছেন। ভুট্টো বুঝতে পারলেন, শেখ মুজিবকে আটকে রাখা বৃথা। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের দায়ভাগ তিনি নিজের ঘাড়ে নিতে রাজি হলেন না। সামরিক আদালতে মৃত্যুন্ডাজ্ঞা পাওয়া শেখ মুজিবকে যদি মুক্তি দিতেই হয়, তাহলে তা জনগণই দিক। জনগণের এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো করাচীতে। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, ভুট্টোর সমর্থক আর পিপলস গার্ডের সদস্যসহ সমাবেশ একেবারে টইটম্বুর ছিল। জীবনের সম্ভবত সবচাইতে আবেগময় ভাষণে তিনি বললেন, পাকিস্তানের জন্য কতটা ক্ষতি বয়ে নিয়ে এসেছেন শেখ মুজিব। তারপর তিনি শেখ মুজিবকে নিয়ে তার সিদ্ধান্তটি কৌশলে হাজির করলেন জনগণের সামনেÑ তারপরও শেখ মুজিবকে কি আমরা মুক্তি দেব? লাখ লাখ মানুষ বলে উঠল, শেখ মুজিবকে মুক্তি দাও, মুক্তি দাও। প্রতিদিনই ভুট্টোর টেবিলে প্রচুর টেলিগ্রাম এসে হাজির হতে লাগল। শেখ মুজিবের মুক্তিই ছিল মূল কথা।

রেসকোর্সে আত্মসমর্পণ করবার একুশ দিন পেরিয়ে গেলে অবশেষে ভুট্টো শেখ মুজিবকে ছেড়ে দেয়ার অনুমতি দিলেন। শেষ মুহূর্তেও ইরান বা তুরস্কে অন্য একটি বৈঠকের প্রস্তাব দিলেন ভুট্টো। একের পর এক কৌশলের চাল দিতে লাগলেন ভুট্টো। কিন্তু শেখ মুজিবের ঋজুতাকে কোনক্রমেই ভাঙতে পারেনি।

অবশেষে ৭ জানুয়ারি ১৯৭২-এর সন্ধ্যায় শেখ মুজিবকে জানানো হলো যে, তাঁর জন্য ইসলামাবাদ এয়ারপোর্টে চার্টার করা বিমান অপেক্ষা করে রয়েছে। ভুট্টো তার চেষ্টা তখনও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শেখ মুজিবের সঙ্গে একই গাড়িতে করে তিনি এয়ারপোর্ট এসেছিলেন।

শেষ মুহূর্ত অবধি শেখ মুজিব জানতেন যে, তিনি ঢাকার দিকে যাচ্ছেন। ভুট্টো জানালেন ‘না, আমরা আপনাকে লন্ডন নিয়ে যাচ্ছি। কেন? শেখ মুজিবের তীব্র প্রশ্ন। উত্তর এলো, সেটা আমার ইচ্ছে।

শেখ মুজিব আর কিছু বললেন না। তিনি বুঝতে পারছিলেন যে, এখনও তিনি বন্দী। বিমান থেকে নামবার আগে, বলা যায় নিশ্চিত মুক্ত অবস্থায় না এলে কিছুই নিশ্চিত করে জানা যাবে না। ৮ জানুয়ারি অন্ধকারের পেট চিরে বেরিয়ে আসছে সোনা রঙের ভোর। এ রকম একটা সময়ে বঙ্গবন্ধুকে বয়ে আনা চার্টার করা বিমানটি হিথরো এয়ারপোর্টের মাটি ছুঁলো। ভোর তখন ৬:৩৬ মিনিট স্থানীয় সময়।

লন্ডনে অনেক আনুষ্ঠানিকতা শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর রাজকীয় কমেট বিমানে ৯ জানুয়ারি সকালে বঙ্গবন্ধু দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন। পথে তেল নেয়ার জন্য সাইপ্রাসে যাত্রা বিরতি ঘটেছিল। ১০ জানুয়ারি সকালে বঙ্গবন্ধু দিল্লীর পালাম বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। দিল্লীতে বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত যাত্রা-বিরতিতে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা এবং রাষ্ট্রপতি ভবনে সৌজন্য কথাবার্তার পর ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানেই তিনি যাত্রা করেছিলেন ঢাকার উদ্দেশে। ব্রিটিশ কমেট বিমানটি তেজগাঁ বিমান বন্দর স্পর্শ করে বিকেল ৩টায়। তেজগাঁ বিমান বন্দর থেকে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ বাঙালীর ভালবাসা আর স্নেহের পরশ ভেদ করে পৌঁছাতে তার সময় লেগেছিল আড়াই ঘণ্টা। রেসকোর্সে লাখো জনতার মাঝ থেকে বঙ্গবন্ধুর পরিবারবর্গের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সন্ধ্যে পৌনে ছ’টায় পৌঁছেন। এত দীর্ঘ পথযাত্রা, দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা, জনসভা, আবেগ-উচ্ছ্বাস-কান্নার বিনিময়ের পর ১১ জানুয়ারি থেকে বঙ্গবন্ধু সকল ক্লান্তি-ভাবাবেগ উপেক্ষা করে এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে দেশ পরিচালনা শুরু করেন। সেদিনই মন্ত্রিসভার সঙ্গে দু’দফা বৈঠক করেন এবং বৈঠকে সংবিধান প্রণয়নসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু অস্থায়ী সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে হাজার বছরের বাঙালীর আকাক্সক্ষার স্বাধীনতা পূর্ণতা পেল। মৃত্যুদ-াদেশ পেয়ে শত্রু পরিবেষ্টিত হয়ে শত্রুর ঘরে নির্ভয়, দৃঢ়তা, আপোসহীনতা এবং সাহসের উদাহরণ বিশ্বের ইতিহাসে একমাত্র দৃষ্টান্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১০ জানুয়ারি ২০২০, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ‘মুজিব বর্ষ’-এর ক্ষণগণনার উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে শুরু মুজিববর্ষ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী সামনে রেখে। ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ১৭ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত ‘মুজিব বর্ষ’ উদ্যাপন উপলক্ষে দেশেÑবিদেশে সরকার, রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানামুখী কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। মূল লক্ষ্য-১. নতুন প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম তুলে ধরা ২. ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলতে উন্নয়ন কর্মকা- এবং ৩. সেবা ত্বরান্বিত করা ও নতুন মাত্রা সংযোজন। দেশে তৃণমূল থেকে শহর-বন্দর-নগর সর্বত্রই এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে প্রায় তিনশ’ কর্মসুচী গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশের সাধারণ মানুষের আকাক্সক্ষা, মুজিববর্ষের মধ্য দিয়ে মুজিব আদর্শ ও মুজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল এদেশকে সোনার বাংলা গড়ার। তিনি বার বার বলেছেন, সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিজের মধ্যে ধারণ ও চর্চা না করলে সোনার মানুষ তো পাওয়া যাবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মানে সর্বোচ্চ ত্যাগ, নির্লোভ, সততা, গভীর দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ, মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দৃঢ়তা, আত্মমর্যাদা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোসহীন প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ। আজকে বিশ্বব্যাপী এক ধরনের সামাজিক অস্থিরতা ও নেতিবাচক সংস্কৃতি বয়ে চলেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তাই, মুজিব বর্ষে সত্যিই যদি আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করি, আমাদের দেশকে ভালবাসি এবং আমাদের প্রাণের আগামী প্রজন্মের মঙ্গল চাই-তাহলে মুজিবের আদর্শের পথে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। যে সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে, তাকে সুস্থ বলা কঠিন। এ বর্ষকে ধরেই আমাদের সর্বস্তরে, সর্বক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে মুজিবের স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য। আদর্শ বাস্তবায়ন কেবল মুখের কথা নয়, একে ধারণ করতে হয়, চর্চার মধ্য দিয়ে নিজেকে, সমাজকে সমৃদ্ধি করতে হয়।

আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় শোকের মাসে স্লোগান নিয়েছিলাম ‘রোগীর সেবায় হই আরও যতœবান’। প্রতি বছরের শোকের মাসে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে এ স্লোগানটি সামনে রেখে মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচী গ্রহণ করতাম। কোন বছর চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ক উন্নয়ন, কোন বছর নার্সিং সেবার উন্নয়ন, রোগীর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলার চর্চা এরকম নানাবিধ। এতে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। আমরা যদি এভাবে প্রতিটি অফিস-আদালতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বাসে, রেলেÑ সকল ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় যুক্ত করে চর্চার মধ্যে নিয়ে আসি, তাহলে সেবার মান অনেক উন্নত হবে।

বঙ্গবন্ধুুকন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে দেশ বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল। দেশের সকল ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নয়নের ছোঁয়া। দেশ আজ উন্নত আধুনিক রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে চলেছে। আমাদের প্রত্যেক নাগরিকের বঙ্গবন্ধু কন্যাকে সহযোগিতা করা উচিত যার যার অবস্থান থেকে স্ব স্ব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মুজিববর্ষ’ পালনের মধ্য দিয়ে আমরা রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিবর্তন আনতে চাই।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ ও ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাজনৈতিক জীবনে চর্চার মাধ্যমে আমরা দেশে সুশাসন বাস্তবায়ন করতে চাই, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে চাই, নারীর প্রতি সহিংসা পরিহার করে নিরাপদ সমাজ গড়তে চাই। তবেই হবে মুজিববর্ষ পালন সফল এবং সার্থক। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চার করবে মুজিব বর্ষ।’ এ জীবন শক্তিতেই বাঙালী এবং বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে উন্নত বাংলাদেশে।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী ২০২০

১২/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: